Big Bang Theory


মহা বিস্ফোরণ
তত্ত্ব (Big bang theory থেকে পুনর্নির্দেশিত)মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব
অনুসারে মহাবিশ্ব
একটি অতি ঘন
বিন্দুবৎ অবস্থা
থেকে উৎপত্তি লাভ
করেছে। ভৌত বিশ্বতত্ত্বে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রদত্ত
একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। এই
তত্ত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য
হলো কোন ধারাবাহিক
প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি
বিশেষ মুহূর্তে মহাবিশ্বের উদ্ভব। এই তত্ত্ব বলে আজ
থেকে প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন
বছর পূর্বে এই মহাবিশ্ব
একটি অতি ঘন এবং উত্তপ্ত
অবস্থা থেকে সৃষ্টি
হয়েছিল। বিজ্ঞানী এডুইন হাবল প্রথম বলেন, দূরবর্তী ছায়াপথসমূহের বেগ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা
করলে দেখা যায় এরা পরষ্পর
দূরে সরে যাচ্ছে অর্থাৎ
মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত
হচ্ছে। আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের ফ্রিদমান-
ল্যমেত্র্-রবার্টসন-ওয়াকার
মেট্রিক অনুসারে এটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই
তত্ত্বসমূহের সাহায্যে অতীত
বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,
সমগ্র মহাবিশ্ব একটি
সুপ্রাচীন বিন্দু অবস্থা
থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। এই অবস্থায় সকল পদার্থ এবং
শক্তি অতি উত্তপ্ত এবং ঘন
অবস্থায় ছিল। কিন্তু এ
অবস্থার আগে কী ছিল তা
নিয়ে পদার্থবিজ্ঞানীদের
মধ্যে কোন ঐক্যমত্য নেই। অবশ্য সাধারণ আপেক্ষিকতা
এর আগের সময়ের ব্যাখ্যার
জন্য মহাকর্ষীয় অদ্বৈত বিন্দু (সিংগুলারিটি) নামক একটি শব্দের প্রস্তাব
করেছে। মহা বিস্ফোরণ শব্দটি স্থূল
অর্থে প্রাচীনতম একটি
বিন্দুর অতি শক্তিশালী
বিস্ফোরণকে বোঝায় যার
মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি
হয়েছিল, আবার অন্যদিকে এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে
মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও গঠন
নিয়ে বিশ্বতত্ত্বে যে মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে
তাকেও বোঝায়। এর
মাধ্যমেই মহাবিশ্বের
প্রাচীনতম বস্তুসমূহের গঠন
সম্পর্কে ব্যাখ্যা পাওয়া
যায়, যার জন্য মহা বিস্ফোরণ মতবাদের পরই আলফার-বেটে- গ্যামফ তত্ত্ব প্রণীত হয়েছে। মহা বিস্ফোরণের
একটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল
হল, বর্তমানে মহাবিশ্বের
অবস্থা অতীত এবং
ভবিষ্যতের অবস্থা থেকে
সম্পূর্ণ পৃথক। এই তত্ত্বের মাধ্যমেই ১৯৪৮ সালে জর্জ গ্যামফ অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি
বিকিরণের অস্তিত্ব রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে এটি আবিষ্কৃত হয় এবং স্থির অবস্থা তত্ত্বকে অনেকটাই বাতিল করে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বকে
প্রমাণ করতে সমর্থ হয়। ইতিহাস মূল নিবন্ধ: মহা বিস্ফোরণের ইতিহাস , আরও দেখুন: বিশ্বতত্ত্বের কালপঞ্জি মহাবিশ্বের গঠন এবং এর
সাথে তত্ত্বের সমন্বয়
সাধনের চেষ্টা থেকেই মহা
বিস্ফোরণ তত্ত্বের উৎপত্তি
হয়েছে। মহাকাশ
পর্যবেক্ষকরা দেখতে পান যে অধিকাংশ সর্পিল
নীহারিকা পৃথিবী থেকে
ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।
অবশ্য বিশ্বতাত্ত্বিক
দৃষ্টিকোণ থেকে এর ব্যাখ্যা
আরও পরে হয়েছে, বর্তমানে আমরা জানি, যে
নীহারিকাগুলো পর্যবেক্ষণ
করা হয়েছে, সেগুলো আসলে নীহারিকা নয়, বরং আমাদের আকাশগঙ্গার বাইরের ছায়াপথ ছিল [১]। বেলজিয়ামের একজন রোমান
ক্যাথলিক ধর্মপ্রচারক জর্জ ল্যমেত্র্ ১৯২৭ সালে প্রথম স্বাধীনভাবে আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণ থেকে ফ্রিদমান সমীকরণসমূহ উপপাদন করেন। আইনস্টাইন
সাধারণ আপেক্ষিকতার জন্য
এই ক্ষেত্র সমীকরণগুলোর
গোড়াপত্তন করেছিলেন।
ফ্রিদমান সমীকরণ
উপপাদনের পর সর্পিল নীহারিকার ক্রম
পশ্চাদপসারণের উপর ভিত্তি
করে ল্যমেত্র প্রস্তাব করেন,
মহাবিশ্ব একটি সুপ্রাচীন পরমাণু থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, যে প্রস্তাব
বর্তমানে মহা বিস্ফোরণ নামে পরিচিত। [২] এর দুই বছর পর এডুইন হাবল ল্যমেত্রর তত্ত্বের সপক্ষে
একটি পর্যবেক্ষণমূলক প্রমাণ
উপস্থাপন করেন। তিনি
আবিষ্কার করেন যে, পৃথিবী
থেকে দৃশ্যমান ছায়াপথসমূহ
থেকে নিঃসৃত আলোর লোহিত অপসারণ হচ্ছে এবং এই অপসারণ পৃথিবী থেকে
তাদের দূরত্বের
সমানুপাতিক। অর্থাৎ একটি
ছায়াপথ পৃথিবী থেকে যত
দূরে তা থেকে নিঃসৃত আলোর
বর্ণালী ততোই লাল তথা দীর্ঘ্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দিকে
সরে যাচ্ছে। এই ঘটনাটি
বর্তমানে হাবলের নীতি নামে পরিচিত। [৩][৪] বিশ্বতাত্ত্বিক নীতি অনুসারে মহাবিশ্বকে যখন
যথেষ্ট বৃহৎ স্কেলের
দূরত্বের সাপেক্ষে দেখা হয়
তখন এর কোন নির্দিষ্ট বা
বিশিষ্ট দিক ও স্থান পাওয়া
যায় না। এই নীতিকে সত্য মেনেই হাবল প্রমাণ
করেছিলেন যে মহাবিশ্ব
সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু
এই তত্ত্ব স্বয়ং আইনস্টাইন
কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত অসীম এবং
অপরিবর্তনীয় বিশ্বের তত্ত্বের সম্পূর্ণ বিরোধী। [৫] ডব্লিউম্যাপ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ মহা
বিস্ফোরণ বোঝার
জন্য তথ্য সংগ্রহ
করছে – শিল্পীর
তুলিতে আঁকা ছবি দুইটি স্বতন্ত্র সম্ভাবনা
রয়েছে। একটি ফ্রেড হয়েলের স্থির অবস্থা নকশা , যা অনুসারে মহাবিশ্ব যখন
সম্প্রসারিত হতে শুরু করে
তখন এখানে নতুন পদার্থ
সৃষ্টি হতে পারে। এই নকশা
অনুসারে সময়ের যে কোন
বিন্দুতে মহাবিশ্ব একইরকম থাকে। [৬] অন্যটি হল ল্যমেত্র্র মহা বিস্ফোরণ
তত্ত্ব যা মূলত জর্জ গ্যামফ কর্তৃক পূর্ণতা লাভ করেছে।
ল্যমেত্র্র এই তত্ত্বটির নাম
কিন্তু হয়েলই দিয়েছিলেন।
হয়েল ১৯৪৯ সালের ২৮শে মার্চ বিবিসিতে প্রচারিত থার্ড প্রোগ্রাম নামক অনুষ্ঠানে অনেকটাই শ্লেষের
বশে ল্যমেত্র্র এই
তত্ত্বটিকে “বিগ ব্যাং” বলে
আখ্যায়িত করেন যার দ্বারা
একটি বিশাল গণ্ডগোলই
বুঝায়। এর পরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে এই নামটি
ব্যবহার করতে দেখা যায়।
বিশেষত ১৯৫০ সালে “বস্তুর ধর্মের” উপর প্রদত্ত পাঁচটি
গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতায় ল্যমেত্র্র
তত্ত্বকে বোঝানোর জন্য
তিনি এই নাম ব্যবহার
করেন। বক্তৃতা প্রচারিত
হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এর প্রতিটি দ্য লিসেনার পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
এই পত্রিকাতেই “বিগ ব্যাং”
নামটি প্রথম ছাপার অক্ষরে ব্যবহৃত হয়।[৭] হয়েল এবং ল্যমেত্র্ কর্তৃক প্রস্তাবিত
এই দুটি নকশা ছাড়াও
মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে
বেশ কিছু নকশা প্রস্তাব করা
হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মাইন নকশা (Milne model)[৮], রিচার্ড টলম্যান কর্তৃক প্রস্তাবিত কম্পনশীল মহাবিশ্ব [৯] এবং ফ্রিৎস জুইকি প্রস্তাবিত দুর্বল আলো প্রকল্প।[১০] কিছু সময়ের জন্য স্থির
অবস্থা এবং মহা বিস্ফোরণ
দুইটি তত্ত্বেরই যথেষ্ট
গ্রহণযোগ্যতা ছিল বিধায়
বিতর্কেরও অবকাশ ছিল
প্রচুর। কিন্তু সময়ের আবর্তে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ
পর্যবেক্ষণ সাধিত হয় যার
অধিকাংশই প্রথমটির বদলে
দ্বিতীয় তত্ত্বের
গ্রহণযোগ্যতার সাক্ষ্য দেয়। ১৯৬৪ সালে মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ আবিষ্কৃত হওয়ার পর মহা
বিস্ফোরণ তত্ত্ব মহাবিশ্বের
উৎপত্তি ও বিবর্তন
ব্যাখ্যার জন্য সবচেয়ে
উপযোগী তত্ত্ব হিসেবে
গৃহীত হয়। আধুনিককালে বিশ্বতাত্ত্বিক গবেষণার
অন্যতম একটি বিষয়ই হচ্ছে
মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বের
আলোকে ছায়াপথসমূহের সৃষ্টি ও বিবর্তন প্রক্রিয়া
উদ্ঘাটন করা। এছাড়াও ঠিক
কি কারণে এবং কিভাবে মহা
বিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিলো
তা বিশ্বতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ
থেকে বিচার করা হয়। মহা বিস্ফোরণের মূল তত্ত্বের
সাথে বাস্তব পর্যবেক্ষণের
সমন্বয় সাধনের উপরই
বর্তমান বিশ্বতত্ত্বের
অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর
করছে। ১৯৯০-এর দশক থেকে মহা বিস্ফোরণ সংশ্লিষ্ট
গবেষণা অনেক সহজ হয়ে
দাড়িয়েছে। অতি উচ্চ
ক্ষমতাবিশিষ্ট দূরবীক্ষণ যন্ত্র এবং এর সঠিক কার্যকারিতা একে সম্ভব
করে তুলেছে। বর্তমানে
মানুষের রয়েছে কোবে , হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং ডব্লিউম্যাপ ‘র মত উচ্চ ক্ষমতার দুরবীন । ফলে বর্তমান বিশ্বতত্ত্ববিদর
অনেক সহজে মহা
বিস্ফোরণের বিভিন্ন রাশি
পরিমাপ করতে পারে। এর
ফলে একটি অপ্রত্যাশিত
আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে; আর তা হলো সম্প্রসারণশীল
মহাবিশ্বের ত্বরমান হওয়ার
প্রমাণ (দেখুন: গুপ্ত শক্তি )। সাধারণ আলোচনা আরও দেখুন: মহা বিস্ফোরণের কালপঞ্জি তিনটি পরিমাপের উপর
ভিত্তি করে মহাবিশ্বের যে
বয়স পাওয়া গেছে তা হল
প্রায় ১৩.৭ ± ০.২ বিলিয়ন বছর। এই পরিমাপ তিনটি হচ্ছে: প্রথম ধরণের অতি নব তারা ব্যবহার করে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের
পরিমাপ, মহাজাগতিক ক্ষুদ্র তরঙ্গ পটভূমিতে তাপমাত্রার উঠানামার পরিমাপ এবং
ছায়াপথসমূহের কোরিলেশন ফাংশন পরিমাপ। এই তিনটি পরিমাপ স্বাধীনভাবে করা
হয়েছে এবং তিনটি
পরিমাপই তথাকথিত ল্যাম্ব্ডা-সিডিএম নকশাকে গভীরভাবে সমর্থন করেছে।
এই নকশা মহাবিশ্বের
অভ্যন্তরস্থ সবকিছুর সুন্দর
বর্ণনা দিতে সক্ষম। সৃষ্টির প্রাথমিককালে
মহাবিশ্ব সুষম এবং
সমতাপীয় রূপে একটিই অতি
উচ্চ শক্তি ঘনত্ব এবং উচ্চ
তাপমাত্রা ও চাপবিশিষ্ট
পদার্থ দ্বারা পূর্ণ ছিল। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১০ −৪৩ সেকেন্ড পর
পদার্থবিজ্ঞানেরসূত্রগুলো
কার্যকারিতা লাভ করে।
তাই এই সময়কে প্ল্যাংকের সময় বলা হয়। প্ল্যাংকের সময়ের প্রায় ১০ −৩৫ সেকেন্ড পর একটি দশা পরিবর্তন তথা
অবস্থান্তর অবস্থার সূচনা
ঘটে যার ফলে মহাজাগতিক স্ফীতি শুরু হয়। এই সময় মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে
শুরু করে। এ সময় থেকে মূলত
মহাবিশ্বের exponential
সম্প্রসারণ শুরু হয়। মহাজাগতিক স্ফীতি বন্ধ
হয়ে যাওয়ার পর মহাবিশ্বে কোয়ার্ক-গ্লুওনপ্লাসমা নামক পদার্থ ছিল।
বর্তমানে সম্ভবত এই
ধরণেরই একটি পদার্থ
বিজ্ঞানী প্রস্তুত করেছেন
যা কোয়ার্ক গ্লুওন তরল
হিসেবে পরিচিত। এই তরলের মধ্যস্থিত সকল
উপাদান একে অপরের
সাপেক্ষে চলমান — এ তরলের
মধ্যকার সকল মৌলিক
কণিকাও এভাবে তরলের মধ্যে চলমান থাকে। [১১] স্থান-কালের কোন একটি
বিন্দুতে এই পদার্থের মধ্যে
একটি বিক্রিয়া ঘটে যার
স্বরূপ এখন পর্যন্ত মানুষের
পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি। এই
বিক্রিয়ার ফলে বেরিয়ন সংখ্যার সংরক্ষণ নীতি লংঘিত হয় এবং কোয়ার্ক ও লেপ্টন কণিকার পরিমাণ এদের প্রতিকণিকার চেয়ে
সামান্য বেড়ে যায়। অর্থাৎ
প্রতি-কোয়ার্ক এবং প্রতি-
লেপ্টনের চেয়ে কোয়ার্ক
এবং লেপ্টনের পরিমাণ
সামান্য বৃদ্ধি পায়। এর হার ছিল প্রতি ১০ ১০ ভাগের এক ভাগ। এই প্রক্রিয়াকে বেরিওজেনেসিস বলা হয়। মহাবিশ্বের আয়তন যত বৃদ্ধি
পেতে থাকে ততই এর
তাপমাত্রা কমতে থাকে।
তাপমাত্রা হ্রাসের সময়ই
কোন এক পর্যায়ে দশার
অবস্থান্তর অবস্থা সৃষ্টি হয় যার ফলে শুরু হয় প্রতিসাম্য ভাঙন । এই ভাঙনের কারণে পদার্থবিজ্ঞানেরআলোচ্য
মৌলিক বলসমূহ পৃথক পৃথক
স্বাধীন অস্তিত্ব লাভ করে।
এ সময়ই মৌলিক কণিকাসমূহ সৃষ্টি হয় যা এখনও সেই আদি
অবস্থাতেই রয়েছে। কোয়ার্ক এবং গ্লুওন একত্রিত হয়ে বেরিয়ন , যেমন প্রোটন এবং নিউট্রন তৈরি করে। কোয়ার্কের পরিমাণ প্রতি-
কোয়ার্কের চেয়ে সামান্য
বেড়ে যাওয়ার কারণে
বেরিয়নের পরিমাণও প্রতি-
বেরিয়নের চেয়ে সামান্য
বেড়ে যায়। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার নিচে কোন নতুন
প্রোটন/প্রতিপ্রোটন জোড়া
তৈরি হতে পারেনা। এরই
সাথে অবশিষ্ট প্রোটন এবং
প্রতিপ্রোটনের মধ্যে শুরু হয়
ভরের পূর্ণবিলয় (annihilation)।ফলে প্রতিপ্রোটন সম্পূর্ণ
নিঃশেষ হয়ে যায়; আর প্রোটন
প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়।
তবে কিছু প্রোটন থেকে যায়।
নিউট্রন/প্রতিনিউট্রন
জোড়ের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। ইলেকট্রন ও
প্রতিইলেকট্রন বা পজিট্রনের ক্ষেত্র এই ঘটনা আরও নিম্ন তাপমাত্রায়
সংঘটিত হয়। এর কিছুকাল পরে প্রোটন ও
নিউট্রন একত্রিত হয়ে
মহাবিশ্বের একেবারে
প্রথমদিককার উপাদান ডিউটেরিয়াম ও হিলিয়াম কেন্দ্রীন তৈরি করে। সৃষ্টির এই প্রক্রিয়াকে বলা
হয় মহা বিস্ফোরণ কেন্দ্রীন সংশ্লেষ । মহাবিশ্বের শীতলায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত
থাকে; এক সময় এই প্রক্রিয়ার
ফলস্বরূপ পদার্থের
কণাসমূহের মধ্যে যে
আপেক্ষিক গতিবেগ ছিল তার
পরিমাণ হ্রাস পায়। এই কণাসমূহের মাঝে দুই ধরণের
শক্তি ঘনত্ব ছিল: নিশ্চল ভর শক্তি ঘনত্ব এবং বিকিরণ শক্তি ঘনত্ব। আপেক্ষিক বেগ
কমে যাওয়ার ফলে নিশ্চল
ভরজনিত শক্তি ঘনত্ব মহাকর্ষীয়ভাবে বিকিরণজনিত শক্তি ঘনত্বের
উপর আধিপত্য বিস্তার করে।
মহা বিস্ফোরণের প্রায়
৩৮০,০০০ বছর পর ইলেকট্রন
এবং নিউক্লিয়াস একত্রিত
হয়ে পরমাণু তৈরি করে; এর মধ্যে মূলত হাইড্রোজেন পরমাণু সৃষ্টি হয়। এর সূত্র
ধরে পদার্থ থেকে বিচ্ছিন্ন
হয়ে যাওয়া শক্তি বিকিরণ
আকারে সমগ্র মহাবিশ্বে
ছড়িয়ে পড়ে; কারণ একে তেমন
কোন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় না। এই সুপ্রাচীন
বিকিরণের নাম মহাজাগতিক ক্ষুদ্রতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ । সম্প্রসারণের সাথে সাথে
মহাবিশ্বের বন্টন প্রায়
সুষম হয়েছিলো। কিন্তু এর
মাঝেও কিছু অসামঞ্জস্যতা
ছিল। এর কারণে যে
অঞ্চলগুলো অন্যান্য অঞ্চল থেকে খানিকটা ঘন
সেখানের পদার্থগুলো
আশেপাশের অন্যান্য বস্তুকে
মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে
আকর্ষণ করে। এর মাধ্যমে
সৃষ্টি হয় তারা , ছায়াপথ এবং অন্যান্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক
বস্তুর যা আজ আমরা দেখতে
পাচ্ছি। তবে এই
প্রক্রিয়াটি অত সহজ নয়। এর
মূল বিষয়গুলো নির্ভর করে
মহাবিশ্বের ওই অঞ্চলের পদার্থের ধরণ এবং
পরিমাণের উপর। তখন
মহাবিশ্বে সম্ভাব্য তিন
ধরণের পদার্থ বিরাজমান
ছিল: শীতল অদৃশ্য বস্তু , উত্তপ্ত অদৃশ্য বস্তু এবং বেরিয়নীয় বস্তু। ডব্লিউএমএপি নামক কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের
ভিত্তিতে জানা গেছে যে
মহাবিশ্বে শীতল অদৃশ্য
বস্তুর পরিমাণ সবচেয়ে
বেশী, প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ। অন্যান্য দুই ধরণের বস্তুর
পরিমাণ মাত্র ২০%। বর্তমান মহাবিশ্বের
অধিকাংশ স্থান জুড়ে একটি
রহস্যময় ধরণের শক্তি
বিরাজ করছে। মহাবিশ্বের
বিপুল ভর ও শক্তির জন্য
সবচেয়ে বেশী দায়ী এই শক্তিকে অদৃশ্য শক্তি বা dark energy বলা হয়। বর্তমান
মহাবিশ্বের মোট শক্তি
ঘনত্বের শতকরা প্রায় ৭০
ভাগ জুড়েই রয়েছে এই অদৃশ্য
শক্তি। মহাবিশ্বের
সম্প্রসারণকে একটি বেগ- দূরত্ব সম্পর্কিত লেখের
মাধ্যমে প্রকাশ করলে
লেখচিত্রের রেখাটি
সরলরৈখিক হয়না। অদৃশ্য
শক্তির কারণেই এমনটি হয়ে
থাকে। অর্থাৎ এই শক্তির কারণে দূরত্ব যখন অনেক
বেশী হয় তখন উক্ত বস্তুর বেগ
স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক
বেড়ে যায়। অর্থাৎ দূরত্ব যত
বাড়ে বেগ বৃদ্ধির পরিমাণও
ততই বেড়ে যায়। একেবারে সাধারণ বিষয় ধর্তব্যের
মধ্যে আনলে অদৃশ্য শক্তির এই
পরিমাণটি আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণে একটি মহাজাগতিক ধ্রুবকের রূপ নেয়, যদিও এই শক্তির প্রকৃত
রূপ এখনও উদ্ঘাটন করা সম্ভব
হয়নি। বলতে গেলে এই
শক্তির অবস্থার সমীকরণ এবং কণা পদার্থবিজ্ঞানেরআদর্শ নকশার সাথে এর সম্পর্ক বিষয়ে তাত্ত্বিক ও
ব্যবহারিক উভয়ক্ষেত্রে
অনেক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা
এখনও বাকি রয়ে গেছে। এই সবগুলো পর্যবেক্ষণ
বিশ্বতত্ত্বের ল্যাম্ব্ডা- সিডিএম নকশায় সংযুক্ত করা হয়েছে। সবগুলো নকশার
নির্যাস নিয়ে গঠিত এই
নকশাটি মূলত গাণিতিক
যাতে ছয়টি মুক্ত স্থিতিমাপ
(parameter) রয়েছে। তবে
রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন আমরা মহাবিশ্বের
সৃষ্টির গোড়ার দিকে দৃষ্টি
নিক্ষেপ করি। সেই সময়
পদার্থ কণিকার শক্তি এতো
বেশী ছিল যে
বর্তমানকালের পরীক্ষণেও তা নিয়ে বাস্তবমুখী
গবেষণা করা যায় না। মহা বিস্ফোরণের পর ১০ −৩৩ সেকেন্ড পর্যন্ত পরিস্থিতি
ব্যাখ্যার জন্য উপযোগী কোন
সূত্র পদার্থবিজ্ঞানে আজ
অবধি আবিষ্কৃত হয়নি। দশা
পার্থক্যের এই সময়ের
পূর্বের অবস্থা ব্যাখ্যা করার জন্য মহা একীভূত তত্ত্বের কোন বিকল্প নেই। বিস্ফোরণের একেবারে প্রথম
বিন্দুতে আইনস্টাইনের
মহাকর্ষ তত্ত্বমতে একটি মহাকর্ষীয় ব্যতিক্রমী
বিন্দুর কল্পনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে এই বিন্দুতে ঘনত্ব অসীম ছিল। [১২] এই ভৌত হেঁয়ালি সমাধান করার জন্য একটি কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্ব প্রয়োজন। এই বিষয়টি বোঝার জন্য
যুগোপযোগী তত্ত্ব প্রণয়নই
বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞানের
বৃহত্তম সমাধানহীন সমস্যা। তত্ত্বের মৌলিক
ভিত্তি মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব
নিম্নল

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s