নাসার মতে পৃথিবীর চাঁদ আসলে দু’টি!


একটি অতিক্ষুদ্র্রাকৃতির গ্রহাণু প্রায় একশ’ বছর ধরে পৃথিবীর আসেপাশে ঘুরঘুর করছে এবং এটি এখানে বেশ দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে।
২০১৬HO3 নামের এই ‘আপাত’-উপগ্রহটির আকার ১২০ থেকে ৩০০ ফুটের মধ্যে এবং হাওয়াইতে অবস্থিত অ্যাস্টেরয়েড সার্ভে টেলিস্কোপের মাধ্যমে প্রথম সনাক্ত করা হয় ২০১৬ এর এপ্রিলে। “মিনি মুন” বা পিচ্চি চাঁদ ডাকনামের এই গ্রহাণুটি মূলতঃ সূর্যকে প্রদক্ষিন করলেও পৃথিবীর কক্ষপথের কাছেই একে বেশী পাওয়া যায়।
এই পাথুরে খন্ডটি কয়েকদশক ধরে ধীরগতিতে পৃথিবীর কক্ষপথের আগে-পিছে দোদুল্যমান অবস্থায় দেখা যায়। অর্ধেকটা সময় একে পৃথিবীর সামনে সূর্যের দিকে এবং বাকী সময়ে একে পৃথিবীর পেছনে পাওয়া যায়। এর কক্ষপথ একইসাথে কিছুটা আণত, বছরের অর্ধেক সময় পৃথিবীর উত্তর দিকে এবং বাকী অর্ধেক সময়ে নিচের দিকে অবস্থান করে।
এই শিলা খন্ডটি বেশ স্থিতিশীল এবং আমাদের গ্রহের জন্য হুমকী মনে করছে না নাসা। এটিকে একটি প্রকৃত উপগ্রহ না বলে আপাত-উপগ্রহ (quasi-satelite) বলার কারণ হলো এটি পৃথিবী থেকে বেশ খানিকটা দূরে- এটি পৃথিবী থেকে আমাদের চাঁদের দূরত্বের চেয়ে ৩৮ গুণ ন্যূনতম দূরত্বে অবস্থান করে। তবে এটির উপর পৃথিবীর মধ্যাকর্ষন বেশ কার্যকর তাই দোদুল্যমান কক্ষপথে পৃথিবী থেকে একদিকে বেশ খানিকটা সরে গেলেও পুনরায় এর টানে ফিরে আসে এবং তাই এটি কখনোই চাঁদের দূরত্বের চেয়ে ১০০গুণ দুরত্বের বাইরে যায় না। এটি কার্যতঃ পৃথিবীর সাথে নৃত্যরত অবস্থায় আছে।
তবে পৃথিবীর কক্ষপথে সংযুক্ত হয়ে যাওয়া এটিই প্রথম গ্রহাণু নয়। দশ বছরেরও বেশী সময় আগে গ্রহাণু 2003YN107 অপেক্ষাকৃত কম সময় জুড়ে একই ধরনের একই কক্ষপথে বিদ্যমান ছিলো এবং সেই সময় থেকে এটি পৃথিবীর নৈকট্য ত্যাগ করেছে। তবে এই গ্রহাণুটিকে পৃথিবীর সাথে সাথে চলার ক্ষেত্রে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে এবং অনুমান করা হচ্ছে আগামী কয়েক শতাব্দীজুড়ে এটি পৃথিবীর সঙ্গী হয়ে থাকবে।
*উৎস :- বিজ্ঞান
পত্রিকা ।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s