Origin of the Universe Part 1


*কিভাবে মহাবিশ্বের শুরু তুমি জানো ?
**”Origin of the Universe”
Part-1
*মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব (Big Bang Theory):
ভৌত বিশ্বতত্ত্বে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রদত্ত
একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। এই তত্ত্বের
অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কোন
ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে
একটি বিশেষ মুহূর্তে মহাবিশ্বের
উদ্ভব। এই তত্ত্ব বলে আজ থেকে প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে এই মহাবিশ্ব
একটি অতি ঘন এবং উত্তপ্ত অবস্থা
থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। বিজ্ঞানী এডুইন হাবল প্রথম বলেন, দূরবর্তী ছায়াপথসমূহের বেগ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এরা
পরষ্পর দূরে সরে যাচ্ছে অর্থাৎ
মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের
ফ্রিদমান-ল্যমেত্র্-রবার্টসন-ওয়াকার
মেট্রিক অনুসারে এটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই তত্ত্বসমূহের সাহায্যে
অতীত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সমগ্র
মহাবিশ্ব একটি সুপ্রাচীন বিন্দু
অবস্থা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। এই
অবস্থায় সকল পদার্থ এবং শক্তি অতি
উত্তপ্ত এবং ঘন অবস্থায় ছিল। কিন্তু এ অবস্থার আগে কী ছিল তা নিয়ে
পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে কোন
ঐকমত্য্য নেই। অবশ্য সাধারণ
আপেক্ষিকতা এর আগের সময়ের
ব্যাখ্যার জন্য মহাকর্ষীয় অদ্বৈত বিন্দু (সিংগুলারিটি) নামক একটি শব্দের প্রস্তাব করেছে। মহা বিস্ফোরণ শব্দটি স্থূল অর্থে
প্রাচীনতম একটি বিন্দুর অতি
শক্তিশালী বিস্ফোরণকে বোঝায় যার
মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল,
আবার অন্যদিকে এই বিস্ফোরণকে
কেন্দ্র করে মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও গঠন নিয়ে বিশ্বতত্ত্বে যে মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে তাকেও বোঝায়। এর
মাধ্যমেই মহাবিশ্বের প্রাচীনতম
বস্তুসমূহের গঠন সম্পর্কে ব্যাখ্যা
পাওয়া যায়, যার জন্য মহা বিস্ফোরণ
মতবাদের পরই আলফার-বেটে-গ্যামফ তত্ত্ব প্রণীত হয়েছে। মহা বিস্ফোরণের একটি উল্লেখযোগ্য
ফলাফল হল, বর্তমানে মহাবিশ্বের
অবস্থা অতীত এবং ভবিষ্যতের অবস্থা
থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। এই তত্ত্বের
মাধ্যমেই ১৯৪৮ সালে জর্জ গ্যামফ অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি
বিকিরণের অস্তিত্ব রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে এটি আবিষ্কৃত হয় এবং স্থির অবস্থা তত্ত্বকে অনেকটাই বাতিল করে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বকে প্রমাণ করতে
সমর্থ হয়।
মহাকাশ
পর্যবেক্ষকরা দেখতে পান যে
অধিকাংশ সর্পিল নীহারিকা পৃথিবী থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। অবশ্য
বিশ্বতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর
ব্যাখ্যা আরও পরে হয়েছে, বর্তমানে
আমরা জানি, যে নীহারিকাগুলো
পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, সেগুলো আসলে নীহারিকা নয়, বরং আমাদের আকাশগঙ্গার বাইরের ছায়াপথ ছিল । বেলজিয়ামের একজন রোমান ক্যাথলিক ধর্মপ্রচারক জর্জ ল্যমেত্র্ ১৯২৭ সালে প্রথম স্বাধীনভাবে আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণ থেকে ফ্রিদমান সমীকরণসমূহ উপপাদন করেন। আইনস্টাইন সাধারণ
আপেক্ষিকতার জন্য এই ক্ষেত্র
সমীকরণগুলোর গোড়াপত্তন করেছিলেন।
ফ্রিদমান সমীকরণ উপপাদনের পর
সর্পিল নীহারিকার ক্রম
পশ্চাদপসারণের উপর ভিত্তি করে ল্যমেত্র প্রস্তাব করেন, মহাবিশ্ব
একটি সুপ্রাচীন পরমাণু থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, যে প্রস্তাব বর্তমানে মহা বিস্ফোরণ নামে পরিচিত। এর দুই বছর পর এডুইন হাবল ল্যমেত্রর তত্ত্বের সপক্ষে একটি পর্যবেক্ষণমূলক
প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তিনি
আবিষ্কার করেন যে, পৃথিবী থেকে
দৃশ্যমান ছায়াপথসমূহ থেকে নিঃসৃত
আলোর লোহিত অপসারণ হচ্ছে এবং এই অপসারণ পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্বের
সমানুপাতিক। অর্থাৎ একটি ছায়াপথ
পৃথিবী থেকে যত দূরে তা থেকে নিঃসৃত
আলোর বর্ণালি ততোই লাল তথা দীর্ঘ্য
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দিকে সরে যাচ্ছে। এই
ঘটনাটি বর্তমানে হাবলের নীতি নামে পরিচিত। বিশ্বতাত্ত্বিক নীতি অনুসারে মহাবিশ্বকে যখন যথেষ্ট বৃহৎ স্কেলের দূরত্বের
সাপেক্ষে দেখা হয় তখন এর কোন
নির্দিষ্ট বা বিশিষ্ট দিক ও স্থান
পাওয়া যায় না। এই নীতিকে সত্য
মেনেই হাবল প্রমাণ করেছিলেন যে
মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু এই তত্ত্ব স্বয়ং আইনস্টাইন কর্তৃক
প্রতিষ্ঠিত অসীম এবং অপরিবর্তনীয় বিশ্বের তত্ত্বের সম্পূর্ণ বিরোধী।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s