Indian Monsoon


**Indian Monsoon or ভারতের মৌসুমি জলবায়ু:-
‘মৌসিম’ শব্দে এর অর্থ হল ঋতু । ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমি বায়ু প্রবাহেরও পরিবর্তন হয় । স্থলভাগ ও জলভাগের উত্তাপের পার্থক্যের ফলে সমুদ্র বায়ু এবং স্থল বায়ুর মতো মৌসুমি বায়ুরও সৃষ্টি হয় । ভারতের জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতে মৌসুমি বায়ুর বিরাট প্রভাব পরিলক্ষিত হয় । এইজন্য ভারতকেমৌসুমি বায়ুর দেশবলা হয় ।
(১) ভারত ‘আন্তঃমৌসুমি জলবায়ুর দেশ হওয়ায় ভারতের অধিকাংশ বৃষ্টিপাত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঘটে থাকে । বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু, শরৎকালে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে উত্তর–পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ভারতের জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের উপর সবচেয়ে বেশি থাকে । গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পূর্ব এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব এই দুটি বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের ফলে ভারতে আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল এই দুটি প্রধান ঋতুর সৃষ্টি হয়েছে ।
(২) দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে সমুদ্রের উপর দিয়ে আগত মৌসুমি বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাস্প থাকে বলে বর্ষাকালের জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে ।
(৩) বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে পশ্চিম উপকূলের উত্তরাংশ, অসম, মিজোরাম, পূর্ব হিমালয়, তরাই অঞ্চল এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় ।
(৪) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখার প্রভাবে উত্তর–পূর্ব ভারতের গারো, খাসি ও পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশবর্তী অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও এই সব অঞ্চলের দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে বৃষ্টিপাত ক্রমশ কমে যেতে থাকে ।
(৫) দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখার প্রভাবে দক্ষিণ থেকে উত্তর ও উত্তর পশ্চিমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে ।
(৬) মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে খাসি, গারো, পূর্ব হিমালয় এবং পশ্চিমঘাট পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রবল শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হলেও অনুবাত ঢালে বৃষ্টিহীন বা অল্পবৃষ্টিযুক্তবৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে ।
(৭) অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে শরৎকাল অথবা শীতকালের শুরুতে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় এবং করমণ্ডল উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটে ।
(৮) উত্তর–পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শীতকালে ভারতে বৃষ্টিপাত খুব একটা হয় না, কেবল মাত্র করমণ্ডল উপকূলে ডিসেম্বর মাসে কিছুটা বৃষ্টিপাত হয় ।
(৯) দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে গ্রীষ্মকালীন উষ্ণতা কিছুটা কমে যায় ।
(১০) মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে হিমালয় পর্বত সহ ভারতের বিভিন্ন অংশে চিরহরিৎ, পর্ণমোচী এবং সরলবর্গীয় বৃক্ষের গভীর অরণ্যে সৃষ্টি হয়েছে । এইসব অরণ্য থেকে মুল্যবান কাঠ এবং অন্যান্য অরণ্য সম্পদ পাওয়া যায় ।
***Mission Geography***
***Characteristics of the Monsoon or ভারতের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:-
মৌসুমি বায়ু দ্বারা ভারতের জলবায়ু বিশেষভাবে প্রভাবিত হওয়ায় ভারতবর্ষকেআর্দ্র মৌসুমি জলবায়ুর দেশবলা হয় । ভারতের জলবায়ুর নিম্নলিখিত প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি পরিলক্ষিত হয় :-
(১) ঋতু পরিবর্তন :- বছরের বিভিন্ন সময়ে ঋতু পরিবর্তন হল ভারতের জলবায়ুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য— (ক) মার্চ মাস থেকে মে মাস গ্রীষ্মকাল (খ) জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস বর্ষাকাল (গ) অক্টোবর মাস ও নভেম্বর মাস শরৎকাল এবং (ঘ) ডিসেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাস শীতকাল । এই চারটি প্রধান ঋতু ভারতের জলবায়ুতে চক্রাকারে আবর্তিত হয় । এছাড়া ভারতে (ঙ) শীতের আগে হেমন্ত এবং (চ) শীতের পরে বসন্ত নামে অপর দুটি ঋতুর আভাস পাওয়া যায় ।
(২) মৌসুমি বায়ু বায়ু প্রবাহ :- গ্রীষ্মকালীন দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালীন উত্তর–পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহের প্রভাবে ভারতের ঋতু পরিবর্তন হয় । মৌসুমি বায়ুর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় ভারতকে “আন্তঃমৌসুমি বায়ুর দেশ” বলা হয় । গ্রীষ্মকালে ভারতে মৌসুমি বায়ু যে দিক থেকে আসে, শীতকালে ঠিক তার বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয় ।
(৩) চরমভাবাপন্ন জলবায়ু :- উত্তর ভারতের জলবায়ু দক্ষিণ ভারতের জলবায়ুর তুলনায় অনেক বেশি চরমভাবাপন্ন, অর্থাৎ উত্তর ভারতের শীত ও গ্রীষ্ম দুটোই খুব তীব্র ।
(৪) গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা :- গ্রীষ্মকালে ভারতের বেশির ভাগ স্থানে মার্চ মাস থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে । এপ্রিল মাসে উষ্ণতা আরো বেশি বেড়ে যায় । এই সময় উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের উষ্ণতা ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় । গ্রীষ্মকালে মে মাসে উত্তর ভারতের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ হয় । এই সময় মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় । গ্রীষ্মকালে মে মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারতের শুল্ক অঞ্চল সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয় । গ্রীষ্মকালে সময় সময় পশ্চিম ভারতের থর মরুভূমি অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে যায় ।
(৫)শীতকালীন তাপমাত্রা :- শীতকালে উত্তর ভারতের তাপমাত্রা দক্ষিণ ভারতের তাপমাত্রার তুলনায় বেশ কম থাকে । এই সময় উত্তর ভারতের তাপমাত্রা গড়ে ১০ ডিগ্রি থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয় । শীতকালে দক্ষিণ ভারতের গড় তাপমাত্রা থাকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো ।
(৬) বৃষ্টিপাত:-
(ক) ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের ৮৪% বৃষ্টিপাত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে, ১৩% শরৎকালে, এবং ৩% শীতকালে সংঘটিত হয় ।
(খ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে ও বর্ষাকালে অর্থাৎ জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সর্বাধিক হয় ।
(গ) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে শীতকালে প্রায় শুকনো থাকে; তামিলনাড়ুর উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত করমণ্ডল উপকুল ছাড়া ভারতের অন্যত্র শীতকালে তেমন বৃষ্টিপাত হয় না ।
(ঘ) পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শীতকালে কিছুটা বৃষ্টি হয় ।
(ঙ) ভারতের বৃষ্টিপাত একটানা না হয়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতে বিরতি ঘটে ।
(চ) ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সঠিক সময় এবং পরিমাণ এক এক বছরে এক এক রকমের হয় । মৌসুমি বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা কোনও কোনও বছর ভারতে খরার অন্যতম প্রধান কারণ এবং অতিরিক্ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত ভারতে বন্যার প্রধান কারণ ।
(ছ) ভারতে আঞ্চলিক বৃষ্টিপাতের অসম বন্টন দেখা যায়— পশ্চিম উপকুল, আন্দামান নিকোবর, উত্তর–পূর্ব রাজ্যসমূহ ও উত্তরবঙ্গে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হয়; আবার রাজস্থানের মরুভূমি এবং লাদাখ, কারাকোরাম প্রভৃতি অঞ্চলে বছরে অতি অল্প বৃষ্টিপাত হওয়ায় এদের শুল্ক অঞ্চল বলা হয় ।
ভারতের জলবায়ুতে হিমালয় পর্বতের প্রভাব:-ভারতের সমগ্র উত্তর ভাগ জুড়ে হিমালয় পর্বত শ্রেণি বিস্তৃত থাকায় ভারতের জলবায়ুর উপর হিমালয় পর্বতের অসাধারণ প্রভাব রয়েছে ।
(১) হিমালয় পর্বতের অবস্থান ভারতীয় উপমহাদেশকে মধ্য এশিয়ার হাড় কাঁপানো শীতের হাত থেকে রক্ষা করেছে । হিমালয় পর্বত না থাকলে ভারতেও রাশিয়া ও চিনের মতো তীব্র শীতের প্রাবল্য দেখা যেত ।
(২) সমুদ্র থেকে আগত জলীয় বাস্প পূর্ণ দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতের দক্ষিণ ঢালে বাধা পেয়ে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় । মৌসুমি বায়ু প্রবাহের দ্বারা সংঘটিত বৃষ্টিপাতে হিমালয় পর্বতের অসাধারণ প্রভাব রয়েছে ।
(৩) ভারত এমনিতে উষ্ণ মৌসুমি জলবায়ুর দেশ হলেও উচ্চতার প্রভাবে হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে অনেকটা তুন্দ্রা অঞ্চলের মতো অতি শীতল জলবায়ু দেখা যায় ।
***Mission Geography***
**Effects of Indian Monsoon on Indian Agriculture or ভারতীয় কৃষিতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব :-
ভারতীয় কৃষিতে মৌসুমি বায়ুর বিরাট প্রভাব রয়েছে । মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে প্রচুর পরিমাণে ধান, গম, পাট, আখ, তুলা বিভিন্ন ধরনের ডাল, নানান রকম তৈলবীজ, চা, কফি তামাক প্রভৃতি উৎপন্ন হয় ।
মৌসুমি বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা—খরা ও বন্যার প্রাদুর্ভাব:- ভারতে মৌসুমি বায়ুর ফলেই প্রধানত বৃষ্টিপাত ঘটে । দেশের মোট বৃষ্টি পাতের প্রায় ৯০ শতাংশ দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সংঘঠিত হয় । কিন্তু এই মৌসুমি বায়ু খুবই অনিশ্চিত । কারণ প্রতি বছর এই মৌসুমি বায়ু সমপরিমাণে জলীয় বাস্প নিয়ে আসে না । আবার এই মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমন প্রতি বছর একই সময়ে ঘটে না । এর ফলে কোন বছর কম জলীয় বাস্প আমদানি ও দেরিতে আসার ফলে ভারতে অনাবৃষ্টি বা খরা দেখা দেয় । আবার কোনও বছর অতিরিক্ত পরিমাণ জলীয় বাস্প আমদানি এবং দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহের খাম খেয়ালিপণার জন্য ভারতে প্রায়ই খরা ও বন্যার প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায় ।
(ক) ভারতে খরার প্রধান কারণ :-
(১) মৌসুমি বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা ভারতে খরার প্রধান কারণ ।
(২) ভারতের কোনও স্থানে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বর্ষা দেরিতে আসা সেই স্থানের খরার অন্যতম কারণ
(৩) স্বাভাবিক সময়ের আগে মৌসুমি বায়ু প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে খরা সৃষ্টি হয় ।
(৪) কোন স্থান বর্ষাকালের মধ্যেও বেশ কিছুদিন বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ।
(৫) বনভুমির অভাবের জন্য সূর্যের প্রচন্ড তাপে গ্রীষ্মকালে প্রচুর পরিমাণে ভৌম জল বাষ্পীভূত হয়ে যায় এবং মাটি ফেটে চৌচির হয়ে খরার সৃষ্টি করে ।
(৬) পরিবেশ দূষণের জন্য বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে মৌসুমি বায়ু ঘনীভূত না হতে পারলে খরার সৃষ্টি হয় ।
(খ) ভারতে বন্যার প্রধান কারণ :-
(১) কোনও স্থানে একটানা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ঘটলে সেই স্থানে বন্যার দেখা দেয় ।
(২) মৌসুমি বৃষ্টিপাত দীর্ঘায়িত হলে অতিবৃষ্টির ফলেও বন্যার সৃষ্টি হয় ।
(৩) নদীর বহন ক্ষমতা কমে এলে বা জলনিকাশী ব্যবস্থা বুজে এলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত না হলেও বন্যার সৃষ্টি হতে পারে । ২০০০ সালে এই কারণে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে বন্যার সৃষ্টি হয় ।
(৪) বর্ষাকালে বাঁধ বা জলাধার থেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত জল ছাড়লে বন্যার সৃষ্টি হয় । এটিও পশ্চিমবঙ্গে বন্যা হওয়ায় অন্যতম প্রধান কারণ ।
(৫) কখনও কখনও ভূমিক্ষয়ও বন্যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে দেখা দেয় । ভূমিক্ষয়ের ফলে ক্ষয়ে যাওয়া মাটি নদী গর্ভে জমা হয় এবং নদীর গভীরতা কমিয়ে দেয় । এর ফলে নদীর জল বহন ক্ষমতা কমে গিয়ে বন্যার সৃষ্টি করে ।
ভারতে খরা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের উপায় :-
(১) ভারতের বন্যাপ্রবণ অঞ্চলগুলো নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত স্থানগুলোতে ছোটো ছোটো বাঁধ ও জলাশয় তৈরি করে, প্রধান নদী ও উপনদীগুলোর ওপর বড়ো বড়ো বাঁধ ও জলাশয় তৈরি করে বন্যার জলকে ধরে রেখে তার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভারতের বন্যাপ্রবণ অঞ্চলগুলোর অধিবাসীদের রক্ষা করা যায় ।
(২) গ্রীষ্মকালে খরা জনিত পরিস্থিতির সময় বাঁধ ও জলাশয়ে ধরে রাখা জলকে আধুনিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে জলসেচের কাজে লাগিয়ে বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের বহুদূরবর্তী খরা প্রবণ অঞ্চলকে খরার প্রকোপ মুক্ত করা সম্ভব ।
(৩) কখনও কখনও ভুমিক্ষয়ও বন্যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে দেখা দেয় । ভুমিক্ষয়ের ফলে ক্ষয়ে যাওয়া মাটি নদীগর্ভে জমা হয়ে নদীর গভীরতা কমিয়ে দেয়, ফলে নদীগর্ভ আর বর্ষার জল বহন করতে পারে না বলে বর্ষাকালে নদীতে বন্যা দেখা দেয় । নদীগর্ভ বুঁজে গেলে বর্ষাকালে জল নিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয় । নদীগর্ভে নিয়মিতভাবে ড্রেজিং করে তাদের নাব্যতা বাড়িয়ে বন্যার প্রকোপ অনেকটা কমানো যায় ।
(৪) বনভুমির অভাবের জন্য বৃষ্টিপাত কম হলে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের সাহায্যে প্রচুর গাছ লাগিয়ে আংশিক ভাবে খরা নিয়ন্ত্রন করা যায় ।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s