Evolution of landforms under River or Fluvial and Glacial and Aeolian or Wind Questions and Answers Part 2


প্রশ্ন:-১. বায়ুর কাজ কোথায় বেশি দেখা যায় ?
প্রধানত মরুভূমি অঞ্চলেই বায়ুর ক্ষয়কাজ সবচেয়ে বেশি হয় । এর কারণ হল:-
১) মরুভূমি অঞ্চলে পাহাড়-পর্বত, গাছপালা প্রভৃতির উপস্থিতি না থাকায় মরুভূমির ওপর দিয়ে যখন বায়ু প্রবাহিত হয় বায়ুপ্রবাহ কোনরূপ বাধার সম্মুখীন হয় না । ফলে মরুভূমির ওপর দিয়ে প্রবলবেগে বায়ু প্রবাহিত হয়,
২) আদ্রতা, বৃষ্টিপাত এবং গাছপালা কোনো স্থানের ভূমিকে দৃঢ় ও সংবদ্ধ করে রেখে ক্ষয়ীভবনে বাধা সৃষ্টি করে । মরুভূমিতে এই তিনটিরই অভাব আছে । এজন্য মরুভূমিতে শিথিল মাটি ও বালির ওপর বায়ু সহজেই তার ক্ষয়কাজ চালাতে পারে,
৩) মরুভূমিতে শীত ও গ্রীষ্ম এবং দিন ও রাত্রির মধ্যে তাপমাত্রার প্রভেদ খুবই বেশি । এই জন্য ব্যাপক সংকোচন ও প্রসারনের ফলে সংঘটিত যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবনের দ্বারা শিলা সহজেই চূর্ণবিচূর্ণ ও শিথিল হয়ে বালিতে পরিণত হয়, এতে বায়ুর ক্ষয়কার্যের সুবিধা হয় ।
এছাড়া সমুদ্র উপকূলেও বায়ুর কাজ দেখা যায়।
প্রশ্ন:-২. নদীর উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন গতির বিভিন্ন কাজের তুলনা :-
নদীর উচ্চ, মধ্য ও নিম্নগতির বিভিন্ন কাজের তুলনা
বিভ িন্ন গতি
নিম্নক্ষয়
পার্শ্বক্ষয়
সঞ্চয়
নদীখাত
বিশেষ ভূমিরূপ
১) উচ্চগতি
বেশি
কম
X
গভীর ও অগভীর
গিরিখাত ও জলপ্রপাত
২) মধ্যগতি
কম
মাঝারি
বেশি
চওড়া ও অগভীর
স্বাভাবিক বাঁধ ও প্লাবনভূমি
৩) নিম্নগতি
X
বেশি
খুব বেশি
খুব চওড়া ও অগভীর
চর, দ্বীপ, বদ্বীপ, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
প্রশ্ন:- ৩. নদীর বহন কাজ কী কী প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয় ?
নদীর তার বহন কাজ নিম্নলিখিত চারটি প্রক্রিয়ায় সংঘটিত করে থাকে, যথা-
১)দ্রবণ [Solution] প্রক্রিয়ায় বহন: অনেক সময় নদী তার গতিপথে কোনো কোনো প্রস্তরখন্ডকে দ্রবিভূত করে তার জলস্রোতের সঙ্গে বহন করে থাকে । লবণ, চুনাপাথর প্রভৃতি নদীর জলে দ্রবিভূত হয়ে বাহিত হয় ।
২)ভাসমান [Suspension] প্রক্রিয়ায় বহন:অনেক সময় ক্ষুদ্রাকার ও কম ওজনের পাথর, বালি বা কাদার কণা নদী-স্রোত চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে এক স্থান থেকে অন্যত্র ভেসে যায় এবং নদী এগুলিকে ভাসমান অবস্থায় বহন করে থাকে।
৩)লম্ফদান [Saltation] প্রক্রিয়ায় বহন: নদীর স্রোতের টানে কিছু কিছু শিলাখন্ড নদীখাতে বারবার ধাক্কা খেয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে চলে এবং কালক্রমে নদীপথে বাহিত হয় ।
৪)আকর্ষণ [Traction] প্রক্রিয়ায় টানের মাধ্যমে বহন:নদীগর্ভে পতিত বিভিন্ন রকম ভারী প্রস্তরখন্ড স্রোতের টানে নদীর তলদেশ দিয়ে বোঝা হিসাবে (Bed-load) গড়িয়ে গড়িয়ে অন্যত্র বাহিত হয় । নদীবাহিত বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ প্রক্রিয়ার সাহায্যে পরিবাহিত বস্তুর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ।
প্রশ্ন:- ৪. নদীর অবঘর্ষ ক্ষয় ও ঘর্ষণ ক্ষয়ের মধ্যে পার্থক্য কী ?
নদীর অবঘর্ষ ক্ষয় ও ঘর্ষণ ক্ষয়ের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল এই যে- পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল স্রোতের জন্য নদীবাহিত নানান আকারের ও বিভিন্ন আয়তনের পাথরগুলোর সঙ্গে নদীখাতে ঘর্ষণের আঘাতের ফলে নদী খাতে ছটো ছোটো গর্তের সৃষ্টি হয় । এই প্রক্রিয়াকেঅবঘর্ষ ক্ষয়বলে । এই গর্তগুলোর জন্য নদীখাত আরও দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যায় । অর্থাৎ অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে নদীখাতে ছোটো ছোটো গর্তের সৃষ্টি হয়।
পক্ষান্তরে, ঘর্ষণ ক্ষয়ের সময় নদীবাহিত পাথরগুলো পরস্পরের সঙ্গে ক্রমাগত ঘর্ষণে ও ঠোকাঠুকির ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অবশেষে বালি কণায় পরিনত হয় । অর্থাৎ নদীর ঘর্ষণ ক্ষয়ের ফলে পাথরখন্ডগুলিবালি কণায়রূপান্তরিত হয় ।
প্রশ্ন:- ৫. নদী উপত্যকার সঙ্গে হিমবাহ উপত্যকার পার্থক্য:-
নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার পার্থক্য
বৈশিষ্ট ্য
নদী উপত্যকা
হিমবাহ উপত্যকা
১) অবস্থান গত পার্থক্য
১) মেরু প্রদেশের বরফাবৃত অঞ্চল এবং উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায় না ।
১) কেবলমাত্র বরফে ঢাকা ঊঁচু পার্বত্য অঞ্চল এবং হিমশীতল মেরু অঞ্চলেই হিমবাহ উপত্যকার উপস্থিতি লক্ষ করা যায় ।
২) আকৃতিগত পার্থক্য
২) পার্বত্য অঞ্চলে নদীর উচ্চগতিতে নদী উপত্যকার আকৃতি ইংরেজী ‘I’ বা সরু ‘V’ আকৃতির হয় । উচ্চগতির শেষে ও মধ্যগতির প্রথমে নদী উপত্যকায় ‘নদীমঞ্চ’ সৃষ্টি হয় । সমভূমিতে নদীর মধ্যগতিতে নদী উপত্যকার আকৃতি প্রশস্ত ও খুব চওড়া এবং নদীখাত ক্রমশ অগভীর ও বিরাট চওড়া হতে থাকে । নিম্নগতিতে নদীখাতে চড়া পড়ে নদী উপত্যকায় বিশাল চড়ার সৃষ্টি হয় এবং নদী উপত্যকা অসম্ভব আঁকাবাঁকা হয়ে যায় । নদী উপত্যকার আঁকাবাঁকা এই গতিপথকে মিয়েন্ডার বলে ।
২) উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল হিমবাহের ক্ষয়কাজের ফলে খুব চওড়া তলদেশ এবং অপেক্ষাকৃত মসৃণ ও খাড়া পাড়যুক্ত হিমবাহ উপত্যকার সৃষ্টি হয় । এই সময়ে হিমবাহ উপত্যকার মধ্য দিয়ে অসম্ভব ভারী এবং কঠিন বরফের চাঁই প্রবাহিত হওয়ার জন্য হিমবাহ উপত্যকার আকৃতি হয় অনেকটা ইংরেজী ‘U’ অক্ষরের মতো । সাধারণত সোজাপথে প্রবাহিত হয় বলে হিমবাহ উপত্যকায় কখনোই বাঁক বা মিয়েন্ডার গঠিত হয় না ।
হিমবাহ উপত্যকায় কোনো রকমের মঞ্চ সৃষ্টি হয় না ।
৩) প্রবাহের গতি৩) পার্বত্য ও উচ্চ সমভূমি অঞ্চলে নদী স্রোতের গতিবেগ প্রবল হয়, নিম্নভূমিতে নদী স্রোতের গতিবেগ ধীরে ধীরে কমে আসে ।৩) বেশিরভাগ সময়েই হিমবাহ অত্যন্ত ধীরগতিতে প্রবাহিত হয় ।
৪) ক্ষয়ের প্রকৃতি৪) নদী উপত্যকায় ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট পাথরখন্ডগুলির আকৃতি গোলাকার ও মসৃণ হয় ।৪) হিমবাহ উপত্যকায় ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট পাথরখন্ডগুলি কোনো নির্দিষ্ট আকার থাকে না এবং আকৃতিতে এরা এবড়ো খেবড়ো হয় ।
৫) ভূমিরূপের পার্থক্য৫) নদীর সঞ্চয় কাজের ফলে নদী উপত্যকায় প্লাবনভূমি, স্বাবাভিক বাঁধ, বদ্বীপ প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।৫) হিমবাহের সঞ্চয় কাজের ফলে হিমবাহ উপত্যকায় গ্রাবরেখা, ড্রামলিন, টিলা, কেম প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন:- ৬. নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার আকৃতির পার্থক্যের কারণ কী ?
নদী-উপত্যকা ও হিমবাহের উপত্যকার পার্থক্যের কারণ:- নদী উপত্যকার আকৃতি ইংরেজী I অথবা V -এর মতো, কিন্তু হিমবাহ উপত্যকার আকৃতি U-এর মতো হয়, এর কারণ হল:-
১) নদীর উচ্চগতিতে ভূমির ঢাল বেশি হওয়ায় নদী প্রবল গতিবেগ সম্পন্ন হয় এবং নদী শুধুই নীচের দিকে ক্ষয় করে । এর ফলে নদী উপত্যকার আকৃতি ইংরেজি I -এর মতো হয় ।
২) ক্রমশ নদী উপত্যকার পার্শ্বদেশ বৃষ্টির জল, আবহবিকার বা ধসের ফলে ক্ষয় পেতে থাকলে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকা সংকীর্ণ V -এর মতো হয় ।
৩) নদীর অন্যান্য গতিতে নদী-উপত্যকা নীচের দিকে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না বললেই চলে । পরিবর্তে নদী-উপত্যকা পাশের দিকে ক্ষয় হয়, ফলে নদী উপত্যকা সংকীর্ণ V -এর পরিবর্তে প্রশস্ত V-এর আকার নেয় ।
হিমবাহ যখন উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন সেখানে হিমবাহের নিম্নক্ষয় ও পার্শ্বক্ষয় প্রায় সমানভাবে হতে থাকে । এক্ষেত্রে হিমবাহের ক্রমাগত ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়ের ফলে উপত্যকাটি বরফমুক্ত হলে দেখা যায় যে:- (ক) হিমবাহের তলদেশ বেশ প্রশস্ত, (খ) পার্শ্বদেশ বেশ খাড়া এবং, (গ) আড়াআড়ি পার্শ্বদেশ অনেকটা ইংরেজি U অক্ষরের মতো দেখতে হয় ।
প্রশ্ন:- ৭. পললশঙ্কু ও ব-দ্বীপের মধ্যে পার্থক্য:-
পলল শঙ্কু ও বদ্বীপের মধ্যে পার্থক্য
পললশঙ্কু
ব-দ্বীপ
১) পর্বতের পাদদেশে সমভূমিতে প্রবেশের মুখে নদীর মধ্যগতিতে পার্বত্য অঞ্চলের শিলাখন্ড, নুড়ি, বালি, কাদা প্রভৃতি নদীতে সঞ্চিত হয়ে পললশঙ্কু গঠিত হয়।
১) মোহনার কাছে নদীর নিম্নগতিতে নদীবাহিত শিলাখন্ড, নুড়ি, বালি, কাদা প্রভৃতি পদার্থ নদীর মোহনা কিংবা সাগর বা হ্রদের অগভীর অংশে সঞ্চিত হয়ে ব-দ্বীপ গঠিত হয়।২) পললশঙ্কু সাধারণত তিনকোণা হাতপাখা আকৃতির হয়। এদের নীচের অংশ চওড়া কিন্তু উপরের অংশ ক্রমশ সরু হয়ে শঙ্কুর আকৃতি ধারণ করে ।
২) ব-দ্বীপ হল নদীর মোহনায় মাত্রাহীন বাংলা ব -অক্ষরের এর মত ত্রিকোণাকার এক রকম দ্বীপ [∆] ।
৩) পললশঙ্কুর আয়তন ব-দ্বীপের তুলনায় কম ।৩) ব-দ্বীপ পললশঙ্কুর তুলনায় আয়তনে অনেক বড়ো হয় ।
প্রশ্ন:- ৮. বায়ু কোন কোন প্রক্রিয়ায় ক্ষয়সাধন করে ?
বায়ু প্রধানত তিনভাবে ক্ষয়কার্য করে, যথা-(ক)অবঘর্ষ [Abrasion],(খ)ঘর্ষণ [Attrition] (গ)অপসারণ [Deflation]।
(ক)অবঘর্ষ[Abrasion]: বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে ভাসমান বালি, ছোটো ছোটো পাথরখন্ড, শক্ত কোয়ার্টজ কণা প্রভৃতির সঙ্গে ঘর্ষণে শিলাস্তর ক্ষয় পায়, এই প্রক্রিয়াকেঅবঘর্ষ[Abrasion]বলে । অবঘর্ষের ফলে শিলাস্তরে আঁচড়ের মত গভীর দাগ বা মৌচাকের মতো অসংখ্য ছোটো ছোটো গর্তের সৃষ্টি হয় । কঠিন শিলাস্তরের চেয়ে কোমল শিলাস্তরে অবঘর্ষের পরিমাণ বেশি হয় ।
(খ)ঘর্ষণ [Attrition]: মরূভূমিতে প্রবলবেগে বায়ুপ্রবাহের ফলে বড়ো বড়ো পাথরগুলো পরস্পরের সঙ্গে ঠোকাঠুকি লেগে অথবা ঘষা খেয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়ে অবশেষে ছোটো ছোটো গোলাকৃতি বালিকণায় পরিণত হলে তাকেঘর্ষণ [Attrition]প্রক্রিয়া বলে । বায়ুর ঘর্ষণ প্রক্রিয়ায় মরুভূমি অঞ্চলে বড়ো বড়ো পাথরের খন্ডকে ক্ষয় করে বালিতে পরিণত করে ।
(গ)অপসারণ [Deflation]: প্রবল বায়ুপ্রবাহের ফলে মরুভূমির শিথিল বালুকারাশি এক স্থান থেকে অপর স্থানে স্থানান্তরিত হলে তাকেঅপসারণ [Deflation]বলা হয়।
প্রশ্ন:- ৯. বায়ু কী কী প্রক্রিয়ায় বহন করে ?
ক্ষয়কাজের পর বায়ুর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ হল বহন প্রক্রিয়া । বায়ু তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহন কাজ সম্পন্ন করে থাকে, যথা- ১) ভাসমান প্রক্রিয়া, ২) লম্ফদান প্রক্রিয়া এবং ৩) গড়ানো প্রক্রিয়া ।
১)ভাসমান প্রক্রিয়া:প্রবল বায়ুপ্রবাহে মরু অঞ্চলের বালি, ধূলিকণা প্রভৃতি অতি সূক্ষ্মকণা বায়ুতে ভাসমান অবস্থায় একস্থান থেকে অন্য স্থানে বাহিত হয় । একেভাসমান প্রক্রিয়াবলে ।
২)লম্ফদান প্রক্রিয়া:অপেক্ষাকৃত বড়ো ও ভারী শিলাখন্ডগুলো বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে ভূমিতে ঠক্কর খেতে খেতে সন্মুখে এগিয়ে চলে । এই প্রক্রিয়াকেলম্ফদান প্রক্রিয়াবলে ।
৩)গড়ানো প্রক্রিয়া: বড়ো বড়ো বালুকণা ও প্রস্তরখন্ড ভারী হওয়ায় বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না । এগুলি মাঝে মাঝে প্রবল বায়ুপ্রবাহের টানে ভূমির সাথে গড়িয়ে গড়িয়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে বাহিত হয় । একেগড়ানো প্রক্রিয়াবলে।
বায়ুবাহিত বালুকণার লম্ফদান প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বালি মরুভূমিতে একস্থান থেকে অন্যস্থানে বাহিত হয়।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s