Landforms Mountain Plateau Plains Big Questions and Answers Part 2


প্রশ্ন-১. মালভূমি[Plateau]সৃষ্টির কারণগুলি সংক্ষেপে বর্ণনা করো ।
উত্তর: ভূপৃষ্ঠে মালভূমি [Plateau] সৃষ্টি হওয়ার তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে, যেমন-
১) ভূপৃষ্ঠের ক্ষয়ীভন,
২) ভূ-আন্দোলন ও পাত সঞ্চালন এবং
৩) ভূপৃষ্ঠে লাভা সঞ্চয়।
১)ভূ-পৃষ্ঠের ক্ষয়ীভবন:দীর্ঘ দিন ধরে নদী, হিমবাহ, সূর্যতাপ কিংবা বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে পার্বত্য অঞ্চল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে মালভূমিতে [Plateau] পরিণত হয়।
উদাহরণ:অ্যাপালেশিয়ান পর্বতমালারঅ্যালিঘেনি মালভূমি, মধ্যভারতেরবুন্দেলখন্ড ও বাঘেলখন্ডপ্রভৃতি মালভূমি গুলি ভূপৃষ্ঠের ক্ষয়ীভবনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে ।
২)ভূ-আন্দোলন ও পাত সঞ্চালন:ভূত্বক কয়েকটি গতিশীল পাত বা টেকটনিক প্লেট-এ বিভক্ত । গুরুমন্ডল বা ম্যান্টলের ওপর দিয়ে এইসব গতিশীল পাতগুলির সঞ্চারণশীলতা হল মালভূমি [Plateau] সৃষ্টির অন্যতম কারণ । পাত সঞ্চালনের ফলে ভূমিকম্প আর ভূমিকম্পের ফলে ভঙ্গিল পর্বতের [Fold mountain] সৃষ্টি হলে দুটি ভঙ্গিল পর্বতের মধ্যবর্তী অঞ্চল পর্বতবেষ্টিত মালভূমিতে [Intermontane Plateau] পরিণত হয় (যেমন, তিব্বত মালভূমি) । অনেক বিজ্ঞানির মতে, ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হওয়া মালভূমিগুলিকে দু ভাগে বিভক্ত করা যায়, যেমন-
১) দুটি ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণির মধ্যবর্তী মালভূমি (যেমন, তিব্বত মালভূমি)। এবং
২) পর্বত গঠনকালে ভূপৃষ্ঠের চ্যুতির ফলে উৎপন্ন মালভূমি, (যেমন- পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন মালভূমি)। তবে এই জাতীয় মালভূমির [Plateau] উচ্চতা স্তূপ পর্বতের [Block Mountain] তুলনায় কম হয়।
উদাহরণ:প্রবল ভূমিকম্পের ফলে প্রাচীন গন্ডোয়ানাল্যান্ড ও আঙ্গারাল্যান্ডের মহাদেশীয় পাতগুলি পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দাক্ষিণাত্য মালভূমি, আরব মালভূমি, ব্রাজিল মালভূমি, আফ্রিকার মালভূমি এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মালভূমির সৃষ্টি করেছে ।
৩)ভূপৃষ্ঠে লাভা সঞ্চয়:কোনো রকম বিস্ফোরণ ছাড়াই ভূপৃষ্ঠের একাধিক ফাটল বা সুড়ঙ্গপথে ভূগর্ভ থেকে নির্গত লাভা ভূপৃষ্ঠে যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত হয়ে লাভা গঠিত মালভূমি [Lava Plateau] সৃষ্টি করে।
উদাহরণ:দাক্ষিণাত্যের ডেকানট্র্যাপ ।
প্রশ্ন-২. মালভূমির [Plateau]বৈশিষ্ট্য কী কী ?
উত্তর: সমুদ্র সমতল থেকে ৩০০ মিটার উঁচু, চারপাশে খাড়া ঢাল যুক্ত বিস্তীর্ণ ভূ-ভাগকে মালভূমি [Plateau] বলে।
মালভূমির[Plateau]বৈশিষ্ট্য:- উচ্চতা ছাড়াও মালভূমির [Plateau] অন্য যেসব উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেগুলো হল—
১) বিস্তীর্ণ উচ্চভূমি,
২) যার উপরিভাগ প্রায় সমতল বা কিছুটা তরঙ্গায়িত,
৩) চারদিকে ঢাল বেশ বেশি,
৪) দেখতে অনেকটা টেবিলের মতো বলে, যার আর এক নাম টেবিল ল্যান্ড [Table Land] এবং
৫) উচ্চতা ৩০০ মিটারের বেশি।
প্রশ্ন-৩. পর্বতবেষ্টিত মালভূমির[Intermontane Plateau]সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: ভূ-আন্দোলনের ফলে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হওয়ার সময় দুটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণির মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত নীচু স্থানগুলো চাপের ফলে কিছুটা উঁচু ও খাড়া ঢালযুক্ত হয়ে মালভূমির আকৃতি নেয়। চারিদিকে পর্বতবেষ্টিত থাকায় এই জাতীয় মালভূমিগুলিকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি [Intermontane Plateau] বলা হয়।
উদাহরণ:তিব্বত মালভূমি, ইরানের মালভূমি প্রভৃতি পর্বতবেষ্টিত মালভূমির [Intermontane Plateau] উদাহরণ ।
প্রশ্ন-৪. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি[Intermontane Plateau]কীভাবে সৃষ্টি হয় বিস্তারির ভাবে আলোচনা কর ?
উত্তর:
১) ভূ-ত্বক [Lithosphere] কয়েকটি গতিশীল পাত বা টেকটনিক প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত, যারা গুরুমন্ডলের নীচের দিকে অতি উত্তপ্ত, তরল ম্যাগমা স্তরের ওপর ভেসে থাকে ।
২) ভয়ংকর উত্তাপের ফলে ভূগর্ভের ম্যাগমা স্তরে যে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয়, তার ফলে এই পাতগুলি অতি ধীরগতিতে বছরে প্রায় ১০ মিলিমিটার গতিতে চলতে থাকে ।
৩) দুটি পাত যখন পরস্পরের মুখোমুখি হয় তখন ওই দুটি পাতের সংযোগরেখা বরাবর শিলাচ্যুতি এবং ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
৪) পাত সঞ্চালনের ফলে ভূমিকম্পের ফলশ্রুতিতে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হলে দুটি ভঙ্গিল পর্বতের মধ্যবর্তী অঞ্চল মালভূমিতে পরিণত হয় । চার দিকে পর্বত বেষ্টিত হওয়ায় এই সব মালভূমিগুলিকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি [Intermontane Plateau] বলে।
উদাহরণ:মধ্য এশিয়ারপামির মালভূমি,তিব্বত মালভূমিপ্রভৃতি মালভূমিগুলি পর্বতবেষ্টিত মালভূমির [Intermontane Plateau] উদাহরণ ।
প্রশ্ন-৫. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির[Dissected Plateau]বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো ।
উত্তর: নদীপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ, বৃষ্টির জল প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা কোনো প্রাচীন ও বিস্তীর্ণ মালভূমি ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হলে এক বা একাধিক নদী ও তাদের শাখাপ্রশাখা ধীরে ধীরে মালভূমিকে ছোটো ছোটো অংশে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এই ভাবে কোনো বিস্তীর্ণ মালভূমি অঞ্চল সংকীর্ণ নদী উপত্যকার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হলে তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি [Dissected Plateau] বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য:-
১) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি [Dissected Plateau] অঞ্চলগুলি কঠিন ও কোমল- এই দুই ধরনের শিলাতেই গঠিত হয়ে থাকে;
২) হিমবাহ, নদী, ঝড়বৃষ্টি, বাতাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয় পেয়ে কোমল শিলা অপসারিত হলে কঠিন শিলা গঠিত স্থানগুলি নাতিউচ্চ পাহাড় বা টিলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে;
৩) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি [Dissected Plateau] সাধারণত বিভিন্ন নদীউপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়;
৪) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি [Dissected Plateau] থেকে সৃষ্টি হওয়া বেশিরভাগ পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় একই রকমের হয়;
৫) এই ধরনের মালভূমি বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে অবশেষে তা বহু পাহাড় ও উপত্যকার সমষ্টিতে পরিণত হয়;
৬) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি মোটামুটি সমতল কিন্তু মৃদু ঢাল যুক্ত হয়।
উদাহরণ: ভারতের পূর্বঘাট ও পশ্চিম ঘাট পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি [Dissected Plateau] দেখা যায়।
১) পূর্বভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি,
২) মধ্যভারতের অন্তর্গত বুন্দেলখন্ড ও বাঘেলখন্ড মালভূমি এবং
৩) দক্ষিন ভারতের কর্ণাটক মালভূমির মালনাদ অঞ্চল ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির [Dissected Plateau] নিদর্শন ।
প্রশ্ন-৬. ভারতে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি[Dissected Plateau]কীভাবে সৃষ্টি হয় ? উদাহরণ দাও।
উত্তর: নদীপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টির জল প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা কোনো প্রাচীন ও বিস্তীর্ণ মালভূমি অঞ্চল ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হলে এক বা একাধিক নদী ও তাদের শাখাপ্রশাখা ধীরে ধীরে ওই ক্ষয়প্রাপ্ত মালভূমি অঞ্চলকে ছোটো ছোটো অংশে বিচ্ছিন্ন করে ফেললে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির [Dissected Plateau] সৃষ্টি হয় । এই ভাবে কোনো বিস্তীর্ণ মালভূমি অঞ্চল সংকীর্ণ নদী উপত্যকার দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির [Dissected Plateau] সৃষ্টি করে ।
উদাহরণ:
১) কর্ণাটক মালভূমির মালনাদ অঞ্চলটি কাবেরী ও তার বিভিন্ন উপনদী (সিমসা, হিমবতী, ভবানী প্রভৃতি) দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির [Dissected Plateau] সৃষ্টি করেছে।
২) ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলটি দামোদর, সুবর্ণরেখা, বরাকর, কোয়েল প্রভৃতি নদীর সংকীর্ণ উপত্যকার দ্বারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির [Dissected Plateau] সৃষ্টি করেছে।
প্রশ্ন-৭. লাভা মালভূমিতে [Lava Plateau]চ্যাপ্টা মাথা যুক্ত পাহাড় সৃষ্টি হয় কেন ?
উত্তর: আগ্নেয়গিরির প্রবল অগ্নুৎপাত অথবা বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে ভূপৃষ্ঠের একাধিক দূর্বল অংশ বা ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূগর্ভের গুরুমন্ডল বা ম্যান্টল স্তর থেকে ব্যাসল্ট জাতীয় উত্তপ্ততরল শিলা স্রোত বা ম্যাগমাবেরিয়ে এসেলাভারূপে সেই ভূখন্ডে জমা হতে থাকে। শক্ত ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত এই লাভা শীতল ও কঠিন হয়ে দাক্ষিণাত্যের উত্তর-পশ্চিম অংশে লাভা মালভূমির [Lava Plateau] সৃষ্টি করেছে। ব্যাসল্ট জাতীয় কঠিন আগ্নেয় শিলায় গঠিত হওয়ায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে কোটি কোটি বছর ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া সত্বেও লাভা মালভূমি [Lava Plateau] অঞ্চলের পাহাড়গুলি পুরোপুরি ক্ষয়ে না গেলেও ক্ষয়ের ফলে এইসব পাহাড়ের শীর্ষদেশ চ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছে।
প্রশ্ন-৮. তির্যক মালভূমি কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।
উত্তর: প্রবল ভূমিকম্পে বিস্তীর্ণ ভূখন্ড একদিকে কাত হয়ে বা হেলে গিয়ে যে মালভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে তির্যক মালভূমি বলে। যেমন, দাক্ষিণাত্য মালভূমিটি পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে কাত হয়ে আছে।
উদাহরণ:- ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি, মেঘালয় মালভূমি, ইউরোপে স্পেনের মেসেটা মালভূমি, দক্ষিন আমেরিকার ব্রাজিল মালভূমি প্রভৃতি হল তির্যক মালভূমির উদাহরণ ।
প্রশ্ন-৯. যে-কোনো তিন ধরনের মালভূমি ব্যাখ্যা করো ।
উত্তর:-
১) ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হওয়া মালভূমি, যেমন- পর্বতবেষ্টিত মালভূমি [Intermontane Plateau] ,
২) ভূপৃষ্ঠের ক্ষয়ের ফলে সৃষ্টি হওয়া মালভূমি, যেমন- ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি [Dissected Plateau],
৩) ভূপৃষ্ঠে সঞ্চয়ের ফলে গঠিত মালভূমি, যেমন- লাভাগঠিত মালভূমি [Lava Plateau]।
১)পর্বত বেষ্টিত মালভূমি[Intermontane Plateau]:ভূমিকম্পের ফলে ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণি [Fold Mountain] সৃষ্টি হওয়ার সময় দুটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণির মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত নীচু স্থানগুলি কিছুটা উঁচু ও খাড়া ঢালযুক্ত হয়ে মালভূমির [Plateau] আকৃতি নেয়। চারি দিকে পর্বতবেষ্টিত হওয়ায় এই সব মালভূমিকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি [Intermontane Plateau] বলে।
উদাহরণ:মধ্যএশিয়ারপামির মালভূমি, তিব্বত মালভূমি, ইরানের মালভূমি, আনাতোলিয়ার মালভূমি, বলিভিয়ার মালভূমিপ্রভৃতি মালভূমিগুলি পর্বতবেষ্টিত মালভূমির উদাহরণ ।
২)ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি[Dissected Plateau]:নদীপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ, বৃষ্টির জল প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা কোনো প্রাচীন ও বিস্তীর্ণ মালভূমি ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হলে, নরম শিলায় গঠিত অংশ বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং কঠিন শিলায় গঠিত অংশ কম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে । পরবর্তী কালে নীচু অংশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়ে উঁচু অংশগুলোকে ছোটো ছোটো অংশে বিভক্ত করে বা বিচ্ছিন্ন করে, তাই একে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি [Dissected Plateau] বলে।
উদাহরণ:ছোটনাগপুরের মালভূমি।
৩)লাভাগঠিত মালভূমি[Lava Plateau] :ভূবিজ্ঞানীদের মতে, আজ থেকে প্রায় ১৩-১৪ কোটি বছর আগে ভূগর্ভের গুরুমন্ডল বা ম্যান্টল অঞ্চল থেকে অতি উত্তপ্ত তরল লাভা স্রোত বহু ফাটলের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে এসে কোনো রকম বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিম ভাগের প্রায় ৫ লক্ষ কিলোমিটার অঞ্চলকে লাভায় ঢেকে ফেলে ছিল, কালক্রমে যা জমাট বেঁধে দাক্ষিণাত্য মালভূমি সৃষ্টি করেছে । মধ্যপ্রদেশ ও কাথিয়াওয়াড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই রকম লাভা গঠিত মালভূমি দেখা যায়।
প্রশ্ন-১০. দুটি উল্লেখযোগ্য মালভূমির বিবর্তন আলোচনা করো।
ছোটনাগপুর মালভূমির বিবর্তন[ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি]
১) আজ যেখানে হিমালয় পর্বত দাঁড়িয়ে আছে , বহু কোটি বছর আগে সেখানেটেথিস সাগরনামে একটি অগভীর সমুদ্রের দক্ষিণে আগ্নেয় শিলায় গড়াগন্ডোয়ানাল্যান্ডনামে বহু প্রাচীন একটি বিস্তীর্ণ স্থলভাগ ছিল ।
২) ভূত্বকে পাতসঞ্চালনের প্রভাবে প্রবল ভূমিকম্পের ফলে সুবিস্তীর্ণ গন্ডোয়ানা ভূখন্ডটি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে দক্ষিন ভারত, আরব প্রভৃতি স্থানে মহাদেশীয় মালভূমিতে পরিণত হয় । ছোটনাগপুরের মালভূমিটি হল পৃথিবীর প্রাচীনতম ভূখন্ড গন্ডোয়ানা ল্যান্ডের অংশবিশেষ- যা অতি প্রাচীন প্রায় ১০০ কোটি বছর আগের প্রিক্যামব্রিয়ান যুগের আগ্নেয় (গ্রানাইট) এবং রূপান্তরিত (নাইস) শিলায় গড়া ।
৩) পরবর্তীকালে সূর্যকিরণ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গেলে বিভিন্ন নদনদী ও তাদের শাখা-প্রশাখা সুপ্রাচীন এই মালভূমি অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমিতে [Dissected Plateau] পরিণত করে।
৪) যুগ যুগ ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে বর্তমানে ছোটনাগপুর মালভূমি পূর্ব দিকের অংশটি সমপ্রায় ভূমিতে পরিণত হয়েছে যার মাঝে মধ্যে অপেক্ষাকৃত কঠিন শিলায় গঠিত নাতিউচ্চ ছোটো ছোটো পাহাড় বামোনাডনকদেখা যায় (যেমন, পরেশনাথ ও পাঞ্চেত পাহাড়) ।
লাভাগঠিত ডেকান্ট্রাপ মালভূমির বিবর্তন: ছয় সাত কোটি বছর আগে ভূপৃষ্ঠের অসংখ্য ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূগর্ভের অতি উত্তপ্ত তরল শিলা বা ম্যাগমা [Magma] কোনো বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে অতি ধীর গতিতে লাভা রূপে বেরিয়ে এসে দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিম অংশের প্রায় পাঁচ লক্ষ বর্গমিটার বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে প্রধানত ব্যাসল্ট জাতীয় নিঃসারী আগ্নেয় শিলায় ঢেকে ফেলে ছিল । পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি, যেমন- রোদ, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ, নদী প্রভৃতির ক্ষয়কাজের প্রভাবে এই মালভূমি অঞ্চলের ওপরের অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমানের আকার ধারণ করেছে । ব্যাসল্ট জাতীয় আগ্নেয় শিলায় গঠিত হওয়ায় এই অঞ্চলের পাহাড়গুলির শীর্ষদেশ চ্যাপ্টা এবং পার্শ্বদেশ পশ্চিম থেকে পূর্বে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে ঢালু হয়ে নীচের দিকে নেমে যাওয়ায় দাক্ষিণাত্যর মালভূমির উত্তর-পশ্চিমের এই অঞ্চলটিকে ডেকানট্রাপ বলা হয় । সুইডিস ভাষায় ট্রাপ কথাটির অর্থ হল সিঁড়ি ।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s