Weathering Big Questions and Answers Part 2


**Weathering Big Questions and Answers Part-2 :-
প্রশ্ন-১. জৈবিক আবহবিকার[Organic Weathering]কাকে বলে ?
উত্তর:- জৈবিক আবহবিকার হল যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] -এর একটি বিশেষ রূপ । গাছপালার শিকড় শিলাস্তরের মধ্যে ঢুকে ফাটল ধরিয়ে যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] ঘটায় । যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকার ছাড়াও উদ্ভিদ ও প্রাণীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিলাখন্ডকে চূর্ণ বিচুর্ণ করে থাকে । ইঁদুর, খরগোশ, প্রেইরি কুকুর, পিঁপড়ে, কেঁচো, উই প্রভৃতি মৃৎভেদী প্রাণীরা মাটিতে গর্ত খুঁড়ে ভেতরের শিলাচূর্ণ, মাটি ইত্যাদি উপরের পৃষ্ঠে নিয়ে আসে । এভাবে উদ্ভিদ এবং প্রাণীজগৎ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিলাখন্ডকে চূর্ণবিচূর্ণ করে থাকে । এরকম আবহবিকার [Weathering] কেজৈবিক আবহবিকার[Organic Weathering]বলে ।
প্রশ্ন-২. কীভাবে জৈবিক আবহবিকার[Organic Weathering]সংঘটিত হয় ?
উত্তর:- জৈবিক বিচূর্ণীভবন বিভিন্ন ক) উদ্ভিদ এবং খ) প্রাণীর সাহায্যে হতে পারে ।
ক) উদ্ভিদের সাহায্যে বিচূর্ণীভবন:-
১) উদ্ভিদ, লতাপাতা প্রভৃতি জলে পচে যে জৈব অম্লের সৃষ্টি হয় তার সংস্পর্শে এলে শিলাগঠিত খনিজে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে কালক্রমে খনিজ বিয়োজিত হয়ে শিলা ক্ষয়ীত হয়;
২) এছাড়াও শিলার ফাটল দিয়ে উদ্ভিদের শিকড় শিলার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিস্তার লাভ করে এবং শিলাকে চূর্ণবিচূর্ণ হতে সাহায্য করে ।
খ) প্রাণীর সাহায্যে বিচূর্ণীভবন:-
১) প্রেইরি কুকুর, খরগোশ, ছুঁচো, ইঁদুর, কেঁচো প্রভৃতি মৃৎভেদী প্রাণী ভূপৃষ্ঠে গর্ত করে বাসস্থান নির্মান করতে গিয়ে মৃত্তিকার দৃঢ়তা নষ্ট করে একে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে সাহায্য করে ।
২) বিভিন্ন ধরনের কীট, জীবাণু এবং ব্যাকটিরিয়ার দেহ-নিঃসৃত রসের মাধ্যমে শিলায় আবহবিকার [Weathering] হয় ।
প্রশ্ন- ৩. মরুভূমি অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার[Mechanical Weathering]সর্বাধিক হয় কেন ?
তাপের দ্রুত পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে শিলাস্তর ফেটে ছোটো ছোটো খন্ড বা চূর্ণে পরিণত হয়ে যখন মূল শিলার ওপরে অবস্থান করে এবং তার মধ্যে যখন কোনোরকম রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে না, তখন তাকেযান্ত্রিক আবহবিকার[Mechanical Weathering] বলে । আদ্রতার অভাবে মরু অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার ঘটে না । মরুভূমি অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার সর্বাধিক হয়, কারণ:-
১) শিলা তাপের সুপরিবাহী না হওয়ায় উষ্ণ অঞ্চলে উষ্ণতার তারতম্যের ফলে শিলাস্তরের ক্রমাগত প্রসারণ ও সংকোচন ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে শিলাস্তর ফেটে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ছোটো ছোটো অংশে বিভক্ত হয় এবং কালক্রমে পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল শিলা স্তরের ওপরে অবস্থান করে, একেখন্ডবিখন্ডিকরণ[Block Disintegration] বলে।
২) অনেক সময় প্রখর সূর্যকিরণে উত্তপ্ত শিলা নীচের স্তরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পেঁয়াজের খোসার মতো হয়ে যায়, একেশল্কমোচন[Exfoliation] বাগোলাকৃতি বিচূর্ণীভবনবলে ।
৩) মরুভূমি অঞ্চলে সূর্যের প্রচন্ড তাপে মোটা দানা যুক্ত শিলা ভীষণ ভাবে শব্দ করে ফেটে যায়, একেক্ষুদ্রকণা বিশরণ[Granular Disintegration]বলে। এ সবই যান্ত্রিক আবহবিকারের উদাহরণ । মরুভূমি অঞ্চলে দিনরাত্রি এবং শীত ও গ্রীষ্মকালে উষ্ণতায় পার্থক্য অন্যান্য জলবায়ু অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি হয় বলে মরুভূমি অঞ্চলেযান্ত্রিক আবহবিকারেরহার সর্বাধিক ।
প্রশ্ন-৪. ক্ষয়ীভবন:-ক্ষয়ীভবন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আবহবিকারের ফলে সৃষ্টি হওয়া শিলাচূর্ণগুলি স্থানান্তরিত হয়, অর্থাৎ ক্ষয়ীভবনের সঙ্গে অপসারণ যুক্ত । ক্ষয়ীভবনের সময় আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান ছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যথা- বৃষ্টিপাত, হিমবাহ প্রবাহ বা বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতির প্রভাবে শিলার ক্ষয়প্রাপ্তি ঘটে যার ফলে মূল শিলাস্তরের অভ্যন্তর ভাগ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে । ক্ষয়ীভবনের ফলে ভূমিরূপের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটলেও শিলার মূল বৈশিষ্ট্য যেমন- গঠন, খনিজের বিন্যাস প্রকৃতি প্রভৃতির পরিবর্তন ঘটে না ।
প্রশ্ন-৫. নগ্নীভবন বলতে কী বোঝায় ?
উত্তর :-আবহবিকার হল শুধুমাত্র শিলার ওপরের অংশের বিচ্ছিন্নকরণ বা বিয়োজন । আবহবিকারের ফলে ভূত্বকের শিলাসমূহের উপরিভাগ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে মূল শিলা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সেখানেই পড়ে থাকে, কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় শিলার বিচূর্ণীকৃত অংশগুলি অপসারিত হয় না । অপরদিকে, আবহবিকার ফলে সৃষ্ট শিলাচূর্ণগুলো যা মূল শিলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেখানেই পড়ে থাকে তা নদী, হিমবাহ, বায়ুপ্রবাহ বা বৃষ্টিপাতের দ্বারা মূল শিলা থেকে অন্যত্র অপসারিত হলে তাকে ক্ষয়ীভবন বলে । অর্থাৎ ক্ষয়ীভবন হল ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরের বিচূর্ণীকরণ, বিচ্ছিন্নকরণ এবং স্থানচ্যুতিকরণের সন্মিলিত ফল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আবহবিকারের ফলে ভুত্বকের উপরিভাগের শিলাসমূহ চূর্নবিচূর্ণ হয়, কিন্তু অপসারিত হয় না । ক্ষয়ীভবনের সাহায্যেই ভূত্বকের শিলাসমূহ অপসারিত হয় । সুতরাং আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য এই যে, আবহবিকারের সঙ্গে অপসারণ যুক্ত নয়, কিন্তু ক্ষয়ীভবনের সঙ্গে অপসারণ যুক্ত । আবহবিকার প্রক্রিয়াটি যেখানে শেষ হয়, ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়াটি সেখানে শুরু হয় । আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন হল সম্পূর্ণ পৃথক দুটো প্রক্রিয়া, আর এই প্রক্রিয়া দুটিকে একসঙ্গে নগ্নীভবন বলা হয়।
প্রশ্ন-৬ . জলদ্বারা সংঘটিত আবহবিকার:-
১) বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে জল বছরের পর বছর ধরে আঘাত করে করে শিলাখন্ডগুলোকে দুর্বল করে ফেলে এবং এতে শিলাখন্ডগুলো ক্রমশ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়;
২) বৃষ্টির জল নরম পাললিক শিলা এবং শিলাস্তরকে আর্দ্র করে তোলে । পরে সূর্যের উত্তাপে এই জল বাষ্পে পরিণত হয় এবং শিলাগুলো আবার শুষ্ক হয়ে যায় । শিলাস্তরের অভ্যন্তর ভাগে এইভাবে ক্রমাগত এবং বারংবার আদ্র ও শুষ্ক হওয়ার ফলে ছোটো ছোটো শিলাখন্ডের (Flake) সৃষ্টি হয়, যা শিলাস্তরের বিচূর্ণীভবনে সাহায্য করে;
৩) শিলাস্তরে বৃষ্টির জল ঢুকে শিলাস্তরকে আর্দ্র করে তুললে এবং আদ্রতা বৃদ্ধির জন্য শিলার মধ্যে অবস্থিত খনিজ পদার্থগুলোর আয়তন বৃদ্ধি পায়। এই আয়তন বৃদ্ধির ফলে কোনোরকম রাসায়নিক পরিবর্তন ছাড়াই শিলাস্তরে ফাটল ধরে এবং কালক্রমে শিলাস্তরটি খন্ড বিখন্ড হয়ে যায়;
৪) নদীর জল যখন দ্রুতগতিতে শিলাস্তরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন নদীর জলপ্রবাহের মধ্যবর্তী বায়ুর চাপের ফলে নদীপ্রবাহের নিম্নবর্তী শিলাস্তর ভেঙে চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে যায় ।
প্রশ্ন- ৭. শিলায় মরিচা পড়ে কেন ?
শিলায় মরিচা পড়া হল রাসায়নিক আবহবিকারের [Chemical Weathering] অন্যতম উদাহরণ । শিলা গঠনকারী লৌহযুক্ত খনিজের সঙ্গে বায়ুমন্ডলের অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া হল শিলায় মরিচা পড়ার প্রধান কারণ । এই প্রক্রিয়ায় শিলার মূল লৌহ খনিজ ‘ফেরাস অক্সাইড’ জারিত হয়ে ‘ফেরিক অক্সাইডে পরিণত হয়, ফলে শিলার ওপর বাদামি রঙের মরিচার আস্তরণ পড়ে ।
প্রশ্ন-৮. শিলার জারণ [Oxidation]কীভাবে ঘটে ?
উত্তর:- লৌহমিশ্রিত খনিজের সঙ্গে অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে শিলার জারণ [Oxidation] ঘটে । জারণের ফলে লৌহমিশ্রিত শিলার মূল খনিজ ফেরাস অক্সাইড ফেরিক অক্সাইডেপরিণত হয়ে লিমোনাইটের সৃষ্টি হয় ।
যথা—
অর্থাৎ লৌহ মিশ্রিত শিলার মূল খনিজ ফেরাস অক্সাইড জল অক্সিজেন = ফেরিক অক্সাইড বা লিমোনাইট
প্রশ্ন-৯. যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকার কোন কোন জলবায়ু অঞ্চলে বেশি ভাবে দেখা যায় ?
উত্তরঃ ১) ক) উষ্ণ ও শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চল, খ) উষ্ণ ও শুষ্ক মরু অঞ্চল গ) নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বেশি উচ্চতা যুক্ত স্থানে ঘ) শীতল পার্বত্য অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] বেশি দেখা যায় ।
২) বৃষ্টিবহুল উষ্ণ ও আদ্র জলবায়ু অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার [Chemical Weathering] বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় ।
প্রশ্ন-১০. কীরূপ জলবায়ু অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার বেশি ঘটে কারণসহ উল্লেখ করো ।
উত্তর:- বৃষ্টি বহুল উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে রাসায়নিক রাসায়নিক আবহবিকার বেশি ঘটে, কারণ:-
১) আর্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সময়ে বৃষ্টির জল বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইডের(CO2) সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে মৃদু অ্যাসিডে (কার্বনিক অ্যাসিড) পরিণত হয়, যা চুনা পাথরের সংস্পর্শে এলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে । এই বিক্রিয়ার ফলে চুনাপাথরের ক্যালসিয়াম কার্বনেট দ্রবীভূত হয়ে ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেটে পরিণত হয় । রাসায়নিক আবহবিকারের [Chemical Weathering] -এর কার্বোনিকরণ [Carbination] এর ফলে চুনাপাথরের সহজেই ক্ষয়প্রাপ্তি ঘটে।
২) বৃষ্টিবহুল আর্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সময় শিলা গঠনকারী লৌহ যুক্ত খনিজের সঙ্গে বায়ুমন্ডলের অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে শিলায় মরিচা পড়ে । রাসায়নিক আবহবিকার [Chemical Weathering] -এর জারণ [Oxidation] এর ফলে শিলার মধ্যস্থিত মূল লৌহ খনিজ ফেরাস অক্সাইড জারিত হয়ে ফেরিক অক্সাইডে পরিণত হয়ে হলুদ অথবা বাদামি রঙের লিমোনাইট নামে যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি করে, যার ফলে লৌহ যুক্ত শিলা খন্ড ভেঙে গিয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ।
৩) বৃষ্টিবহুল আর্দ্র অঞ্চলের শিলাস্তরের মধ্যে অবস্থিত কোনো খনিজ পদার্থের মধ্যে জল প্রবেশ করলে রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে সেই খনিজ পদার্থটি আয়তনে বৃদ্ধি পায় এবং অবশেষে ভেঙে গিয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় । হেমাটাইট নামে লৌহ আকরিক এবং কেলসপারের সঙ্গে জলযুক্ত হলে রাসায়নিক আবহবিকার [Chemical Weathering] -এর আর্দ্রকরণ [Hydration] ঘটে।
প্রশ্ন-১১. কীভাবে শিলার আবহবিকার ঘটে ?
উত্তর:-
১)আবহবিকার:- প্রচন্ড শৈত্য, গ্রীষ্মের দাবদাহ কিংবা দিন ও রাতের উষ্ণতার পার্থক্যের ফলে ভূপৃষ্ঠের শিলার ক্রমাগত সংকোচন ও প্রসারণ হয় এবং এর ফলে শিলাত্বকে ফাটল ধরে এবং শিলার ওপরের অংশ ক্রমশ চূর্ণবিচূর্ণ হতে থাকে । কালক্রমে বিভিন্ন ধরনের জৈবিক [Organic], রাসায়নিক [Chemical] এবং জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূর্ণবিচূর্ণ উপাদানগুলি বিশ্লিষ্ট ও স্তরীভূত হয়ে মাটির সৃষ্টি করে ।
২) ক্ষয়ীভবন:- বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ ইত্যাদি নানান প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে কিংবা আবহবিকারের জন্য ভূত্বকের উপরিভাগ ক্রমশ ক্ষয় পেয়ে মাটির সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়াকে ক্ষয়ীভবন বলে।
৩) নগ্নীভবন:- বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা ভূত্বকের উপরিভাগ চূর্ণবিচূর্ণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত হলে শিলার ওপরের অংশ আলগা হয়ে যাওয়ায় ঠিক তার নীচের স্তরটি ক্রমশ নগ্ন হয়ে পড়ে, এই প্রক্রিয়াকে নগ্নীভবন বলে। ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ পরে মাটির রূপ নেয় ।
প্রশ্ন-১২. যন্ত্রিক আবহবিকার ও রাসায়নিক আবহবিকারের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করো ।
উত্তরঃ যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকারের মধ্যে পার্থক্য:-
যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering]
রাসায়নিক আবহবিকার [Chemical Weathering]
১) বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে শিলাস্তর যখন ফেটে ছোটো ছোটো খন্ড বা চূর্ণে পরিণত হয়ে মূল শিলার ওপরে অবস্থান করে তখন তাকে যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] বলে ।
১) নানান রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিলা বিয়োজিত হওয়ার ঘটনাকে রাসায়নিক আবহবিকার [Chemical Weathering] বলে।
২) যান্ত্রিক আবহবিকারে [Mechanical Weathering] শিলার শুধুমাত্র বাহ্যিক (ভৌত) পরিবর্তন হয়, রাসায়নিক গঠনের কোনো পরিবর্তনন হয় না।
২) রাসায়নিক আবহবিকারে [Chemical Weathering] বাহ্যিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিলার মূল রাসায়নিক গঠনও পরিবর্তিত হয়।
৩) যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] প্রধানত তাপমাত্রার পরিবর্তনে, শিলাস্তরের মধ্যে চাপ হ্রাসের ফলে, জল তুষারে পরিবর্তিত হওয়ার ফলে চাপ বৃদ্ধিতে এবং মানুষ ও জীবজন্তু বা কীটপতঙ্গের কাজকর্মের ফলে সংঘটিত হয়।
৩) রাসায়নিক আবহবিকার [Chemical Weathering] প্রধানত অঙ্গারযোজন, জারণ, জলযোজন এবং দ্রবণের ফলে সংঘটিত হয়।
৪) যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] প্রধানত উষ্ণ মরু অঞ্চল, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল এবং শীতপ্রধান অঞ্চলের শুকনো আবহাওয়াযুক্ত অংশেই বেশি মাত্রায় সংঘটিত হয়।
৪) অপরপক্ষে রাসায়নিক আবহবিকার [Chemical Weathering] প্রধানত উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুযুক্ত নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলেই বেশিমাত্রায় সংঘটিত হয়।
৫) যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] সংঘটিত হওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে শব্দ সৃষ্টি হয়।
৫) রাসায়নিক আবহবিকার সংঘটিত হওয়ার সময়ে কোনো শব্দ সৃষ্টি হয় না ।
৬) যান্ত্রিক আবহবিকারের [Mechanical Weathering] বিভিন্ন পর্যায় হল:- পিন্ড বিশরণ [Block Disintegration], শল্কমোচন [Exfoliation], ক্ষুদ্রকণা বিশরণ [Granular Disintegration], তুহিন খন্ডীকরণ প্রভৃতি ।
৬) রাসায়নিক আবহবিকারের [Chemical Weathering] বিভিন্ন পর্যায় হল:- অঙ্গারযোজন [Carbonation], জারণ [Oxidation], জলযোজন [Hydration], দ্রবণ [Solution] প্রভৃতি ।
প্রশ্ন-১৩. আবহবিকারের ফলাফল কী কী ?
উত্তর:-
১) আবহবিকারের [Weathering] ফলে ভুত্বকের শিলাস্তর চূর্ণবিচূর্ণ হয় বলে নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আবহবিকারের যথেষ্ট প্রভাব আছে।
২) রাসায়নিক আবহবিকারের ফলে শিলার মধ্যে থাকা কয়েকটি খনিজ পদার্থ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিয়োজিত হওয়ায় বৃষ্টি বহুল ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে ল্যাটেরাইট, বক্সাইট, ইলমেনাইট প্রভৃতি খনিজ পদার্থ বেশি পাওয়া যায়।
৩) আবহবিকারের ফলে ভূত্বকের ওপর চূর্ণবিচূর্ণ শিলায় গঠিত ভূ-আস্তরণ বা রেগোলিথ (Regolith) সৃষ্টি হয় । প্রকৃত পক্ষে রেগোলিথ হল মৃত্তিকাময় শিথিল শিলাচূর্ণ ।
৪) আবহবিকারের ফলে শিলাচূর্ণ থেকে প্রচুর পরিমাণে বালির সৃষ্টি হয় ।
৫) রাসায়নিক আবহবিকাররে ফলে শিলাস্তরের কয়েকরকম খনিজ গলে যায় এবং এর ফলে মাটিতে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সার পাওয়া যায় ।
৬) আবহবিকার মৃত্তিকা গঠনে পরোক্ষ ভাবে সাহায্য করে ।
প্রশ্ন-১৪. জলবায়ুর সঙ্গে আবহবিকারের সম্পর্ক কী ?
উত্তর:- আবহবিকারের বিভিন্ন প্রক্রিয়া গুলো কম বেশি প্রায় সর্বত্র কাজ করলেও কোনো বিশেষ ধরনের আবহবিকার বিশেষ কোনো জলবায়ু অঞ্চলেই বেশি কাজ করে, যেমন-
১) উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চল, শীত প্রধান শুষ্ক অঞ্চল এবং শুষ্ক নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] পরিলক্ষিত হয় ।
২) উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার [Chemical Weathering] এর সংঘটন বেশি দেখা যায় ।
৩) আর্দ্র-নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে যান্ত্রিক [Mechanical Weathering] ও রাসায়নিক [Chemical Weathering]- এই দুই ধরনের আবহবিকারই [Weathering]দেখা যায় ।
প্রশ্ন-১৫. যান্ত্রিক আবহবিকার কোন ধরনের জলবায়ুতে বেশি ঘটে, কারণসহ তার উল্লেখ করো ।
উত্তর:- উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল, উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল এবং শীতল পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি ঘটে, কারণ:-
১) শিলা তাপের সুপরিবাহী না হওয়ায় উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চলে দিন বা রাত্রে শিলার ভিতরের ও বাইরের অংশের উষ্ণতার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য ঘটে । উষ্ণতার এই তারতম্যের ফলে উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চলে শিলা পর্যায়ক্রমে উত্তাপে প্রসারিত ও ঠান্ডায় সংকুচিত হতে থাকে । এই ঘটনা বারংবার ঘটায় শিলার সন্ধিস্থলগুলো আলগা হয়ে যায় ও ফাটলের সৃষ্টি হয় । ধীরে ধীরে এই ফাটলগুলো বড় হয়ে গেলে শিলাস্তরে ছোটো ছোটো চৌক টুকরো কিংবা পেঁয়াজের খোসার মতো গোলাকার অংশে বিভক্ত হয় এবং আলগা হয়ে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । এইসব যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] চৌকাকার বিচূর্ণীভবন বা খন্ডবিখন্ডিকরণ [Block Disinegration], গোলাকৃতি বিচুর্ণীভবন বা শল্কমোচন [Exfoliation] এবং ক্ষুদ্রকণা বিশরণ [Granular Disinegration] নামে পরিচিত ।
২) শীতল পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চলে দিনের বেলায় বা গ্রীষ্মকালে বরফ গলে গিয়ে অথবা বর্ষাকালে শিলাস্তরের ফাটলের মধ্যে জল সঞ্চিত হলে তা পরে শীতকাল বা রাত্রিবেলার অত্যধিক শৈত্যে জমে বরফে পরিণত হয় । জল বরফে পরিণত হলে আয়তনে শতকরা প্রায় ১০ ভাগ বৃদ্ধি পায় । এই বর্ধিত আয়তনের বরফ ফাটলের দুপাশের দেওয়ালে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি করে । এই চাপের ফলে ফাটল গুলোর আয়তন ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং শিলাস্তর ছোটো ছোটো খন্ডে পরিণত হয়। যান্ত্রিক আবহবিকারের এই প্রক্রিয়াকে তুহিন খন্ডীকরণ বলে । উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চল অথবা শীতল পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য সমভাবাপন্ন জলবায়ু অঞ্চলে দিন রাত্রি অথবা বছরের বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রার বিশেষ একটা তারতম্য হয় না বলে ওই সব স্থানে যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি ঘটে না ।
প্রশ্ন-১৬. রেগোলিথ [Regolith] কী ?
উত্তর:- রেগোলিথ হল মৃত্তিকাময় এক ধরনের শিথিল শিলাচূর্ণ । মাটি সৃষ্টির প্রাথমিক অবস্থাকে রেগোলিথক বলা যেতে পারে । আবহবিকারের [Weathering] ফলে ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তর ক্রমাগত চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে অবশেষে ছোট ছোট সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হয় এবং ভূত্বকের উপর রেগোলিথ নামে এক ধরনের শিলাচূর্ণের আবরণ পড়ে । কালক্রমে বিভিন্ন ধরনের জৈবিক [Organic], রাসায়নিক [Chemical] এবং জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেগোলিথের প্রাথমিক উপাদান গুলি বিশ্লিষ্ট ও স্তরীভূত হয়ে মাটির সৃষ্টি করে । সাধারণত গ্রানাইট শিলায় আবহবিকারের ফলে ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় উষ্ণ ও আদ্র জলবায়ু অঞ্চলে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে সুড়কির মতো এক ধরনের মৃত্তিকাময় ও লাল রঙের শিথিল শিলাচূর্ণ রেগোলিথ সৃষ্টি করে ।
প্রশ্ন-১৭. মাটি কাকে বলে ?
উত্তর:- ভূত্বকের উপরিভাগের ক্ষয়ে যাওয়া শিলাচূর্ণের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জৈব্য ও অজৈব বস্তুর সংমিশ্রণে গঠিত যে নরম ও অসমসত্ত্ব আবরণ স্তরে গাছপালা জন্মায়, তাকেই মাটি বলে।
প্রশ্ন- ১৮. মাটির উৎপত্তি :- ভূ-তত্ত্ববিদদের মতে , সূর্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর পৃথিবী প্রথমে গ্যাসীয় বা বায়বীয় অবস্থায় ছিল । পরে তাপ বিকিরণের ফলে পৃথিবী তরল অবস্থায় আসে এবং ক্রমাগত তাপ বিকিরণের ফলে ঠান্ডা হয়ে শক্ত পিণ্ডে পরিণত হয় । এই শক্ত পিণ্ডকে শিলা বলে । কঠিন শিলা প্রাকৃতিক, রাসায়নিক ও জৈবিক বিক্রিয়ায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে অবশেষে মাটিতে পরিণত হয় । আসলে চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া শিলার সঙ্গে জৈব পদার্থ মিশ্রিত হয়েই প্রকৃত মাটি সৃষ্টি হয় । ভূ-পৃষ্ঠে মাটি সৃষ্টির পদ্ধতিগুলিকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে, যথা— ১) প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ২) জৈব প্রক্রিয়া (উদ্ভিদ ও প্রাণীর দ্বারা) ।
১) যেসব প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় মাটি সৃষ্টি হয় সেগুলি হল- ১) আবহবিকার, ২) ক্ষয়ীভবন, ৩) নগ্নীভবন, ৪) অপসারণ এবং ৫) অবক্ষেপন ।
২) জৈবিক প্রক্রিয়া- উদ্ভিদ ও প্রাণীর দ্বারা মাটির উৎপত্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খনিজ পদার্থের রূপান্তর ঘটিয়ে মাটি সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন-১৯. মাটির উৎপত্তির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলি ব্যাখ্যা করো ।
উত্তর:-মাটির উৎপত্তির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া:যে সব প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় মাটি সৃষ্টি হয় সেগুলি হল-
১)আবহবিকার: শীতের প্রচন্ড শৈত্য, গ্রীষ্মের প্রচন্ড উত্তাপ কিংবা দিন বা রাতের উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য ভূপৃষ্ঠের শিলার ক্রমাগত সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলা ত্বকে ফাটল ধরে এবং শিলার ওপরের অংশ ক্রমশ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে ও কালক্রমে মাটির সৃষ্টি হয় ।
২)ক্ষয়ীভবন:-বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, জলস্রোত, হিমবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে কিংবা আবহবিকারের জন্য ভূত্বকের উপরিভাগ ক্রমশ ক্ষয় পেয়ে মাটির সৃষ্টি করে । এই প্রক্রিয়াকে ক্ষয়ীভবন বলে ।
৩)নগ্নিভবন:- বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা ভূত্বকের উপরিভাগ চূর্ণবিচূর্ণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত হলে শিলার ওপরের অংশ আলগা হয়ে যাওয়ায় ঠিক তার নীচের স্তরটি উন্মুক্ত বা নগ্ন হয়ে পড়ে, এই প্রক্রিয়াকে নগ্নীভবন বলে।
৪)অপসারণ:-এই প্রক্রিয়ায় ভূত্বকের উপরিভাগের চূর্ণবিচূর্ণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত অংশগুলি জলস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ , ইত্যাদি প্রাকৃতিক বাহকের দ্বারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয় এবং কালক্রমে সঞ্চিত হয়ে মাটির সৃষ্টি করে ।
৫)অবক্ষেপণ:এই প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের ক্ষয়প্রাপ্ত অংশগুলো পরিবাহিত হয়ে অন্য কোনো স্থানে জমা হয়ে মাটির সৃষ্টি করে ।
প্রশ্ন-২০. মাটির উৎপত্তির জৈব প্রক্রিয়া (উদ্ভিদ ও প্রাণী দ্বারা) :-
১) ছোটো বড়ো উদ্ভিদ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে খনিজ পদার্থের রূপান্তর ঘটিয়ে মাটি সৃষ্টি করে ।
২) শিলার ফাটলের মধ্যে উদ্ভিদের মূল প্রবেশ করলে ফাটলের আয়তন বাড়ে এবং উদ্ভিদের মূলের বৃদ্ধির ফলে শিলা ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় ।
৩) শিলার ওপর শৈবাল, ছত্রাক ইত্যদি জন্মালে শিলা নরম ও আলগা হয়ে মাটিতে পরিণত হয় ।
৪) মাটিতে থাকা বিভিন্ন জীবাণু, মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহকে পচিয়ে জৈব পদার্থে পরিণত করে এবং পরোক্ষভাবে মাটি সৃষ্টিতে সাহায্য করে ।
৫) মাটিতে বসবাসকারী কেঁচো, উঁই, পিঁপড়ে, ইঁদুর প্রভৃতি প্রাণীরা মাটিকে ওলটপালট করে দিয়ে রাসায়নিক উপাদানের সঙ্গে জৈব উপাদানের মিশ্রণ ঘটিয়ে মাটি সৃষ্টিতে সাহায্য করে ।
প্রশ্ন-২১. কীভাবে অপসারণ ও অবক্ষেপণের ফলে মাটির সৃষ্টি হয় ?
উত্তর:- ১)অপসারণ:-এই প্রক্রিয়ায় ভূত্বকের উপরিভাগের চূর্ণবিচূর্ণ এবং ক্ষয়প্রাপ্ত অংশগুলি প্রাকৃতিক বাহক, যথা- জলস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ ইত্যাদির দ্বারা একস্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয় এবং কালক্রমে সঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের জৈবিক [Organic], রাসায়নিক [Chemical] এবং জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূর্ণবিচূর্ণ উপাদানগুলি বিশ্লিষ্ট ও স্তরীভূত হয়ে মাটির সৃষ্টি করে ।
২)অবক্ষেপণ:-এই প্রক্রিয়ায় ভূত্বকের উপরিভাগের চূর্ণবিচূর্ণ এবং ক্ষয়প্রাপ্ত অংশগুলি পরিবাহিত হয়ে অন্য কোনও স্থানে সঞ্চিত হয়ে মাটির সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন-২২. উৎপত্তি অনুসারে মাটির শ্রেণিবিভাগ করো ।
উত্তর:- উৎপত্তি অনুসারে মাটি দু’ধরনের হয়, যেমন- ১) স্থানীয় মাটি, ২) অপসৃত মাটি ।
১)স্থানীয় মাটি:-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে মাতৃশিলা থেকে উৎপন্ন মাটি উৎপত্তিস্থলেই স্থিতিলাভ করে তখন তাকে স্থানীয় মাটি বা স্থিতিশীল মাটি বলে । এই ধরনের মাটির ওপরের স্তরএর কণাগুলো সূক্ষ্ম হয় কিন্তু নীচের স্তরগুলিতে মাটির কণাগুলো ক্রমশ মোটা হতে শুরু করলেও মাটির বিভিন্ন স্তরের মূল উপয়াদান একই থাকে ।
২)অপসৃত মাটি:-যেসব মাটি বায়ুপ্রবাহ, তুষারপাত, জলপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা পরিবাহিত হয়ে তাদের উৎস থেকে দূরবর্তী স্থানে সঞ্চিত হয়, তাদের পরিবাহিত বা অপসৃত মাটি বলে । অপসৃত মাটি সাধারণত উর্বর হয় এবং দূরবর্তী স্থান থেকে আসার জন্য অপসৃত মাটির মূল ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম তাদের নীচে থাকা শিলাস্তর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয় ।
প্রশ্ন-২৩. মৃত্তিকা সৃষ্টিতে আবহবিকার কীভাবে সাহায্য করে ?
উত্তর:- শীতের প্রচন্ড শৈত্য, গ্রীষ্মের উত্তাপ এবং দিন ও রাতের উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য ভূপৃষ্ঠের শিলার ক্রমাগত সংকোচন ও প্রসারণ হয় । সাধারণ ভাবে একে আবহবিকার বলে । আর এই আবহবিকারের ফলে শিলাত্বকে ফাটল ধরে এবং শিলার ওপরের অংশ ক্রমশ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে । কালক্রমে বিভিন্ন ধরনের জৈবিক [Organic], রাসায়নিক [Chemical] এবং জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূর্ণবিচূর্ণ উপাদানগুলি বিশ্লিষ্ট ও স্তরীভূত হয়ে মাটির সৃষ্টি করে ।
প্রশ্ন-২৪. মাটির প্রকারভেদ:অপসৃত মাটি নানা ধরনের হতে পারে, যেমন- কোনো স্থানের মাটি বায়ুপ্রবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানে সঞ্চিত হলে তাকেলোয়েস মাটিএবং জলপ্রবাহ দ্বারা সঞ্চিত হলে তাকেপলিমাটিবলে ।
গঠন অনুসারে মাটির শ্রেণিবিভাগ:- গঠন অনুসারে মাটিকে নুড়ি, বালি, পলি এবং কাদা- এই চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:-
১) দোঁয়াশ মাটি, (এই মাটিতে বালি ও কাদা প্রায় সমপরিমাণে থাকে),
২) এঁটেল মাটি (এই মাটিতে কাদার ভাগ বেশি)
৩) বেলে মাটি ( এইমাটিতে বালির ভাগ বেশি)।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s