Weathering Big Questions and Answers


**Weathering Big Questions and Answers:-
প্রশ্ন-১. আবহবিকার[Weathering]কাকে বলে এবং কয় প্রকার ?
যে প্রক্রিয়ায় আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান, যেমন- উষ্ণতা, আদ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত প্রভৃতির সংস্পর্শে এসে ভূত্বকের ওপরের অংশের শিলাস্তর ধীরে ধীরে ভেঙে বা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে মূল শিলাস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল শিলাস্তরের ওপরেই পড়ে থাকে, সেই প্রক্রিয়াকে আবহবিকার [Weathering] বলা হয়। আবহবিকারের ফলে চূর্ণ বিচূর্ণ শিলাজাত পদার্থগুলো মূল শিলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেখানেই পড়ে থাকে, কিন্তু অন্যত্র অপসারিত হয় না ।
আবহবিকারকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:-
১)যান্ত্রিক আবহবিকার[Mechanical Weathering] (যেমন:- (ক) খন্ডবিখন্ডিকরণ বা পিন্ড বিশরণ [Block Disintegration], (খ) গোলাকৃতি বিচূর্ণীভবন বা শল্কমোচন [Exfoliation], (গ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ [Granular Disintegretion] , (ঘ) তুহিন খন্ডীকরণ ),
২)রাসায়নিক আবহবিকার[Chemical Weathering] (যেমন:- (ক) কার্বনিকরণ বা অঙ্গারযোজন [Carbonation], (খ) জারণ [Oxidation], আর্দ্রকরণ বা জলযোজন [Hydration], দ্রবণ [Solution] প্রভৃতি) এবং
৩)জৈবিক আবহবিকার[Organic Weathering] (উদ্ভিদের সাহায্যে ও প্রাণীর সাহায্যে আবহবিকার) । আবহবিকারের মাধ্যমে মৃত্তিকা সৃষ্টি হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জৈবিক আবহবিকার প্রক্রিয়াটি যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকার প্রক্রিয়া দুটিকে তরান্বিত করে মাত্র ।
প্রশ্ন-২. আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের মধ্যে পার্থক্য কী কী ?
আবহবিকার
ক্ষয়ীভবন
১) আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যথা-রোদ, বৃষ্টিপাত, উষ্ণতা, আর্দ্রতা প্রভৃতির প্রভাবে শিলার ওপরের অংশের যে পরিবর্তন হয় তাকে আবহবিকার [Weathering] বলে। এই পরিবর্তন ভৌত বা রাসায়নিক যে কোনও রকমের হতে পারে ।
১) প্রবাহমান নানা প্রাকৃতিক শক্তি , যথা- নদীপ্রবাহ, জলস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ প্রভৃতির মাধ্যমে ভেঙে যাওয়া শিলার টূকরো, বালি, মাটি ইত্যাদির অপসারণকে ক্ষয়ীভবন বলে ।
২) বায়ুর উপাদান গুলি অর্থাৎ উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ ইত্যাদির সন্মিলিত প্রভাবে আবহবিকার প্রক্রিয়া ঘটে থাকে।
২) প্রবাহমান নানা প্রাকৃতিক শক্তি, যথা- নদীপ্রবাহ, জলস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ প্রভৃতির মাধ্যমে ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় ।
৩) আবহবিকারের ফলে চূর্ণীকৃত শিলার টুকরো মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব ছাড়া অপসারিত বা স্থানান্তরিত হয় না, নিজের স্থানেই অবস্থান করে । আবহবিকারের সঙ্গে অপসারণ যুক্ত নয় ।
৩) ক্ষয়ীভবনের ফলে চূর্ণীকৃত শিলা অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়, একস্থানে থাকে না । অর্থাৎ ক্ষয়ীভবনের সঙ্গে অপসারণ যুক্ত ।
৪) আবহবিকারের ফলে মূল শিলার ভিতরের স্তর উন্মুক্ত হয়ে পড়ে না ।
৪) ক্ষয়ীভবনের ফলে মূল শিলার ভিতরের স্তর উন্মুক্ত হয়ে পড়ে ।
৫) আবহবিকার একটি সৃজনমুলক প্রক্রিয়া যা খুব ধীরে ধীরে ঘটে।
৫) ক্ষয়ীভবন একটি ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া যা খুব তাড়া তাড়ি সম্পন্ন হয়।
৬) আবহবিকারের ফলে শিলার মূল বৈশিষ্ট্য, যেমন- শিলার গঠন, খনিজের বিন্যাস-প্রকৃতি ইত্যাদির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে ।
৬) ক্ষয়ীভবনের ফলে ভূমিরূপের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটলেও শিলার রাসায়নিক পরিবর্তন যেমন- গঠন, খনিজের বিন্যাস-প্রকৃতি ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে না।
৭) আবহবিকার এক স্থির পদ্ধতি(static process), বিয়োজিত শিলাচূর্ণ কাছেই পড়ে থাকে; স্থানচ্যুত হতে পারে মাত্র ।৭) ক্ষয়ীভবন হল এক গতিশীল পদ্ধতি (Dynamic process) । ক্ষয়কার্য ও বহনের মাধ্যমে ক্ষয়ীভুত পদার্থ দুরান্তরে অপসারিত হয় ।
প্রশ্ন- ৩. যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] কাকে বলে ?
উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, তুষার, অভিকর্ষ, নদী, বায়ু, জীবজন্তু বা উদ্ভিদ প্রভৃতি নানা প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে শিলাস্তর যখন ছোটো ছোটো খন্ড বা চূর্ণে পরিণত হয়ে মূল শিলার ওপর অবস্থান করে, এবং তার মধ্যে যখন কোনোরকম রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে না, তখন তাকে যান্ত্রিক আবহবিকার [Mechanical Weathering] বলা হয়। যান্ত্রিক আবহবিকারের ফলে শিলাসমূহ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়, যান্ত্রিক আবহবিকারের ফলে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে না বা শিলার কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে না । এই আবহবিকারের ফলে শিলার ভৌত পরিবর্তন হয় । উষ্ণ ও শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চল, শুষ্ক মরু অঞ্চল, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বেশি উচ্চতা যুক্ত স্থানে যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রাধান্য বেশি হয় । ১) তাপমাত্রার পরিবর্তনের জন্য ঘটা যান্ত্রিক আবহবিকারগুলি হল:- পিন্ডবিশরণ, শল্কমোচন, ক্ষুদ্রকণা বিশরণ; ২) তুষারের দ্বারা তুহিন খন্ডীকরণ প্রভৃতি । এছাড়া জল এবং চাপ হ্রাসের ফলেও যান্ত্রিক আবহবিকার ঘটে থাকে ।
প্রশ্ন-৪. যান্ত্রিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো ।
উত্তর:- যান্ত্রিক বিচূর্ণীভবনের প্রধান কারণ হল চারটি, যথা:- ১) তাপমাত্রার পরিবর্তন, ২) তুষারপাত, ৩) বৃষ্টিপাত এবং ৪) শিলাস্তরের চাপ হ্রাস প্রাপ্ত হওয়া ।
ক)তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলেসংঘটিত যান্ত্রিক আবহবিকার :-
১)পিন্ড-বিশরণ[Block disintegration] :- যান্ত্রিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে খন্ডবিখন্ডিকরণ বা পিন্ড বিশরণ [Block Disintegration] হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । শিলা তাপের সুপরিবাহী নয়। এই জন্য মরু অঞ্চলের গাছপালা হীন উন্মুক্ত প্রান্তরে দিনে এবং রাত্রে শিলার ভিতরের ও বাইরের অংশের উষ্ণতার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য ঘটে । ক্রমাগত উত্তাপে প্রসারিত ও ঠান্ডায় সংকুচিত হতে হতে শিলার সন্ধিস্থল গুলো আলগা হয়ে যায় এবং শিলাগাত্রে ফাটলের সৃষ্টি হয়। এই ফাটলগুলি কালক্রমে পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভগ্ন স্তূপে পরিণত হয় । এই ভেঙে যাওয়া শিলার আকৃতি অনেকটা বর্গক্ষেত্র বা আয়তক্ষেত্রের মতো হয় বলে আবহবিকারের এই বিশেষ প্রক্রিয়াটিকেচৌকাকার বিচূর্ণীভবন অথবা পিন্ড-বিশরণ[Block disintegration] বলে ।
২)গোলাকৃতি বিচূর্ণীভবন বা শল্কমোচন[Exfoliation]:- যান্ত্রিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে গোলাকৃতি বিচূর্ণীভবন বা শল্কমোচন [Exfoliation] হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । শিলাস্তর তাপের সুপরিবাহী না হওয়ার ফলে দিন ও রাতে শিলার ভিতরের ও বাইরের অংশের মধ্যে উষ্ণতার যথেষ্ট পার্থক্য ঘটে । উষ্ণতার এই তারতম্যের ফলে শিলাস্তরে ক্রমাগত প্রসারণ ও সংকোচন ঘটে । দীর্ঘদিন ধরে সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলার ওপরের স্তর ওপরের দিকে প্রসারিত হয় । তখন ওপরের স্তর নীচের অপেক্ষাকৃত শীতল স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পেঁয়াজের খোলার মতো খসে পড়ে । শিলার বাইরের অংশ এই ভাবে পেঁয়াজের খোসার মতো খুলে গেলে ভিতরের অংশটি কিছুটা গোলাকার ও মসৃণ শিলাখন্ডে পরিণত হয় । এইভাবে সৃষ্টি হওয়া প্রধান গোলাকার শিলাটিকে ‘অবশিষ্ট গণ্ড-শিলা’ বলে। শল্কমোচনের ফলে শিলাখন্ড গুলো অনেকটা গোলাকার হয়ে যায়, তাই বিচূর্ণীভবনের এই বিশেষ প্রক্রিয়াকেগোলাকৃতি বিচূর্ণীভবন বা শল্কমোচন[Exfoliation] বলে। একই জাতীয় খনিজ পদার্থে গঠিত সমপ্রকৃতির শিলায় শল্কমোচন [Exfoliation] বেশি হয় ।
৩)ক্ষুদ্রকণা বিশরণ[Granular disintegration]:- যান্ত্রিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে ক্ষুদ্রকণা বিশরণ [Granular disintegration] হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । যেসব শিলা বিভিন্ন রকমের খনিজ পদার্থে গঠিত, সেই সব বিষম গুণ সম্পন্ন ও বড় দানা যুক্ত শিলা গুলো ঠান্ডায় বা গরমে সমান ভাবে সংকুচিত বা প্রসারিত হতে পারে না । এরফলে শিলাস্তরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন টানের সৃষ্টি হয় এবং তাতে শিলা সশব্দে ফেটে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় । উষ্ণতার তারতম্যের ফলে এইভাবে বিষম গুণসম্পন্ন শিলার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়াকেক্ষুদ্রকণা বিশরণ[Granular disintegration] বলে ।
খ) তুষারের দ্বারা সংঘটিত যান্ত্রিক আবহবিকার:
তুহিন খন্ডিকরণ বা তুষারের কাজ :- যান্ত্রিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে তুহিন খন্ডিকরণ বা তুষারের কাজ হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । শীতল জলবায়ু অঞ্চলে, উচ্চ অক্ষাংশে বা উচ্চ পর্বতগাত্রে দিনের বেলায় বা গ্রীষ্মকালে বরফ গলে অথবা বর্ষাকালে শিলাস্তরের ফাটলের মধ্যে জল সঞ্চিত হলে তা পরে শীতকালে বা রাত্রিবেলা অত্যধিক ঠান্ডায় জমে বরফে পরিণত হয় । জল বরফে পরিণত হলে আয়তনে শতকরা দশভাগ বৃদ্ধি পায় । এর ফলে ফাটলের মধ্যস্থিত জল বরফে পরিণত হয়ে ফাটলের দু’পাশের দেওয়ালে প্রচন্ড চাপের সৃষ্টি করে । এই চাপের ফলে ফাটল ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং শিলাস্তর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ডে পরিণত হয় । যান্ত্রিক আবহবিকারে এই বিশেষ প্রক্রিয়াটিকেতুহিন-খন্ডিকরণ বা তুষারের কাজবলে ।
গ) জল দ্বারা সংঘটিত যান্ত্রিক আবহবিকার:-
১) বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে বৃষ্টির জল কোমল পাললিক শিলা এবং ছিদ্রযুক্ত রূপয়ান্তরিত শিলার মধ্যে প্রবেশ করে এবং শিলাতরকে আর্দ্র করে তোলে । আর্দ্রতা বৃদ্ধির জন্য কালক্রমে শিলাস্তরটি খন্ডবিখন্ড হয়ে যায়।
২) নদীর জল যখন দ্রুতগতিতে শিলাস্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন নদীর জলপ্রবাহের মধ্যবর্তী বায়ুর চাপের ফলে নদীপ্রবাহের নিম্নবর্তী শিলাস্তর ভেঙে খন্ডবিখন্ড হয়ে যায় ।
ঘ) চাপ হ্রাসের ফলে সংঘটিত যান্ত্রিক আবহবিকার:-
ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের শিলাস্তরে আবহবিকারের ফলে সৃষ্টি হওয়া এবং মূল শিলা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা শিলাচূর্ণ গুলো কালক্রমে নদী, হিমবাহ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি শক্তিগুলো দ্বারা অপসারিত হলে শিলাস্তরের ওপরের অংশের চাপ কমে যায় । শিলাস্তরের ওপরের অংশের চাপ কমে যাওয়ার ফলে নীচের শিলাস্তরগুলো প্রসারিত হয় এবং শিলাস্তরের মধ্যে ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে নানা আয়তনের ফাটল (Crack) সৃষ্টি হয়। এই সব ফাটলের প্রভাবে বড়ো বড়ো শিলার স্তরে বিচ্যুতি ঘটে । ক্রমশ ওই ফাটল বরাবর শিলাস্তর বিচ্ছিন্ন ও খন্ডবিখন্ড হয়ে যায়।
প্রশ্ন-৫ . খন্ডবিখন্ডিকরণ বা প্রস্তরখন্ড বিশরণ অথবা, পিন্ড বিশরণ কাকে বলে[Block Disintegration]?
উষ্ণতার পার্থক্যে যান্ত্রিক আবহবিকারের [Mechanical Weathering] একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হল পিন্ডবিশরণ বা খন্ডবিখন্ডিকরণ [Block Disintegration] ।
১) শিলা তাপের সুপরিবাহী নয় । এই জন্য মরু অঞ্চলের গাছপালাহীন উন্মুক্ত প্রান্তরে দিনের বেলা সূর্যের উত্তাপে শিলার বাইরের অংশ যতটা উষ্ণ হয়, ভিতরের অংশ ততটা উষ্ণ হয় না । আবার,
২) রাত্রিবেলা শিলার ওপরের অংশ যত তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়, ভিতরের অংশ তত তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয় না, ফলে দিনে বা রাত্রে শিলার ভিতরের ও বাইরের অংশের উষ্ণতার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য ঘটে ।
৩) উষ্ণতার এই তারতম্যের ফলে শিলাস্তরে ক্রমাগত প্রসারণ ও সংকোচন হয় । পর্যায়ক্রমে উত্তাপে প্রসারিত ও ঠান্ডায় সংকুচিত হতে হতে শিলার সন্ধি স্থলগুলো আলগা হয়ে যায় এবং শিলাগাত্রে ফাটলের সৃষ্টি হয় । ফাটলগুলি সাধারণত উন্মুক্ত প্রান্তরের সঙ্গে সমান্তরাল ও লম্বভাবে অবস্থান করে ।
৪) সমান্তরাল ফাটল ও উলম্ব ফাটলগুলো পরস্পরকে স্পর্শ করলে শিলাস্তর বর্গক্ষেত্র কিংবা আয়তক্ষেত্রের মতো ছোটো ছোটো পিন্ডাকার অংশে বিভক্ত হয় এবং কালক্রমে এরা পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভগ্নস্তূপে পরিণত হয় । ভেঙে যাওয়া শিলার আকৃতি অনেকটা বর্গক্ষেত্র ও আয়তক্ষেত্রের মতো হয় বলে আবহবিকারের এই বিশেষ প্রক্রিয়াটিকে প্রস্তরখন্ড বিশরণ [Block Disintegration] বা চৌকাকার বিচূর্ণীভবন অথবা পিন্ডবিশরণ বলে।
প্রশ্ন- ৬. শল্কমোচন [Exfoliation] বা গোলাকার বিচূর্ণীভবন কাকে বলে ?
উষ্ণতার পার্থক্যে যান্ত্রিক আবহবিকারের [Mechanical Weathering] অন্যতম এক প্রক্রিয়া হল শল্কোমোচন [Exfoliation] বাগোলাকার বিচূর্ণীভবন।
১) শিলা তাপের সুপরিবাহী না হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দিনের বেলা সৌরতাপে শিলার বাইরের অংশ যতটা উষ্ণ হয় ভিতরের অংশ ততটা উষ্ণ হয় না । আবার,
২) রাতে শিলার ওপরের অংশ যত তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়, ভিতরের অংশ ততটা হয় না । ফলে দিনে বা রাতে শিলার বাইরের ও ভিতরের মধ্যে উষ্ণতার যথেষ্ট পার্থক্য ঘটে ।
৩) উষ্ণতার এই তারতম্যের প্রভাবে শিলাস্তরে ক্রমাগত প্রসারণ ও সংকোচন ঘটে । দীর্ঘদিন সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলার ওপরের স্তর ওপরের দিকে প্রসারিত হয় । তখন ওপরের স্তর নীচের অপেক্ষাকৃত শীতল স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পেঁয়াজের খোসার মতো খসে পড়ে, একে শল্কমোচন [Exfoliation] বলে ।
৪) শল্কমোচনের [Exfoliation] ফলে শিলার টুকরোগুলি গোলাকার বা উপগোলাকার হয়ে পড়ে । একই জাতীয় খনিজ পদার্থে গঠিত সমপ্রকৃতির শিলায় শল্কমোচন বেশি হয় । সাধারণত গ্রানাইট শিলা গঠিত খাড়া ও অপ্রশস্ত পার্বত্য অঞ্চলে, যেখানে উষ্ণতার পার্থক্য বেশি, সেখানে গোলাকার বিচূর্ণীভবন বা শল্কমোচন বেশি দেখা যায় । পর্বতের ঢাল ও পাদদেশে সঞ্চিত এই জাতীয় বিচ্ছিন্ন ও খন্ডবিখন্ড প্রস্তর খন্ডগুলোকে স্ক্রী বাট্যালাসবলে ।
প্রশ্ন- ৭. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ[Granular Disintegration]কী:-যান্ত্রিক আবহবিকারের [Mechanical Weathering] অন্যতম এক প্রক্রিয়া হল ক্ষুদ্রকণা বিশরণ [Granular Disintegration] । যেসব শিলা বিভিন্ন রকমের খনিজ পদার্থে গঠিত, সেইসব বিষম গুণসম্পন্ন ও বড়ো দানাযুক্ত শিলাগুলো ঠান্ডায় বা গরমে সমানভাবে সংকুচিত বা প্রসারিত হতে পারে না । এর ফলে শিলাস্তরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন টানের সৃষ্টি হয় এবং তাতে শিলা হঠাৎ সশব্দে ফেটে চুর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় । মরু অঞ্চলে সাধারণত বিকেলের দিকে সূর্যাস্তের পরে এই শিলা ফাটার আওয়াজ পাওয়া যায় । উষ্ণতার তারতম্যের ফলে এইভাবে বিষম গুণসম্পন্ন শিলায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়াকেক্ষুদ্রকণা বিশরণ[Granular Disintegration] বলে ।
প্রশ্ন- ৮. তুষারের কাজ বাতুহিন-খন্ডীকরণ:-শীতল জলবায়ু অঞ্চল, উচ্চ অক্ষাংশ বা উচ্চ পর্বতগাত্রে দিনের বেলা বা গ্রীষ্মকালে বরফ গলে এবং বর্ষাকালে শিলাস্তরে ফাটলের মধ্যে জল সঞ্চিত তা পরে শীতকালে বা রাত্রিকালে অত্যধিক ঠান্ডায় জমে বরফে পরিণত হয় । জল বরফে পরিণত হলে আয়তনে শতকরা দশ ভাগ বৃদ্ধিপায় বলে ফাটলের মধ্যস্থিত জল বরফে পরিণত হয়ে ফাটলের দুপাশের দেওয়ালে প্রচন্ড চাপের সৃষ্টি করে । এই চাপের ফলে ফাটল ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং শিলাস্তর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ডে পরিণত হয় । এই প্রক্রিয়াকে তুহিন-খন্ডীকরণ বলে ।
প্রশ্ন- ৯. রাসায়নিক আবহবিকার[Chemical Weathering]কাকে বলে ?:- যে আবহবিকারের মাধ্যমে শিলা গঠনকারী বিভিন্ন খনিজ পদার্থগুলির ওপর বায়ুমন্ডলের প্রধান উপাদান সমূহ বিশেষ করে অক্সিজেন (O2), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), জ্বলীয় বাষ্প প্রভৃতির বিক্রিয়ার ফলে কঠিন শিলা বিয়োজিত হয় এবং মূল খনিজ পদার্থগুলো নতুন গৌণ খনিজে পরিণত হয়ে মূল শিলা শিথিল হয়ে পড়ে, তাকে রাসায়নিক আবহবিকার [Chemical Weathering] বলে । বৃষ্টিবহুল উষ্ণ অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকারের প্রাধান্য বেশি পরিলক্ষিত হয় । রাসায়নিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে ১) অঙ্গার যোজন বা কার্বনিকরণ [Carbonation], ২) জারণ [Oxidation] , ৩) জলযোজন বা আর্দ্রকরণ [Hydration], ৪) দ্রবণ [Solution] এবং ৫) আদ্র বিশ্লেষণ [Hydrolysis] উল্লেখযোগ্য ।
প্রশ্ন ১০. রাসায়নিক আবহবিকারের[Chemical Weathering]বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা করো ।
উত্তর:- রাসায়নিক বিচূর্ণীভবনের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলির মধ্যে:- ১) কার্বনিকরণ বা অঙ্গারযোজন [Carbonation] , ২) অক্সিডেশন, ৩)হাইড্রেশন এবং ৪) সলিউশন উল্লেখযোগ্য।
১)অঙ্গারযোজন বা কার্বনিকরণ[Carbonation]:-রাসায়নিকআবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে অঙ্গারযোজন বা কার্বনিকরণ [Carbonation] হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । বিভিন্ন খনিজের সঙ্গে প্রাকৃতিক কার্বন ডাই-অক্সাইড(CO2)-এর রাসায়নিক সংযোগের ফলে যে বিক্রিয়া ঘটে তাতে শিলা বিয়োজিত হয় এবং মূল খনিজগুলো নতুন খনিজে পরিণত হয়ে সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয় । এই প্রক্রিয়াকেঅঙ্গারযোজন বা কার্বনিকরণ[Carbonation] বলে । বৃষ্টির জল বায়ুমন্ডলের মধ্যদিয়ে ভূপৃষ্ঠে পতিত হওয়ার সময় বায়ুমন্ডলে অবস্থিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের (CO2) সঙ্গে মিলিত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিডে (H2CO3) পরিণত হয় । এই কার্বনিক অ্যাসিড চুনাপাথরের উপর পতিত হয়ে যে বিক্রিয়া ঘটায় তাতে চুনাপাথরের মধ্যস্থিত ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট Ca(HCO3) -এ পরিণত হয় এবং তা সহজেই দ্রবীভূত হয়ে অপসারিত হয় । চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে চুনাপাথর এই প্রক্রিয়ায় বিয়োজিত এবং ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিভিন্ন ভূমিরূপ গঠন করে । যথা-
(১)
জল কার্বন ডাই-অক্সাইড = কার্বনিক অ্যাসিড
(২)
কার্বনিক অ্যাসিড চুনাপাথর = ক্যালসিয়াম বাই কার্বনেট
২) জারণ [Oxidation]:- রাসায়নিকআবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে জারণ [Oxidation] হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । খনিজের সঙ্গে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন মিশলে তাকেজারণ[Oxidation] বলে । লোহার উপর এবং লোহা-গঠিত খনিজ ও শিলার উপর অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া বেশি । লোহা যখন ফেরাস অক্সাইড রূপে অবস্থান করে তা সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, কিন্তু লোহার সঙ্গে বাতাসের অক্সিজেন যুক্ত হলে লোহার উপরিভাগে হলুদ বা বাদামি রঙের একটি নতুন যৌগ পদার্থ তৈরি হয় এবং লোহা খুব সহজেই ক্ষয় পায় । সেইজন্য যেসব শিলায় লোহার পরিমাণ বেশি থাকে জারণের ফলে সেইসব শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় । জারণের ফলে মূল খনিজ ‘ফেরাস অক্সাইড’ ফেরিক অক্সাইডেপরিণত হয়ে ‘লিমোনাইট’ -এর সৃষ্টি করে, যা সহজেই ভেঙে যায় । একই কারণে লোহার জিনিসে মরচে ধরলে তা সহজেই নষ্ট হয়ে যায়,
যথা—
অর্থাৎ লোহা জল অক্সিজেন = লিমোনাইট
৩) জলযোজন বা আর্দ্রকরণ [Hydration]:-রাসায়নিকআবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে জলযোজন বা আর্দ্রকরণ [Hydration] হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । শিলাস্তরের মধ্যে অবস্থিত কোনো খনিজ পদার্থের সঙ্গে জল যুক্ত হলে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে তার ফলে খনিজ পদার্থটির আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং রাসায়নিক ধর্মের পরিবর্তন হয়ে খনিজটি বিয়োজিত হয় । এই প্রক্রিয়াকেজলযোজন বা আর্দ্রকরণ[Hydration] বলে। রাসায়নিক বিয়োজনের ফলে শিলাগঠনকারী খনিজগুলো দৃঢ় ভাবে সংবদ্ধ থাকে না এবং সহজেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় । যেমন- উৎকৃষ্ট লৌহ আকরিক ‘হেমাটাইট’পাথরের সঙ্গে জলযুক্ত হলে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তার ফলে ‘লিমোনাইট’নামে নিকৃষ্ট লোহার সৃষ্টি হয়, যা অতি সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়,
যথা—
অর্থাৎ হেমাটাইট জল = লিমোনাইট
৪) দ্রবণ বা সলিউশন [Solution]:-রাসায়নিকআবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে দ্রবণ বা সলিউশন[Solution] হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । সৈন্ধব লবণ, জিপসাম প্রভৃতি কয়েকটি খনিজ পদার্থ জলের সংস্পর্শে দ্রবীভূত হয়ে তার নিজস্ব আকার হারিয়ে ফেলে। এই বিশেষ প্রক্রিয়াকে দ্রবণ [Solution] বলে । দ্রবণের ক্ষেত্রে, যতবেশি পরিমাণ জল খনিজে প্রবিষ্ট হয়, খনিজ পদার্থটি তত তাড়াতাড়ি দ্রবীভূত হয়ে যায়, যথা—
১) সৈন্ধব লবণ জল = সৈন্ধব লবণের দ্রবণ
২) জিপসাম জল = জিপসামের দ্রবণ
প্রশ্ন-১১. চুনাপাথর কোন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিয়োজিত হয় ?
উত্তর:- ১) চুনাপাথর অঙ্গারযোজন বা কার্বনিকরণ [Carbonation] প্রক্রিয়ায় বিয়োজিত হয়।
প্রশ্ন-১২. লৌহ আকরিক কোন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিয়োজিত হয় ?
উত্তর:- ১) লৌহ আকরিক জারণ [Oxidation] ও আর্দ্রকরণ [Hydration] প্রক্রিয়ায় বিয়োজিত হয়।
প্রশ্ন-১৩. শল্কমোচন কোন শিলাস্তরে বেশি কার্যকর হয় ?
উত্তর:- শল্কোমোচন বা গোলকাকৃতি বিচূর্ণীভবন[Exfoliation] গ্রানাইট বা ব্যাসল্ট শিলাস্তরে বেশি কার্যকরী হয়।
প্রশ্ন-১৪. আবহবিকারের অপর নাম ‘বিচূর্ণীভবন’কেন ?
উত্তর:- আবহবিকারের ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান, যথা— উষ্ণতা, আদ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত প্রভৃতির সংস্পর্শে এসে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে অবস্থিত শিলাখন্ডগুলি ধীরে ধীরে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে মূল শিলাস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল শিলাস্তরের উপরেই পড়ে থাকে। তাই আবহবিকারকে [Weathering] বিচূর্ণীভবনও বলা হয়।
প্রশ্ন-১৫. কোন ধরনের জলবায়ু অঞ্চলে কী কারণে যান্ত্রিক আবহবিকার প্রাধান্য লাভ করে ?
উত্তর:- উষ্ণ মরু অঞ্চল ও শীতল পার্বত্য অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রাধান্য দেখা যায়, কারণ:-
১) শিলা তাপের সুপরিবাহী না হওয়ায় উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চলে দিন বা রাত্রে শিলার ভিতরের ও বাইরের অংশের উষ্ণতার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য ঘটে । আর এই উষ্ণতার তারতম্যের ফলে উষ্ণ মরু অঞ্চলে শিলা পর্যায়ক্রমে উত্তাপে প্রসারিত ও ঠান্ডায় সংকুচিত হয় । ক্রমে শিলার সন্ধিস্তল গুলি আলগা হয়ে পড়ে এবং ফাটলের সৃষ্টি হয় । ধীরে ধীরে এই ফাটলগুলো বড়ো হয়ে গেলে শিলাস্তর ছোটো ছোটো চৌক বা গোলাকার অংশে বিভক্ত হয়ে পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । এইসব যান্ত্রিক আবহবিকার (ক) পিন্ড বিশরণ [Block disintegretion], (খ) গোলাকার বিচূর্ণীভবন বা শল্কমোচন [Exfoliation] এবং (গ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ [Granular disintegretion] নামে পরিচিত ।
২) শীতল পার্বত্য জলবায়ু অঞ্চলে দিনের বেলায় বা গ্রীষ্মকালে বরফ গলে গিয়ে অথবা বর্ষাকালে শিলাস্তরের ফাটলের মধ্যে জল সঞ্চিত হলে তা পরে শীতকাল বা রাত্রি বেলায় অত্যধিক শৈত্যে জমে বরফে পরিনত হয়। জল বরফে পরিণত হলে আয়তনে শতকরা প্রায় ১০ ভাগ বৃদ্ধি পায় । এই বর্ধিত আয়তনের বরফ ফাটলের দুপাশের দেওয়ালে প্রচন্ড চাপের সৃষ্টি করে । এই চাপের ফলে ফাটলগুলোর আয়তন ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং শিলাস্তর ছোটো ছোটো খন্ডে পরিণত হয়। যান্ত্রিক আবহবিকারের এই প্রক্রিয়াকে তুহিন খন্ডীকরণ বলে ।
উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চল অথবা শীতল পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য সমভাবাপন্ন জলবায়ু অঞ্চলে দিন রাত্রি অথবা বছরের বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রার বিশেষ একটা তারতম্য হয় না বলে ওই সব স্থানে যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি ঘটে না।
প্রশ্ন-১৬. তুষার দ্বারা কীভাবে যান্ত্রিক আবহবিকার ঘটে ?
উত্তর:- শীতল জলবায়ু অঞ্চলে, উচ্চ অক্ষাংশে বা উচ্চ পর্বতগাত্রে বা গ্রীষ্মকালে বরফ গলে অথবা বর্ষাকালে শিলাস্তরের ফাটলের মধ্যে জল সঞ্চিত হলে তা পরে শীতকালে বা রাত্রিবেলা অত্যাধিক ঠান্ডায় জমে বরফে পরিণত হয় । জল বরফে পরিণত হলে আয়তনে শতকরা দশ ভাগ বৃদ্ধি পায়, ফলে ফাটলের মধ্যস্থিত জল বরফে পরিণত হয়ে ফাটলের দু’পাশের দেওয়ালে প্রচন্ড চাপের সৃষ্টি করে । এই চাপের ফলে ফাটল ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং শিলাস্তর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ডে পরিণত হয় । যান্ত্রিক আবহবিকারের এই বিশেষ প্রক্রিয়াটিকে তুহিন খন্ডিকরণ বলে ।
প্রশ্ন-১৭. শিলার শল্কমোচন কীভাবে ঘটে ?
উত্তর:- তাপমাত্রার পার্থক্যে যান্ত্রিক আবহবিকারের অন্যতম একটি প্রক্রিয়া হল শল্কমোচন । উষ্ণ পার্বত্য অঞ্চলে দিনে বা রাতে শিলার ভিতরের বা বাইরের তাপমাত্রার যথেষ্ট পার্থক্য হওয়ার ফলে এক জাতীয় খনিজ পদার্থের সংমিশ্রণে গঠিত প্রধানত গ্রানাইট জাতীয় সমপ্রকৃতির শিলাগুলি অসমভাবে প্রসারিত ও সংকুচিত হওয়ায় উপরের দিকে বেশি প্রসারিত হওয়ার সুযোগ পায় । এর ফলে শিলার ওপরের স্তরটি মূল শিলা থেকে পেঁয়াজের খোলার মতো খুলে যায় । এই ভাবে স্তরে স্তরে বাইরের অংশ খুলে গেলে মূল শিলাখন্ডটির বাহিরের আকৃতি কিছুটা গোলাকার ও মসৃণ হয়ে যায় এবং বিচূর্ণীভবনের এই বিশেষ প্রক্রিয়াকে শল্কমোচন [Exfoliation] বলা হয়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s