The Story Of Big Bang Theory


**The Story Of Big Bang Theory**
Big bang→মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও প্রসারণ সম্পর্কিত Big Bang Theory বিজ্ঞানী সমাজের বৃহৎ অংশই মেনে নিয়েছে। কোনো তত্ত্বকে বিজ্ঞানের জগতে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে একে অবশ্যই তাত্ত্বিক ও গানিতিক যুক্তির এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে হবে। বিজ্ঞানীদের মতে মোটামুটি 16 বিলিয়ন বছর আগে এক বৃহৎ এক বিস্ফোরণের মাধ্যমে আমাদের এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। আমরা নিজেরাই নিজেদের কয়েকটা প্রশ্নের সামনে দাঁড় করালে বিগব্যাংয়ের বিষয়টা সহজে বুঝতে পারব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত আগের কোনো ঘটনা তারা বুঝলেন কী করে আর তার যুক্তি-প্রমাণ ই দেখানো হলো কোন প্রক্রিয়ায় ??
→কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও, ব্রুনোদের সময় সাধারণ মানুষ ব্যাপারটা না বুঝলেও এযুগে প্রায় সবাই জানি, সূর্যের চারপাশে পৃথিবী ঘুরছে। শুধু তাই নয়, আমাদের সূর্য আমাদের গ্যালাক্সিকে কেন্দ্র ঘুরছে। গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটা ব্ল্যাক হোল আছে; মূলত তাকে কেন্দ্র করে সৌরজগতসহ আমাদের গ্যালাক্সির সব নক্ষত্র ঘুরছে। গোটা মহাবিশ্বেই এমন অসংখ্য গ্যালিক্স রয়েছে এবং প্রত্যেকের কেন্দ্রই রয়েছে একটি করে ব্ল্যাকহোল।
→অন্য সবার কথা ভুলে শুধু পৃথিবীর কথাই চিন্তা করা যাক। পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে কেন ঘুরছে? নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র বলে, এই মহাবিশ্বের প্রতিটা বস্তু পরস্পরকে নিজ নিজ কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করছে। এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। যে বস্তুর ভর যত বেশি সেই বস্তুর আকর্ষণ করার ক্ষমতা তত বেশি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে,পৃথিবী থেকে সূর্যের ভর কোটি কোটি গুনবেশি তাহলে সূর্য পৃথিবীকে তার নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে না কেন? সত্যি বলতে কী সূর্য কিন্তু সেটাই চাইছে কিন্তু পৃথিবীর বহির্মুখী বল সেটা হতে দিচ্ছে না। ব্যাপার একটু সহজে বোঝার চেষ্টা করা যাক। নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্রটা হলো, “বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির এবং গতিশীল বস্তু সমান গতিতে সোজা পথে ছুটবে অনন্তকাল।” পৃথিবী নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র মেনে সোজা পথেই ছুটতে চায়। কিন্তু তা হতে দেয় না সূর্যের ওই মহাকর্ষ বল। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এই—পৃথিবীর বার্ষিকগতি মহাকর্ষ বলের উদ্দেশ্য সফল হতে দিচ্ছে না, তেমনি সূর্যের মহাকর্ষ বলও পৃথিবীর বার্ষিক গতির উদ্দেশ্য সাধনে বাধা দিচ্ছে। পৃথিবীর গতিশক্তির কারণে সৃষ্ট বল আর মহাকর্ষ বলের মান নিশ্চয়ই সমান। একারণেই কেউ কাউকে পরাজিত করতে পারছে না তাই পৃথিবীকে একটা নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে হচ্ছে। এই কথা সৌরজগতের সব গ্রহ-নক্ষত্র উপগ্রহের ক্ষেত্রে সত্য।
→এখন আসল, প্রশ্নটা হল—পৃথিবী বা গ্রহ-নক্ষত্ররা এই গতি পেল কোথায় আর কখনই বা নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র এদের ওপর ক্রিয়া করতে শুরু করল? প্রশ্নটা আপতত একটু দূরে সরিয়ে রেখে বিজ্ঞানের ইতিহাসের উপর নজর বুলিয়ে আসতে পারি। বিংশ শতাব্দীর 2য় দশক পর্যন্ত ও বিজ্ঞানীরা মনে করতেন আমাদের Milky Way Galaxy মহাবিশ্বের একমাত্র গ্যালাক্সি। 1920 সালে বিজ্ঞানীরা মহাকাশে আরো অনেক গ্যালাক্সির সন্ধান পেলেন। এখন তারা ভাবতে শুরু করলেন, কীভাবে এই গ্যালাক্সি গুলির দূরত্ব নির্ণয় করা যায়। ওই সব গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোর আলোর উজ্জলতা মেপে বিজ্ঞানীরা গ্যালাক্সি গুলির দূরত্ব মাপতে সক্ষম হলেন। দূরত্ব মাপতে গিয়ে তাঁরা লক্ষ করলেন সেগুলি স্থির নয়, গতিশীল। কিন্তু সবগুলোই গতিশীল কিনা সে সম্পর্কে তাদের সঠিক ধারণা ছিল না। বিজ্ঞানীরা এবার ভাবলেন নক্ষত্রগুলির গতিবেগ মেপে বের করার চেষ্টা করবেন, কোনটা গতিশীল কোনটা স্থির, কোনটার গতি বেশি, কোনটার কম; কোনটা আমাদের দিকে ছুটে আসছে আর কোনটা আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে—এই বিষয়গুলি। অর্থাৎ বিজ্ঞানীরা মোটামুটি নিশ্চিত ছিলেন মহাকাশের নক্ষত্রমন্ডলি (ভিন্ন ভিন্ন গ্যালাক্সির) এলোমেলো ভাবে চলমান। তাদের আশা ছিল ডপলার এফেক্ট প্রয়োগ করে ওই সব তারকামণ্ডলি থেকে নির্গত লাল ও নীল আলোক বর্ণালীর বিস্তৃতি সমান পাওয়া যাবে। কিন্তু তাঁরা অবাক হয়ে দেখলেন, প্রায় সব নক্ষত্রের লাল আলোর বিচ্যূতি রয়েছে। নীল আলোর বিচ্যূতি অনুপুস্থিত। অর্থাৎ সব নক্ষত্রই আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এখানে একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন, ডপলার এফেক্ট দ্বারা ব্যাপার প্রমাণিত—কোনো আলোক উৎস আমাদেরথেকে দূরে সরে গেলে তার আলোক বর্ণালীর বিচ্যূতি লাল হবে এবং আমাদের দিকে এগিয়ে এলে বর্ণালী বিচ্যূতি নীল হবে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফ্রিডম্যান হাবলের আবিষ্কারের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। মহাবিশ্ব সম্পর্কে হাবলের দুটি সরল অনুমান ছিল—
1. আমরা যেদিকেই তাকাই (পৃথিবী থেকে) না কেন মহাবিশ্বের রূপ একই রকম।
2. আমরা যদি মহাবিশ্বকে অন্য কোনো স্থানথেকে (পৃথিবী বা সৌরজগতের বাইরের কোনো স্পেস থেকে) পর্যবেক্ষণ করি তবে সেক্ষেত্রেও মহাবিশ্বকে একই রকম দেখাবে।
→ফ্রিডম্যান মহাবিশ্বের নতুন এক মডেলও কল্পনা করে ছিলেন। 1929 সালে এডুইন হাবল প্রমাণ করে ছিলেন,ওই সব গ্যালিক্সর নক্ষত্রগুলির লাল বিচ্যূতির পরিমাণ এলোমেলো নয়। এই বিচ্যূতির পরিমাণ আমাদের থেকে নক্ষত্রটির দূরত্বের সমানুপাতিক। অর্থাৎ ভিন্ন গ্যালাক্সির ওই নক্ষত্রটির অবস্থান যতদূরে, তার লাল আলো বিচ্যুতির পরিমাণ তত বেশি। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সব নক্ষত্র (সব গ্যালাক্সিও বলতে পারি) আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এখন মজার ব্যাপার হলো, সবাই যদি আমাদের থেকে দূরে সরে যায় তাহলে আমরা কি স্থির, আমরা কি মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থান করছি!!! আরো মজার ব্যাপার হলো, গ্যালাক্সি সমূহের এই দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা আমরা যদি অন্য কোনো গ্যালাক্সির কোনো গ্রহে বসে পর্যবেক্ষণ করি তবে সেখানেও মনে হবে বাকি সব গ্যালাক্সি সেখান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এমনকি আমাদের এই ছায়াপথও। এখন আমরা বলতে পারি কোনো গ্যালাক্সিই স্থির নয়, সবাই সবার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
→এই ব্যাপারটা একটু ভালো ভাবে বোঝার জন্য একটা সহজ পরীক্ষা করে ফেলতে পারি। একটা বেলুন নেয়া যাক,তার গায়ে নানা স্থানে সাদা কালি দিয়ে অসংখ্য ফুটকি এঁকে দিই। এবার যদি বেলুনটিকে ফুঁ দিয়ে ফোলাই তাহলে দেখব, বেলুনটি ফুলে যত প্রসারিত হচ্ছে এর ফুটকি গুলোও তত পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে (ফুটকি গুলো আকারে বড় হচ্ছে সে দিকে খেয়াল না রাখলেও চলবে)। কিন্তু কোনো ফুটকিই কারো নিকটবর্তী হচ্ছে না—আমাদের মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেও ঠিক এমন প্রসারণ ঘটছে। মহাবিশ্বের প্রসারণটা তো বুঝলাম।
→এখন এখানেও সেই আগের প্রশ্নটা হাজির করতে পারি— গ্যালাক্সি ও নক্ষত্র মণ্ডলির দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা। এককথায় মহাবিশ্বের প্রসারণের এই গতি মহাবিশ্ব পেল কোথা থেকে এবং এখানেও নিশ্চয়ই নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র কাজ করছে!! এ প্রশ্বের সবচেয়ে গ্রহণ যোগ্য সমাধান হলো Big Bang Theory. যদি সব নক্ষত্র তথা গ্যালাক্সি পরস্পর থেকে দূরে সরে যেতে থাকে তবে নিশ্চয়ই এরা আদিতে একত্রে এবং বিন্দুতে ছিল! বিগব্যাং সম্পর্কে বিজ্ঞানী সমাজ একমত হলেন। 1940 সালে রুশ বিজ্ঞানী জর্জ গ্যামো তখন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। রালফ আলফার নামে এক মেধাবী ছাত্র গ্যামোর অধীনে তখন পিএইচডি করছেন। হাবলের তত্ত্ব থেকেই তাদের মাথায় এলো, যদি সব নক্ষত্রতথা গ্যালাক্সি পরস্পর থেকে দূরে সরে যেতে থাকে তবে নিশ্চয়ই এরা আদিতে একত্রে ছিল। আরো সুক্ষভাবে বললে বলা যায় তারা একবিন্দুতে আবদ্ধ ছিল! তার পর সেই বিন্দু থেকে বিরাট বিস্ফোরণের দ্বারা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষ্ফোরণের সময় এরা যে গতি প্রাপ্ত হয়েছে নিউটনীয় গতিবিদ্যার সূত্র মেনে আজো সেই গতিতেই চলছে। তাদের এই মতবাদের সাথে আরেক বিজ্ঞানী সহমত পকাশ করলেন। তিনি জর্জেস হেনরি লেমিত্রি। ইতিহাস বলে কোনো আবিষ্কারই সমালোচোকের ধারালো তরবারী থেকে রেহাই পায়নি। তাই বহু বিজ্ঞানী গ্যামো-আলফারের তত্ত্ব মেনে নিলেও প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ ফ্রেডেরিক হয়েলের তীব্র আক্রমণের শিকার হলো সেটি। গ্যামো-আলফারের যুক্তিকে খণ্ডণ করতে হয়েল তাচ্ছিল্যভরে উচ্চারণ করলেন— ‘হাঃ, সেই উত্তপ্ত বিগব্যং! এই বিস্ফোরণের ধারণা যদি সঠিক হয় তবে তার ছাইভষ্ম কিছু অবশিষ্ট থাকার কথা। আমাকে সেই ফসিল এনে দেখাও।’ নিন্দুকের মুখেই জন্ম নিল গ্যামোর সেই বিম্ফরোণ তত্ত্বের সবচেয়ে যুৎসই নাম ‘বিগব্যাং’।
→পিএইচডির শেষ দিকে এসে আলফার ও গ্যামো যৌথভাবে একটা প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন। শিরোনাম ‘অরিজিন অব দ্য কেমিক্যাল এলিমেন্টস’। লেখা শেষ করার পর গ্যামো লেখকের নামের জায়গায় নিজের ও আলফারের নামের মাঝখানে তার আরেক পদার্থবিদ বন্ধু হ্যানস বিথের নাম বসিয়ে দিয়ে বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কৌতুকটা করলেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করে রসিকরাজ জর্জ গ্যামো বলেন,‘আলফার ও গ্যামো এই দুই গ্রিক স্টাইলের নামের মাঝখানে ‘বিটা’ জাতীয় কিছুনা থাকলে কি মানায়! তাই বিথের নাম যোগ করা—’ফিজিক্যাল রিভিউ জার্নালে প্রকাশ হওয়ার সময়কালেই এই প্রবন্ধটি ‘আলফা-বিটা-গামা’ তত্ত্ব নামে খ্যাতি লাভ করে। সেই প্রবন্ধে গ্যামো বলেছিলেন—ভয়ংকরমহাবিষ্ফোরণের মাধ্যমে যদি মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে তার নমুনা আজও কিছু অবশিষ্ট থাকার কথা কথা। গ্যামো হিসাব কষে দেখান, সৃষ্টির শুরুতে মহাবিস্ফোরণের সময় যেসব তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বা বর্ণালি সৃষ্টি হয়েছিল, প্রতিনিয়ত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্বের সেই বর্ণালি তাপমাত্রা হ্রাস পেতে থাকে। বর্তমানে তার তাপমাত্রা হওয়া উচিত পরমশূন্য তাপমাত্রা (-273 ডিগ্রি কেলভিন) থেকে 5 ডিগ্রি কম। 1964 সালে অর্নো পেনজিয়ার্স ও রবার্ট উইলিয়াম নামে দুই বিজ্ঞানী অনাকাংঙ্খিত ভাবে গ্যামোর ভবিষ্যদ্বাণী প্রমাণ করে ফেলেন। সেই প্রমাণ সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃতী লাভ করে। 1978 সালে এজন্য পেনজিয়ার্স ও উইলিয়াম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু গ্যামো পাননি। পাওয়া সম্ভবও ছিল না। কারণ এর বছর দশেক আগেই যে পৃথিবী ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন বিজ্ঞান জগতের রসিকরাজ।।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s