★রিও-নিগ্রো আর সলিমস★


★রিও-নিগ্রো আর সলিমস★
→বিশ্বের বৃহত্তম নদী আমাজনের বেশির ভাগ অংশটিই প্রবাহিত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে। রিও-নিগ্রো (Rio-Negro) এবং সলিমস (Solimoes), আমাজনের দুটি বৃহত্তম উপনদী। যা আসলেই কিছুটা বিস্ময়কর!! কারণ,এ দুটি উপনদীর জলের রং ভিন্ন আর প্রবাহিত হয়ে একই জায়গায় এসে মিলিত হয়েছে। আবার হয়ও নি।
→ আসলে রিও-নিগ্রো এবং সলিমস উপনদীর জল কখনোই মেশে না। খুব সহজেই আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। উত্তর ব্রাজিলের ম্যানাউস শহর থেকে প্রায় 10 কিলোমিটার দূরে, পেরুর সীমান্তে কাছাকাছি রিও-নিগ্রো এবং সলিমসের মোহনা। অনেকে এই নদীর মোহনাকে “Meeting of Waters” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
→ উপনদী দুটোর ছবি দেখলে যে কেউ চমকে উঠবে, মনে হবে যেনো দু’রকমের কার্পেট বিছিয়ে রাখা হয়েছে। হালকা রঙিন জলের উপনদীটি হলো সলিমস (Solimoes)। আন্দিজ পর্বত থেকে আমাজনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসা জলের সাথে পলি মাটি,কাদা,বালিরমিশ্রণ এই উপনদীকে অনেকটা ফ্রেঞ্ছ কফি-এর মত রং উপহার দিয়েছে। একে ‘সাদা জলের নদী‘ অথবা “white water river” ও বলা হয়ে থাকে। প্রায় 80 কিলোমিটার চওড়া সলিমস 1600 কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত।
→ছবিতে গাঢ় অন্ধকারাচ্ছন্ন জলের নদীটি হলো রিও-নিগ্রো (Rio Negro), প্রায় 2253 কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই উপনদীর 850 কিমি ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে। এর কিছু অংশ আবার কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মাঝে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে কাজ করছে। আমাজনের ভিতরে বয়ে চলা এই উপনদীর জলের সাথে দ্রবীভুত আর মিশ্রিত হওয়া পত্রক,গুল্ম,লতাপাতা,উদ্ভিদের জন্যই এর রং কালো চায়ের লিকারের মতন। প্রায় 800-900 প্রজাতির মাছ এই উপনদীতে পাওয়া যায়। অদ্ভুত হলেও সত্যি যে, রিও নিগ্রো নদীনালা জল কোনরূপ পলল মাটি বহন করেনা। ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সির (European Space Agency), মতে রিও নিগ্রো হলো বিশ্বের সবচেয়ে পরিষ্কার প্রাকৃতিক জলের নদীগুলোর মধ্যে একটি। মেঘমুক্ত সূর্যস্নাত দিনে,রিও-নিগ্রোনদীর নিচে 9 মিটারেরও বেশি অবলোকন করা যায়।
→এখন জেনে নিই, রিও-নিগ্রো এবং সলিমসের এরূপ আচরণের কারণ। এদের অমিশ্রিত থাকার কারণ হলো, নদীদুটোর মধ্যে জলের তাপমাত্রা, প্রবাহমান জলের বেগ আর জলের ঘনত্বের তীব্র পার্থক্য। সলিমস হলো রিও-নিগ্রোর চাইতে দ্রুত গতির,অধিক ঘনত্বের,অতিমাত্রায় ঠান্ডা জলের উপনদী, যা 22 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঘন্টায় 4-6 কিলোমিটার বেগে বয়ে চলে। অন্যদিকে,উষ্ণতরও তুলনামূলকভাবে মন্থর গতির রিও-নিগ্রো বয়ে চলে ঘন্টায় 2 কিলোমিটার এবং জলের তাপমাত্রা প্রায় সবসময়ই 28 ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকে। এই তারতম্যগুলোর জন্যই জলের মিশ্রণ ভালোভাবে হতে পারে না।এই দুটি উপনদী পাশাপাশি প্রায় ৬ কিলোমিটারেরও বেশি প্রবাহিত হয়েছে।।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s