ভারতের ইতিহাস এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস


“ভারতের ইতিহাস এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস” :-
মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভীমবেটকা প্রস্তর ক্ষেত্র ভারতে মানববসতির প্রাচীনতম নিদর্শন। এক লক্ষ বছর
আগেও এখানে মানুষের বসবাস ছিল।
প্রায় ৯০০০ বছর আগে এদেশে স্থায়ী মানববসতি গড়ে উঠে; যা
কালক্রমে পশ্চিম ভারতের ইতিহাস-
প্রসিদ্ধ সিন্ধু সভ্যতার রূপ ধারণ করে।
এই সভ্যতার আনুমানিক সময়কাল ৩৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। এরপর ভারতে বৈদিক যুগের সূত্রপাত হয়। এই যুগেই হিন্দুধর্ম তথা প্রাচীন ভারতীয় সমাজের অন্যান্য সাংস্কৃতিক
বৈশিষ্ট্যগুলির আবির্ভাব ঘটে।
বৈদিক যুগের সমাপ্তিকাল আনুমানিক
৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। আনুমানিক ৫৫০
খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ ভারতে
প্রতিষ্ঠিত হয় মহাজনপদ নামে অনেকগুলি স্বাধীন রাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজ্য।
খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য প্রতিষ্ঠিত ও মহামতি অশোকের শাসিত মৌর্য সাম্রাজ্যের অধীনে দক্ষিণ এশিয়ার সিংহভাগ অঞ্চল একত্রিত হয়।
খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতকে গুপ্ত সম্রাটদের শাসনকাল প্রাচীন ভারতের সুবর্ণ যুগ নামে আখ্যাত হয়।
এছাড়া পূর্ব ভারতে পাল এবং দাক্ষিণাত্যে চালুক্য , চোল ও বিজয়নগর প্রভৃতি সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে। এই সকল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি , শিল্পকলা , সাহিত্য , জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শন সমৃদ্ধি লাভ করে। খ্রিষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর
মধ্যবর্তী সময়ে মধ্য এশিয়া থেকে
ভারতে ইসলামের অনুপ্রবেশ ঘটে। এর ফলে সমগ্র উত্তর ভারত প্রথমে সুলতানি ও পরে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। মহামতি আকবরের রাজত্বকালে দেশে একাধারে যেমন
সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির
সূচনা হয়, তেমনই প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দু- মুসলমানের ধর্মীয় সম্প্রীতি।
ক্রমে ক্রমে মুঘল সম্রাটগণ
উপমহাদেশের এক বৃহৎ অংশে নিজেদের
কর্তৃত্ব স্থাপনে সক্ষম হন। যদিও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রাধান্যকারী অসমের অহোম রাজশক্তি এবং আরও কয়েকটি রাজ্য মুঘল আগ্রাসন সফলভাবে
প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল। ষোড়শ শতক থেকে পর্তুগাল , নেদারল্যান্ডস , ফ্রান্স ও ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় শক্তিগুলি ভারতে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করতে শুরু
করে। পরবর্তীকালে দেশের
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গোলযোগের
সুযোগ নিয়ে তারা ভারতে উপনিবেশ
স্থাপন করতেও সক্ষম হয়। ১৮৫৬ সালের
মধ্যেই ভারতের অধিকাংশ অঞ্চল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হস্তগত হয়েছিল।
এর এক বছর পরেই ঘটে ভারতীয় সিপাহি ও দেশীয়
রাজ্যগুলির সম্মিলিত এক জাতীয় গণ-
অভ্যুত্থান। ভারতের ইতিহাসে এই
ঘটনা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বা সিপাহি বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও তা দেশে
কোম্পানির শাসনের দুর্বলতার
দিকগুলি উন্মোচিত করে দেয়। তাই
ভারতকে আনা হয় ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে।
বিংশ শতকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলি
দেশজুড়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। ভারতীয় নেতা মহাত্মা গান্ধী লক্ষাধিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অহিংস গণ-আইন অমান্য জাতীয় আন্দোলন শুরু করেন।
স্বাধীনতা আন্দোলনের শেষলগ্নে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজের সংগ্রাম ভারতের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৫
অগস্ট, ১৯৪৭ তারিখে, ভারত ব্রিটিশ
শাসনজাল থেকে মুক্তিলাভ করে। একই
সঙ্গে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের
মুসলমান-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি বিভক্ত হয়ে গঠন করে পাকিস্তান রাষ্ট্র।
১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি নতুন
সংবিধান প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে
ভারতে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হয়।
স্বাধীনতার পরে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা , জাতপাত , নকশালবাদ , সন্ত্রাসবাদ এবং জম্মু ও কাশ্মীর , পাঞ্জাব ও উত্তর- পূর্বাঞ্চলের আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভুত্থান দেশে
মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ১৯৯০-এর দশক
থেকে ভারতের শহরাঞ্চলগুলি এই
হানাহানির শিকার হতে থাকে। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের ফলে চীনের সঙ্গে এবং ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭১ ও ১৯৯৯ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের ফলে
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত
নিয়ে বিরোধ তীব্র হয়। ভারত রাষ্ট্রসংঘ (ব্রিটিশ ভারত হিসাবে) ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ১৯৭৪ সালে একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষণ ও ১৯৯৮ সালে আরও পাঁচটি পরমাণু পরীক্ষা চালিয়ে ভারত নিজেদের
একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রকাশ করে।
১৯৯১ সালে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে বর্তমানে পৃথিবীর অতিদ্রুত-বর্ধনশীল
এক অর্থব্যবস্থা হিসাবে ভারত সারা
বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেও সক্ষম হয়েছে।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s