ভারতের জৈব বৈচিত্র্য (Biodiversity of India)


**ভারতের জৈব বৈচিত্র্য (Biodiversity of India):-
ইন্দোমালয় পরিবেশক্ষেত্রে অবস্থিত
ভারত জীববৈচিত্র্যের একটি
গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ১৮টি
মহাবৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্রের একটি এই
দেশ পৃথিবীর ৭.৬% স্তন্যপায়ী, ১২.৬%
পাখি, ৬.২% সরীসৃপ, ৪.৪% উভচর, ১১.৭% মাছ ও ৬.০% সপুষ্পক উদ্ভিদের বাসস্থান। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার শোলা বর্ষণারণ্যের মতো
ভারতের অনেক অঞ্চলেই স্বাভাবিক
উদ্ভিদের প্রাচুর্য দেখা যায়। ৩৩%
ভারতীয় বৃক্ষপ্রজাতি স্বাভাবিক উদ্ভিদশ্রেণীর অন্তর্গত। ভারতের প্রধান অরণ্যক্ষেত্রগুলি আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ , পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিষুবীয় বর্ষণারণ্য থেকে হিমালয়ের
চিরহরিৎ অরণ্যক্ষেত্র পর্যন্ত
বিস্তৃত। এছাড়া পূর্ব ভারতের শাল – অধ্যুষিত, মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের টিক-
অধ্যুষিত ও মধ্য দাক্ষিণাত্য ও
গাঙ্গেয় সমভূমির বাবুল অধ্যুষিত বনাঞ্চলও উল্লেখযোগ্য।
গ্রামীণ ভারতে নিম গাছ ঔষধি রূপে ব্যবহৃত
হয়। পিপল গাছ মহেঞ্জোদাড়োর প্রতীকচিহ্নে দেখা গাছে। এই গাছের
তলাতেই গৌতম বুদ্ধ সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।
বহু ভারতীয় প্রজাতি গন্ডোয়ানায় জাত
টেক্সা থেকে উদ্ভূত। উপদ্বীপীয় ভারতের ক্রমসরণ ও ইউরেশীয় ভূমিভাগের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে
প্রজাতিগুলির মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন
দেখা দেয়। যদিও অগ্ন্যুৎপাত ও
অন্যান্য জলবায়ুগত পরিবর্তনের
কারণে বিগত ২ কোটি বছরে বহু দেশজ প্রজাতিই অবলুপ্ত হয়ে যায়।
এর ঠিক পরেই দুটি প্রাণীভৌগোলিক পথে
উত্থানশীল হিমালয়ের দুই পাশ দিয়ে
ভারতে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা প্রবেশ করে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারতের মোট স্তন্যপায়ী ও পাখিদের যথাক্রমে
মাত্র ১২.৬% ও ৪.৫% দেশজ; যেখানে
দেশের সরীসৃপ ও উভচরদের ক্ষেত্রে
এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪৫.৮% ও ৫৫.৮%।
উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রাণী হল নীলগিরি লেঙ্গুর , পশ্চিমঘাট পর্বতমালার বাদামি ও গাঢ় লাল
রঙের বেডোমি ব্যাঙ। ভারত ১৭২টি
(২.৯%) আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ -গণিত লুপ্তপ্রায় প্রাণীর আবাসস্থল ।
এর মধ্যে রয়েছে এশীয় সিংহ , বাংলা বাঘ , ভারতীয় শ্বেতপৃষ্ঠ শকুন (বর্তমানে
প্রায় অবলুপ্ত)। বিগত দশকগুলিতে মানুষের অরণ্য
আগ্রাসন বন্যপ্রাণী অবলুপ্তির অন্যতম
প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ১৯৩৫
সালে চালু হওয়া জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত স্থানের ব্যবস্থাটিকে
ব্যাপ্ত করা হয়। ১৯৭২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও বাঘ সংরক্ষণের জন্য ব্যাঘ্র প্রকল্প চালু হয়। এর সঙ্গে ১৯৮০ সালে প্রবর্তিত হয় অরণ্য সংরক্ষণ আইন ভারতে অভয়ারণ্যের সংখ্যা পাঁচশোর অধিক।
সঙ্গে দেশে ১৩টি জৈবক্ষেত্র সংরক্ষণও করা হয়। এর মধ্যে চারটি বিশ্ব জৈবক্ষেত্র সংরক্ষণ
নেটওয়ার্কের অন্তর্গত। রামসর
কনভেনশন অনুসারে ভারতে পঁচিশটি
জলাভূমি আছে; যার একটি কলকাতা মহানগরীর পূর্বভাগে অবস্থিত।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s