ভারতের ভূগোল (Indian Geography)


*”ভারতের ভূগোল” (Indian Geography):-
ভারতীয় উপমহাদেশের সিংহভাগ নিয়ে গঠিত ভারতীয় ভূখণ্ডটি ভারতীয় টেকটোনিক পাত ও ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাতের মধ্যস্থিত একটি গৌণ পাতের উপর অবস্থিত।
এর পরে উপমহাদেশটির সঙ্গে ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষ ঘটে এবং উপমহাদেশের পাতটি ইউরেশীয় পাতের তলায়
অবনমিত হয়ে পৃথিবীর উচ্চতম
পর্বতমালা হিমালয়ের উত্থান ঘটায়। এই পর্বতমালা বর্তমানে ভারতের
উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিক বেষ্টন করে আছে।
উত্থানশীল হিমালয়ের দক্ষিণ পাদদেশে অবস্থিত সমুদ্রে
পাতসঞ্চরণের ফলে একটি বৃহৎ খাত
সৃষ্টি হয়, এবং কালক্রমে নদীর পলি জমে এই খাতটি গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে পরিণত হয়। এই সমভূমির পশ্চিমে আরাবল্লী পর্বতশ্রেণী কর্তৃক বিচ্ছিন্ন হয়ে অবস্থান করছে থর মরুভূমি । মূল ভারতীয় পাতটি আজ ভারতীয় উপদ্বীপ রূপে অবস্থান করছে।
এটিই ভারতের প্রাচীনতম ও
ভৌগোলিকভাবে সর্বাপেক্ষা দৃঢ় অংশ।
উত্তরদিকে মধ্য ভারতে অবস্থিত সাতপুরা ও বিন্ধ্য পর্বতমালা পর্যন্ত এই উপদ্বীপ বিস্তৃত। এই সমান্তরাল
পর্বতমালাদুটি পশ্চিমে গুজরাটের আরব সাগর উপকূল থেকে পূর্বে ঝাড়খণ্ডের কয়লা -সমৃদ্ধ ছোটনাগপুর মালভূমি পর্যন্ত ব্যাপ্ত।
দক্ষিণে উপদ্বীপীয় ভূখণ্ডে দাক্ষিণাত্য মালভূমি বামে ও ডানে যথাক্রমে পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালাদ্বয় দ্বারা উপকূলীয় সমভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন। এই মালভূমিতেই ভারতের প্রাচীনতম প্রস্তরগঠনটি
পরিলক্ষিত হয়; যার কিয়দংশের বয়স
১০০ কোটি বছরেরও বেশি। এইভাবে
ভারত বিষুবরেখার উত্তরে ৬°৪৪’ ও ৩৫°৩০’ উত্তর অক্ষাংশ ও ৬৮°৭’ ও ৯৭°২৫’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।
ভারতীয় উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য ৭,৫১৭
কিলোমিটার (৪,৬৭১ মাইল)। এর মধ্যে
৫,৪২৩ কিলোমিটার (৩,৩৭০ মাইল)
ভারতীয় উপদ্বীপের এবং ২,০৯৪
কিলোমিটার (১,৩০১ মাইল) আন্দামান,
নিকোবর ও লাক্ষাদ্বীপের অন্তর্গত।
ভারতীয় নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট অনুসারে মূল
অঞ্চলের উপকূলভূমি ৪৩% বালুকাময়
সৈকত, ১১% পাথুরে উপকূল ও ভৃগু (উঁচু
খাড়া পাড় বা ক্লিফ), ৪৬% জলাজমিপূর্ণ উপকূল দ্বারা গঠিত।
হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদনদীগুলির
মধ্যে প্রধান গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র। উভয়েই বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
গঙ্গার প্রধান উপনদীগুলি হল যমুনা ও কোশী নদী। কোশী নদীতে নাব্যতা অত্যন্ত কম থাকায় প্রতি বছর
ভয়াল বন্যা দেখা দেয়। উপদ্বীপের
প্রধান নদীগুলি হল গোদাবরী , মহানদী , কৃষ্ণা , ও কাবেরী । এই নদীগুলির খাত অত্যন্ত নাব্য হওয়ায়
বন্যা কম হয়ে থাকে। এই নদীগুলিও বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
অন্যদিকে নর্মদা ও তাপ্তি পতিত হয়েছে আরব সাগরে।
উপকূলভূমির অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল
পশ্চিম ভারতে কচ্ছের রাণ ও
পূর্বভারতে সুন্দরবনের পলিগঠিত বদ্বীপ অঞ্চল, যা ভারত ও বাংলাদেশে বিস্তৃত। ভারতে দুটি দ্বীপপুঞ্জ দেখা যায়: ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম
উপকূলভাগের নিকটে প্রবালদ্বীপ লাক্ষাদ্বীপ এবং আন্দামান সাগরের আগ্নেয় দ্বীপমালা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s