ভারতের সংস্কৃতি (Indian Culture)


” ভারতের সংস্কৃতি ” (Indian Culture):-
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ভারতীয় সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই সংস্কৃতি স্বকীয়
ঐতিহ্যরক্ষার পাশাপাশি বৈদেশিক
আক্রমণকারী ও বহিরাগত জাতিগুলির
থেকে গ্রহণ করা রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও
ধারণা অঙ্গীভূত করে এশিয়ার অন্যান্য
অঞ্চলের সংস্কৃতির উপরর নিজ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ভারতীয় স্থাপত্য এমন একটি বিষয় যার মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতির এই
বৈচিত্র্যময় রূপটি ধরা পড়ে। তাজমহল ও অন্যান্য মুঘল স্থাপত্য নিদর্শন তথা দ্রাবিড় স্থাপত্য নিদর্শনগুলির মধ্যে
ভারত ও বহির্ভারতের বিভিন্ন
অঞ্চলের প্রাচীন ও স্থানীয় ঐতিহ্যের
সম্মিলন লক্ষিত হয়। ভারতের স্থানীয়
স্থাপত্যশৈলীগুলিও দেশের এক
গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক স্থাপত্য- বৈচিত্র্যের সাক্ষী। ভারতীয় সঙ্গীতের জগৎটি গঠিত
হয়েছে ধ্রুপদি ও আঞ্চলিক
সংগীতধারার সংমিশ্রণে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত দুটি ধারায় বিভক্ত – উত্তর ভারতের হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয়
সঙ্গীত এবং দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটিক
সংগীত। এই দুই প্রধান সংগীতধারা
থেকে আবার উৎসারিত হয়েছে অনেক
উপধারা। আঞ্চলিক জনপ্রিয় সঙ্গীতের
মধ্যে উল্লেখযোগ্য রবীন্দ্রসংগীত , হিন্দি ফিল্মি গান ও ইন্ডি-পপ এবং বাউল ও অন্যান্য বিভিন্ন প্রকার লোকসংগীত। ভারতীয় নৃত্যকলাও “লোক” ও “ধ্রুপদী”—
এই দুই প্রধান ভাগে বিভক্ত। ভারতের
বিখ্যাত লোকনৃত্যগুলি হল পাঞ্জাবের ভাংড়া , অসমের বিহু নৃত্য , পশ্চিমবঙ্গ , ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার ছৌ নাচ এবং রাজস্থানের ঘুমার। ভারতের সঙ্গীত নাটক অকাদেমী দেশের আটটি
নৃত্যকলাকে ধ্রুপদি ভারতীয় নৃত্য আখ্যা
দিয়েছে। এগুলি হল তামিলনাড়ুর ভরতনট্যম, উত্তর প্রদেশের কত্থক , কেরলের কথাকলি ও মোহিনীঅট্টম , অন্ধ্রপ্রদেশের কুচিপুডি, মণিপুরের মণিপুরি , ওড়িশার ওড়িশি এবং অসমের সত্রিয় নাচ। এই নৃত্যশৈলীগুলি বর্ণনাত্মক ও পৌরাণিক ঘটনাকেন্দ্রিক।
ভারতীয় নাটকের বৈশিষ্ট্য হল
সংগীত, নৃত্য ও তাৎক্ষণিক বা লিখিত সংলাপের যুগলবন্দী।
এর বিষয়বস্তু কখনও পুরাণ থেকে, কখনও
মধ্যযুগীয় প্রেমকাহিনিগুলিথেকে,
কখনও আবার একালের সামাজিক ও
রাজনৈতিক ঘটনাবলি থেকে গৃহীত।
ভারতের লোকনাট্যের মধ্যে গুজরাটের ভাবাই, পশ্চিমবঙ্গের যাত্রা , উত্তর ভারতের নৌটঙ্কি ও রামলীলা , মহারাষ্ট্রের তামাশা, অন্ধ্রপ্রদেশের বুরাকথা, তামিলনাড়ুর তেরুককুত্তু ও কর্ণাটকের যক্ষগণ উল্লেখযোগ্য।
ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প সমগ্র বিশ্বের বৃহত্তম চলচ্চিত্র শিল্প। বাণিজ্যিক হিন্দি সিনেমা প্রস্তুতকারক বলিউড বিশ্বের সর্বাপেক্ষা সৃষ্টিশীল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। এছাড়াও বাংলা , কন্নড়, মালয়ালম , মারাঠি , তামিল ও তেলুগু ভাষায় ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র শিল্পের আছে।
ভারতের প্রাচীনতম সাহিত্য প্রথমে মৌখিকভাবে ও পরে লিখিত আকারে প্রচলিত হয়। এই রচনাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেদ , ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত , নাটক অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ ইত্যাদি সংস্কৃত সাহিত্যের ধ্রুপদী কীর্তিসমূহ এবং তামিলে রচিত সঙ্গম সাহিত্য ।
আধুনিক কালের ভারতীয় সাহিত্যিকদের মধ্যে সর্বাগ্রগণ্য
হলেন ১৯১৩ সালে দেশের প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । এছাড়াও ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনার জন্য ভারতীয়
অথবা ভারতীয় বংশোদ্ভুত যেসকল
লেখকগণ সারা বিশ্বে খ্যাতি অর্জন
করেছেন তাঁরা হলেন অমিতাভ ঘোষ , মার্কিন-প্রবাসীবাঙালি সাহিত্যিক ঝুম্পা লাহিড়ী , নোবেলজয়ী ব্রিটিশ- ভারতীয় সাহিত্যিক ভি এস নাইপল প্রমুখ। ভারতীয় রন্ধনশৈলীর বিশেষত্ব হল
বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ আঞ্চলিক
রন্ধনপ্রণালী এবং ভেষজ ও মশলার
অভিজাত প্রয়োগ। দেশের প্রধান খাদ্য ভাত (পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে) ও রুটি (মূলত উত্তর ভারতে)।
ভারতে পোষাকের ঐতিহ্য রং, ধরন ও
জলবায়ুর মতো বিভিন্ন কারণে
অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন। থানকাপড়ের
পোশাক হিসাবে মহিলাদের ক্ষেত্রে শাড়ি ও পুরুষদের ক্ষেত্রে ধুতি বা লুঙ্গি বিশেষ জনপ্রিয়। এছাড়া সেলাই- করা পোষাকের মধ্যে মহিলাদের সালোয়ার-কামিজ ও পুরুষদের কুর্তা- পাজামা বা ইউরোপীয়-ধাঁচে ট্রাউজার্স ও শার্ট বিশেষভাবে প্রচলিত। ভারতে উৎসব প্রকৃতিগতভাবে ধর্মীয়।
যদিও অনেক ধর্ম ও জাতি নিরপেক্ষ
উৎসবও পালিত হয়ে থাকে। দীপাবলি , গণেশ চতুর্থী , উগাদি , পোঙ্গল, দোলযাত্রা , ওনাম, দশেরা, দুর্গাপূজা , ঈদুল ফিত্র , ঈদুল আজহা , বড়দিন , বুদ্ধজয়ন্তী , বৈশাখী প্রভৃতি কয়েকটি জনপ্রিয় উৎসব।
ভারতে তিনটি জাতীয় উৎসব পালিত হয়; এগুলি হল স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস
ও গান্ধী জয়ন্তী । এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন আঞ্চলিক উৎসবও
যথেষ্ট উৎসাহ-উদ্দীপনারমধ্য দিয়ে
পালিত হয়। ধর্মাচরণও দৈনন্দিন ও
গণজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ
হিসেবে গণ্য হয়। ভারতে সনাতন পারিবারিক মূল্য
বিশেষ সম্মানের অধিকারী। একাধিক
প্রজন্মের মিলনক্ষেত্র পিতৃতান্ত্রিক
যৌথ পরিবারগুলিই ভারতীয়
পরিবারতন্ত্রের আদর্শ বলে বিবেচিত
হয়। যদিও আজকাল নগরাঞ্চলগুলিতে ছোটো ছোটো নিউক্লিয়ার পরিবারের উদ্ভব ঘটতে দেখা যায়। ভারতে বিবাহ আয়োজিত হয় পাত্র ও পাত্রীর
পিতামাতা ও অন্যান্য গুরুজনস্থানীয়
আত্মীয়বর্গের সম্মতিক্রমে। আয়োজিত
বিবাহ ভারতে এক অতিমাত্রায় লক্ষিত বিবাহরীতি। বিবাহবন্ধন সারাজীবনের বন্ধন বলে বিবেচিত হয়। তাই এদেশে বিবাহবিচ্ছেদের হারও অত্যন্ত কম। ভারতে বাল্যবিবাহ প্রথা আজও প্রচলিত। দেশের অর্ধেকেরও বেশি
নারী বিবাহের আইনসম্মত বয়স আঠারো
বছরে পা রাখার পূর্বেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s