নবম গ্রহটি ভবিষ্যতে সৌরজগতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে


অন্তর্জাল নানাবিধ ষড়ষন্ত্রতত্ত্বে ঠাসা। প্রায়শঃই শোনা যায়, অনাবিষ্কৃত কোন গ্রহ যেকোনো মূহুর্তে পৃথিবীতে আঘাত হেনে একে তছনছ করে দেবে এবং এর প্রাণের অস্তিত্ব ভুলুন্ঠিত করবে। নতুন এই আলামাত সেই ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলোর আগুনে ঘি ঢেলে দিতে পারে।
বাস্তবতা হচ্ছে, সৌরজগতের অনেক বাইরে দিয়ে নেপচুনকে ছাড়িয়ে আরো অনেক দূর দিয়ে নবম একটি গ্রহেরঅস্তিত্বের ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েক বছর ধরে অনুমান করে আসছেন। এর আগে প্লুটোসহ নয়টি গ্রহ ধরা হলেও যেহেতু প্লুটোকে গ্রহ তালিকা হতে বাদ দেয়া হয়েছে তাই বর্তমানে গ্রহের সংখ্যা আটটি। আর নতুন গ্রহটির অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হলে পুণরায় গ্রহের সংখ্যা নয়টিতে গিয়ে দাঁড়াবে। এই নতুন গ্রহটিকে প্ল্যানেট নাইন, প্ল্যানেট এক্স নামে ডাকা হয়। এই গ্রহটি যেহেতু সৌরজগতের একেবারে প্রান্তের কাছে অবস্থান করে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে তাই সহসা এটি পৃথিবীতে আঘাত করে প্রাণের বিণাশ করে ফেলবে এমন সুযোগ নেই।
তবে সম্প্রতি নতুন একটি গবেষণা অনুযায়ী প্ল্যানেট নাইন দূর-ভবিষ্যতে সৌরজগতে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, অবশ্য সেই সময় আসতে আসতে সূর্যের নিজেরই অন্তিম দশা উপস্থিত হবে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকএর গবেষক ড. দিমিত্রি ভেরাস দূর-ভবিষ্যতে সৌরজগতের পরিণতি কেমন হতে পারে তা সিমুলেশন করে দেখেছেন। সূর্য আজ হতে প্রায় ৭০০ কোটি বছর পরে মরে যেতে শুরু করবে এবং এর জীবনের শেষ প্রান্তে একটি লাল দানব (red giant)-এ পরিণত হবে। এটি আকারে এতোই বড় হয়ে যাবে যে, বড় হতে হতে খুব সম্ভাবনা আছে যে পৃথিবীকেও গ্রাস করে ফেলবে।
এই ধরনের বিশালাকার নক্ষত্রের বহিঃস্তর অভিকর্ষের দ্বারা খুব দৃঢ় ভাবে আবদ্ধ থাকে না। ফলে বহিঃস্তরের গ্যাসীয় বস্তু ধীরে ধীরে মহাশূন্যে বিলীন হতে থাকবে এবং সূর্য একটি শ্বেত বামনে পরিণত হবে। এই নির্গত গ্যাস ধাক্কা দিয়ে বাইরের দিকের অন্যান্য গ্রহ যেমন: বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুনকে আরো বাইরে ঠেলে দেবে ফলে এরা নিরাপদ দুরত্বে থেকেই সূর্যকে প্রদক্ষিন করতে থাকবে। বিষয়টি এদের জন্য রূপকথার মতোই এক পরিণতির মতো শোনায়।
তবে সব রূপকথাতেই কুটিল চরিত্রের ভিলেনের আগমন ঘটে, এবং ভেরাসের সিমুলেশন অনুযায়ী এই ভিলেন হচ্ছে প্ল্যানেট নাইন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী যখন বাহিরের দিকের গ্যাসীয় দৈত্যাকৃতির গ্রহগুলো আরো বাইরে যেতে থাকবে তখন নবম গ্রহটির ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, এবং এটি একটি মহাজাগতিক বিলিযার্ড ম্যাচের নেতৃত্ব দিয়ে বসতে পারে। প্ল্যানেট নাইনের ভর এবং বাইরের গ্রহগুলোর কক্ষপথের চূড়ান্ত অবস্থানের উপর নির্ভর করে এটি ইউরেনাস ও নেপচুনকে আরো বাইরের দিকে কিংবা সূর্যের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
ভেরাস বলেন, “দুরবর্তী ভারী গ্রহটির অস্তিত্ব সৌরজগতের নিয়তি পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। সুনির্দিষ্টভাবে, ইউরেনাস এবং নেপচুন হয়তো সুর্য়ের মারণবাণ হতে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবে না। সৌরজগতের নিয়তি নির্ভর করবে প্ল্যানেট নাইনের ভর এবং এর কক্ষপথের বৈশিষ্ট্যের উপর, যদি সত্যিই এর অস্তিত্ব থাকে।”
*উৎস :- বিজ্ঞান
পত্রিকা ।
***Mission Geography***
Like our Facebook Page->
Like our Facebook Page

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s