Garo Tribe


গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়। ভারতে মেঘালয় ছাড়াও আসামের কামরূপ, গোয়ালপাড়া
ও কারবি আংলং জেলায় এবং বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল , সিলেট , শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকা ও গাজীপুর জেলায় গারোরা বাস করে। গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক
গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে
পরিচয় দেন। গারোদের ভাষায় ‘মান্দি’ শব্দের অর্থ হল ‘মানুষ’।
গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক
পরিবার প্রথা প্রচলিত। তাদের
প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের
নাম ‘ওয়ানগালা’; যাতে দেবতা মিসি
আর সালজং এর উদ্দেশ্যে উৎপাদিত
ফসল উৎসর্গ করা হয়। উল্লেখ্য ওয়ানগালা না হওয়া পর্যন্ত মান্দিরা
নতুন উৎপাদিত ফসলাদি খেত না। আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা
তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।
অতীতে গারোরা সবাই তাদের নিজস্ব
ধর্ম পালন করত। তাদের আদি ধর্মের
নাম ‌’সাংসারেক’। ১৮৬২ সালে খৃষ্ট
ধর্ম গ্রহণের পর থেকে বর্তমানে ৯৮ ভাগ গারোরাই খ্রীষ্ট ধর্মে
বিশ্বাসী। খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণের পর
থেকে তাদের সামাজিক নিয়ম-কানুন,
আচার-অনুষ্ঠানে বেশ পরিবর্তন
এসেছে। গারোদের প্রধান দেবতার নাম
তাতারা রাবুগা। এছাড়াও অন্যান্য
দেবতারা হলেন- মিসি সালজং, সুসমি,
গয়ড়া প্রমুখ। বিভিন্ন গবেষকগণ
বিভিন্ন সময়ে গবেষণা করে এ পর্যন্ত
বেশ কয়েকটি গারো বর্ণমালা আবিষ্কার করেছেন। সেগুলো উচ্চ
গবেষণার জন্য বিরিশিরি কালচারাল
একাডেমি-তে সংরক্ষণ করা আছে। ভাষা গারোদের ভাষার স্থানীয় নাম মান্দি
ভাষা। তবে ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে,
গারোরা যে ভাষায় কথা বলে তা মূলত
সিনো-টিবেটান (Sino Tibetan) ভাষার
অন্তর্গত টিবেটো বার্মান (Tibeto
Burman) উপ-পরিবারের আসাম-বার্মা শাখার অন্তর্গত বোডো বা বরা (Bodo/
Bora) ভাষা উপ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
গারোদের কোনো লিপি বা অক্ষর নেই। দৈহিক বৈশিষ্ট্য গারোদের দৈহিক আকৃতি মাঝারি
ধরনের ও দেহ লোমহীন, চ্যাপ্টা নাক,
চোখ ছোট, ফর্সা থেকে শ্যামলা রং।
তাদের দাড়ি গোফ তেমন নেই বললেই
চলে এবং দৈহিক গঠনে বেশ
শক্তিশালী। ধর্ম বাংলাদেশে বসবাসকৃত বর্তমান
গারোদের ৯০% ধর্মান্তরিত
খিষ্ট্রান। প্রায় ২% মুসলিম ও হিন্দু
এবং বাকি ১০% ঐতিহ্যবাহী ধর্ম
পালন করে(২০০৮ সালের তথ্যমতে)।
গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সংসারেক। এর অর্থ কেউ জানে না। তবে
গবেষকদের মতে সম্ভবত বাংলা সংসার
থেকে সংসারেক শব্দটি এসেছে।
গারোরা হিন্দু ধর্মালম্বীদের মত পূজা
করে থাকে। তাদের প্রধান পূজা
‘ওয়ানগালা’। সালজং(Saljong) তাদের উর্বরতার দেবতা এবং সূর্য সালজং এর
প্রতিনিধি। ফসলের ভালোমন্দ এই
দেবতার উপর নির্ভর করে বলে তাদের
বিশ্বাস। সুসাইম(Susime) ধন দৌলতের
দেবী এবং চন্দ্র এই দেবীর
প্রতিনিধি। গোয়েরা(Goera) গারোদের শক্তি দেবতার নাম। কালকেম(Kal Kame)
জীবন নিয়ন্ত্রণ করে বলে গারোদের
বিশ্বাস। খাদ্যাভাস বাংলাদেশি গারোরা হাঁস-মুরগি, গরু-
ছাগল,শূকর প্রভৃতি খায়। মদ তাদের
অপরিহার্য পানীয়। বর্তমানে
গারোরা লেখাপড়া ও চাকুরি করার
সুবাদে বিভিন্ন স্থানে গমন এবং
দেশীয় লোকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠাই দেশীয় খাবারগুলো
নিজস্ব সংস্কৃতির পাশাপাশি খাবার
খেতে ভালোবাসে। গারোদের সবচেয়ে
প্রিয় খাবার হচ্ছে-নাখাম কারি। যা
পুটি মাছের শুটকি দিয়ে তৈরি হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শুকুরের মাংস গারোদের অতি প্রিয়।
garo-tribe2
২০১৬ সালের হিসাবে গারো উপজাতি র জনসংখ্যা মেঘালয়ে ৭,০০০০০ জন, আসামে ২৯,১০০ জন, ত্রিপুরা তে ৬০০০ জন, এছাড়া বাংলাদেশে সিলেট ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২১০০০০ জন। খাসি উপজাতির পর মেঘালয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজাতি হল গারো উপজাতি। এরা মুলত গারো পাহাড়ে বসবাস করেন।
বর্তমানে গারো উপজাতি র মধ্যে খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী রয়েছেন ৯০% এবং গারো উপজাতির নিজস্ব প্রাচীন “সংসারেক” ধর্মাবলম্বী আছেন ১০%। তাদের প্রাচীন ধর্ম এবং সংস্কৃতি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে বলে ২০০৩ সালে “রিশি জিলমা” নামক ধর্ম রক্ষক গঠিত হয়। তারা তাদের প্রাচীন সংস্কৃতি রক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এঁদের ভাষার নাম গারো। এটি তিব্বতীয় -বার্মা ভাষা শ্রেণী র অন্তর্গত। প্রাথমিক ভাবে এই ভাষা ছিল মৌখিক, লিপি ছিল না। পরে এই ভাষা রোমান লিপি এবং বাংলাদেশে বাংলা লিপি গ্রহন করে। তাদের সংস্কৃতির ইতিহাস থেকে জানা যায়, গারো উপজাতি তিব্বত থেকে খ্রীষ্ট পূর্ব ৪০০ বছর আগে ব্রহ্মপুত্র নদী পেরিয়ে গারো পাহাড়ে বসতি নির্মাণ করে।
garo
নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গারো উপজাতি মঙ্গোলয়েড শ্রেণী ভুক্ত। তাদের সমাজ হল মাতৃতান্ত্রিক। মা এর কাছ থেকে সকল সম্পত্তির অধিকার পায় পরিবারের কনিষ্ঠা কন্যা। কনিষ্ঠা কন্যাকে বলে নকমেচিক। ছেলেদের কে বয়ঃসন্ধি কালে পরিবার ছেড়ে গ্রামের অবিবাহিত এবং বৃদ্ধ পুরুষ দের জন্য বরাদ্দ আলাদা ঘরে থাকতে হয়, এই ঘর গুলিকে বলে নকপ্যান্টে। বিয়ের পর ছেলেরা তাদের স্ত্রীর বাড়িতে থাকে। আধুনিক গারো সম্রদায় খ্রীষ্টান ধর্মের দ্বারা বিশেষ প্রভাবিত হয়েছে। আধুনিক গারো দম্পতি তাদের ছেলে মেয়ে সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখেন এবং রক্ষা করেন।
তারা ঝুম চাষের মাধ্যমে চাষাবাদ করেন। তারা ধান, মিলেট, যব, ইত্যাদি চাষ করেন। তারা ছাগল, শূকর, মুরগী, হাঁস প্রতিপালন করেন খাদ্যের প্রয়োজনে।
অক্টোবর নভেম্বর মাসে গারো উপজাতি তাদের প্রাচীন সাংস্কৃতিক উৎসব ওয়াংআলা তে মাতেন। এই উৎসবে গারো যুবক যুবতী গন নৃত্য গীত এর মাধ্যমে প্রকৃতির উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
garo2
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s