Khasi Tribe


বাংলাদেশের সিলেট জেলা ও ভারতের আসামে এই জনগোষ্ঠী বাস করে। সিলেটের খাসিয়ারা সিনতেং
(Synteng) গোত্রভুক্ত জাতি। তারা
কৃষিজীবী। ভাত ও মাছ তাদের প্রধান
খাদ্য। তারা মাতৃপ্রধান পরিবারে
বসবাস করে। তাদের মধ্যে কাচা সুপারি ও পান খাওয়ার প্রচলন খুব বেশি। খাসিয়াদের উৎপাদিত পান
বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয়। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও এ
সম্প্রদায়ের লোকজন শান্তিপ্রিয়।
তাদের রয়েছে নিজস্ব নিয়ম-কানুন।
তবে তাদের মধ্যে খাসিয়ারাই
মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায়
পরিচালিত। তাদের সমাজ ব্যবস্থায় কোনো পুরুষ সম্পত্তির মালিক হয় না।
পুরুষদের বিয়ে হলে তারা শ্বশুরবাড়ি
গিয়ে ওঠে। তারাও এ অঞ্চলের অন্যান্য
আদিবাসীর মতো একটি প্রাচীন
সম্প্রদায় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে
সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছে। পাহাড়ের পাদদেশে বিভিন্ন
টিলা এলাকায় তাদের বসবাস।
দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করলেও
তারা অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির।
তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর,
দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তারা বসবাস করছে।
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়
২৫০টি খাসিয়া পরিবার বসবাস
করছে। জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ
শতাব্দীতে আর্যরা এ দেশে আধিপত্য
প্রতিষ্ঠা করলে তারা আদিবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীকালে এ আদিবাসীরাই অনার্য
বলে পরিচিতি লাভ করে। আর্য-অনার্য
যুদ্ধে অনার্যরা পরাজিত হয়ে বনে
জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। পরে এ গহিন বনেই
তারা বসবাস শুরু করে। ফলে তারা শিক্ষা দীক্ষা ও আধুনিক জীবন
ব্যবস্থা থেকে দূরে থাকে।
খাসিয়াদের সাংস্কৃতিক জীবন বেশ
সমৃদ্ধ। তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক
অনুষ্ঠানগুলো খুব আকর্ষণীয়। তাদের
ভাষায় রচিত গানগুলোও হৃদয়ছোয়া।
khasia-people
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ১.৬ মিলিয়ন খাসি উপজাতি ভুক্ত জনগণ মেঘালয়ে এবং প্রায় ১৫০০০ খাসি জনগণ আসামে বসবাস করেন। এছাড়া বাংলাদেশে প্রায় ২৫০০০ এর মতো খাসি উপজাতির মানুষ বসবাস করেন।খাসি গন নিজেদের কে বলেন “Ki khun U Hynniewtrep ” অর্থাৎ “The children of the seven huts “। বর্তমানে খাসি উপজাতি র ৮৫% খ্রীষ্টান, ১০ % খাসি ধর্ম কা নিয়ামট্রে, ৩%হিন্দু এবং ২% মুসলমান। তাদের ভাষার নাম খাসি। প্রথম দিকে খাসি ভাষা মৌখিক ছিল, কোনো লিপি ছিল না। পরে খ্রীষ্টান মিশনারি গন এসে তাদের ভাষা কে রোমান লিপিতে লিপিভুক্ত করেন। খাসি ভাষা অস্ট্রো এশিয়াটিক শ্রেনী ভুক্ত।
এই খাসি উপজাতি গণ মঙ্গোলয়েড নরগোষ্ঠী ভুক্ত। তাদের সমাজ হল মাতৃতান্ত্রিক। অর্থাৎ এই সমাজব্যবস্থায় মহিলা ই হল প্রধান, তাদের দ্বারাই সমাজ পরিচালিত হয়। মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় খাসি মহিলারা শিশু এবং সম্পত্তির অধিকার ভোগ করেন।
খাসি উপজাতি র গায়ের রং বাদামী থেকে হালকা হলুদ রং এর এবং চামড়ায় ভাঁজ লক্ষ্য করা যায়। ছেলে – মেয়ে উভয়েই গহনা পড়তে ভালোবাসেন। ছেলে মেয়ে উভয়েই কানের দুল পড়েন। যুবক ও যুবতী গন স্বাধীন ভাবে তাদের জীবন সঙ্গী নির্বাচন করতে পারেন। ছেলেদের ক্ষেত্রে বিবাহযোগ্য বয়স ১৮-৩৫ বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে বিবাহযোগ্য বয়স ১৩-১৮বছর।
খাসি উপজাতি গন ঝুম চাষ নামক স্থানান্তর কৃষি অবলম্বন করে থাকেন। তারা পান, সুপারি, কমলা লেবু, ধান, সব্জি চাষ করে থাকেন।
প্রতিবছর নভেম্বর মাসে তারা পাঁচ দিন ব্যাপী নংক্রেম নামক এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন। খাসি পাহাড়ের শিলং এর কাছে স্মিট এ এই অনুষ্ঠান হয়। এই উৎসবে অবিবাহিত যুবক এবং যুবতী গন ই নৃত্য অনুষ্ঠান করেন। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শিলং পাহাড় এবং পূর্বপুরুষ দের উদ্দেশ্যে ছাগল উৎসর্গ করা হয়।
khasi
★চিত্রে খাসি উপজাতির নংক্রেম অনুষ্ঠান এর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s