পৃথিবীর তাপবলয় [Temperature belts of the Earth]


সমোষ্ণরেখা [Isotherm Line]:-
ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র তাপমাত্রা সমান নয় । ভূপৃষ্ঠে যেসব জায়গায় বছরের একই সময় (সাধারণত জানুয়ারি ও জুলাই মাসে) গড় উষ্ণতা একই রকম থাকে, মানচিত্রে সেই সব জায়গাকে পরস্পর যোগ করে যে কাল্পনিক রেখা তৈরি হয় তাকে সমোষ্ণ রেখা বলে । অর্থাৎ, যে কাল্পনিক রেখা দিয়ে বছরের একই সময়ে একই উষ্ণতা বিশিষ্ট স্থানগুলি মানচিত্রে যোগ করা হয় তাকে সমোষ্ণ রেখা বলে । সমোষ্ণ রেখার মানচিত্রের সাহায্যে পৃথিবীর নানা স্থানে উষ্ণতার বিস্তৃতি সম্বন্ধে ধারণা করা যায় ।
isotherm-line2
►তাপবলয় :- ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র তাপমাত্রা সমান নয় । বছরের গড় তাপমাত্রা নিম্ন অক্ষাংশে সবচেয়ে বেশি, মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে কম এবং মাঝামাঝি অঞ্চলে মাঝামাঝি ধরনের । ভূপৃষ্ঠের সুর্যতাপের পরিমাণের পার্থক্য অনুসারে পৃথিবীকে পাঁচটি তাপমণ্ডলে ভাগ করা যায়, যথা–
[i] উষ্ণমণ্ডল (Torrid Zone), [ii] উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল (North Temperate Zone), [iii] দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল (South Temperate Zone), [iv] উত্তর হিম মণ্ডল (North Frizid Zone) [v] দক্ষিণ হিম মণ্ডল (South Frizid Zone)
[i] উষ্ণমণ্ডল:- নিরক্ষরেখার উত্তরে ও দক্ষিণে উভয় দিকে ২৩½০ অক্ষাংশ পর্যন্ত কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখাদ্বয়ের মধ্যবর্তী ৫,২০০ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চলকে গ্রীষ্মমণ্ডল বা উষ্ণমণ্ডল [Torrid Zone] বলে ।
temperate-zone
এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:-
ক) দিনের দৈর্ঘ্যের বিশেষ পার্থক্য হয় না এবং প্রত্যেক স্থানে সূর্যরশ্মি বছরে অন্তত দু’দিন [২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর] মধ্যাহ্নে লম্বভাবে পতিত হয় এবং অন্যান্য সময়েও প্রায় সোজাভাবে পড়ে ;
খ) এই সমস্ত কারণে সারা বছর ধরে এই অঞ্চল, পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে উষ্ণ থাকে;
গ) এখানে শীত ও গ্রীষ্মের উষ্ণতার পার্থক্য কম;
ঘ) এই অঞ্চলের যে-কোনো জায়গায় বার্ষিক গড় উষ্ণতা ২৭০ সেলসিয়াস বা তার বেশি;
ঙ) যদিও সূর্যের আপাত গতি সাধারণভাবে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩½০ উত্তর অক্ষরেখা) ও মকরক্রান্তি রেখার (২৩½০ দক্ষিণ অক্ষরেখা) মধ্যেই সীমাবদ্ধ, কিন্তু তার প্রভাব আরও কিছু উত্তর ও দক্ষিণে পৌঁছায়, তাই উষ্ণমণ্ডলের [Torrid Zone] প্রকৃত সীমানা নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ২৭০ সেলসিয়াস সমোষ্ণরেখা পর্যন্ত ধরা হয় ।
[ii] উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল এবং [iii] দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল:- গ্রীষ্মমণ্ডলের উত্তর ও দক্ষিণে ২৩½০ থেকে ৬৬½০ অক্ষরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের [Temperate Zone] অন্তরর্গত । কর্কটক্রান্তি রেখা [২৩½০ উত্তর] থেকে সুমেরুবৃত্ত [৬৬½০ উত্তর] পর্যন্ত অঞ্চলকে উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল [North Temperate Zone] বলে । মকরক্রান্তি রেখা [২৩½০ দক্ষিণ ] থেকে কুমেরুবৃত্ত [৬৬½০ দক্ষিণ] পর্যন্ত অঞ্চলকে দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল [South Temperate Zone] বলে ।
এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:-
ক) এই অঞ্চলে সূর্যরশ্মি খুব তির্যক ভাবে পড়ে না । তাই এই অঞ্চল গ্রীষ্মে খুব একটা উষ্ণ বা শীতে খুব একটা শীতল হয় না ।
খ) সমোষ্ণরেখা অনুসারে প্রত্যেক গোলার্ধে ২৭০ সেলসিয়াস থেকে O০ সেলসিয়াসের মধ্যবর্তী অঞ্চল হল নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল ।
গ) উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের এই দুই অঞ্চলকে যথাক্রমে উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল ও দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল বলে ।
ঘ) এদের প্রত্যেকের বিস্তৃতি প্রায় ৪,৮০০ কিমি ।
ঙ) এই মণ্ডলের যে অংশ হিমমণ্ডলের নিকটবর্তী (প্রায় ৪৫০ – ৬৬০), তাকে শীতপ্রধান নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল এবং যে অংশ গ্রীষ্মমণ্ডলের নিকটবর্তী (প্রায় ৩০০- ৪৫০), তাকে গ্রীষ্মপ্রধান নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল বলে ।
[iv] উত্তর হিমমণ্ডল এবং [v] দক্ষিণ হিমমণ্ডল:- দুই মেরুর চতুর্দিকে ৬৬½০ থেকে ৯০০ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে হিমমণ্ডল [Frizid Zone] বলা হয় । সুমেরুবৃত্ত [৬৬½০ উত্তর] থেকে সুমেরু পর্যন্ত অঞ্চলকে উত্তর হিম মণ্ডল [North Frizid Zone] বলে । আর কুমেরুবৃত্ত [৬৬½০ দক্ষিণ] থেকে কুমেরু পর্যন্ত অঞ্চলকে দক্ষিণ হিম মণ্ডল [South Frizid Zone] বলে ।
এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:-
ক) এই অঞ্চলে সূর্যের অবনতি বছরের সব সময় ৪৩০-র বেশি থাকে এবং সূর্যরশ্মি একেবারে তির্যকভাবে পড়ে ।
খ) এই অঞ্চলের সর্বত্রই বছরের অন্তত একদিন আকাশে সূর্যকে দেখাই যায় না ।
গ) উত্তর ও দক্ষিণ মেরুবিন্দুতে একসঙ্গে ছয় মাস দিন ও ছয় মাস রাত্রি হয় ।
ঘ) এই সমস্ত কারণে এই স্থান দুটি অত্যন্ত শীতল । সুমেরুর চতুর্দিকে উত্তর হিমমণ্ডল ও কুমেরুর চতুর্দিকে দক্ষিণ হিমমণ্ডল অবস্থিত ।
ঙ) যেহেতু এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ২৪ ঘন্টা থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সূর্য একেবারেই অস্ত যায় না, তাই এই অঞ্চলকে ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ বলে ।
চ) মেরু অঞ্চলে ছয় মাস ব্যাপী অন্ধকারের সময় আকাশে মাঝে মাঝে রামধনুর মতো অস্পষ্ট আলো দেখা যায় যাকে সুমেরু অঞ্চলে সুমেরু প্রভা ও কুমেরু অঞ্চলে কুমেরু প্রভা বলে ।
ছ) সমোষ্ণরেখা অনুসারে ০০ সেলসিয়াস সমোষ্ণরেখা থেকে উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত অঞ্চলকে হিমমণ্ডল ধরা হয় ।
***Mission Geography***

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s