Rain Mystery


” বৃষ্টি রহস্য ”
*লেখক- সৌরভ সরকার ।
আমরা এমন একটি গ্রহের খোঁজ করেছি যেখানে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু , অচেনা দৃশ্য এবং যেখানে প্রতি মুহূর্তে কিছু না কিছু অদ্ভূত ঘটনা ঘটে চলেছে । এই গ্রহ ব্রহ্মাণ্ডের সবথেকে অদ্ভূত গ্রহ । আর এই গ্রহ হল আমাদের পৃথিবী । আমরা এর রহস্যকে এই মাত্র জানা শুরুই করেছি ।
আমাদের পৃথিবীতে এমন একটি প্রক্রিয়া রয়েছে যেটা আমাদের কাছে একটি সাধারণ ব্যাপার । এটি ব্রহ্মাণ্ডের শুধুমাত্র অদ্ভূত ঘটনা নয় , এটি ছাড়া মানুষের অস্তিত্বও থাকত না । আমাদের শরীরে এক এক বিন্দু জল কোটি কোটি বছর ধরে রয়েছে । এমনও হতে পারে আমাদের শরীরে সেই জলই রয়েছে , যে জল আইস্টাইন কিংবা স্বামী বিবেকানন্দের শরীরে ছিল । এই প্রক্রিয়া হল বৃষ্টিপাত । সৃষ্টিকর্তার জানা কিন্তু খুব শক্তিশালী শক্তি একে ঘটায় । এর মধ্যে রয়েছে অনেক রহস্য এমনকি জীবনও । বৃষ্টির ওপর থেকে পর্দা উঠবে এবার আমাদের “Mission Geography” গ্রুপে ।
rain-falling-on-trees
আকাশ থেকে আমাদের পৃথিবীকে অরূপ সুন্দর দেখায় । সৌরমণ্ডলের মধ্যে আমাদের পৃথিবী সবথেকে অদ্ভূত কারণ এর উপর বিশাল সমুদ্র আছে । আর এর আকাশ থেকে জল ঝরে পড়ে । ঘখন আপনি মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেন তখন দুটি জিনিস অবশ্যই লক্ষ্য করেন এক সাদা মেঘ , আর অপরটি নীল সমুদ্র । সমুদ্র , বয়ে যাওয়া নদী , ঝর্ণা , গাছের পাতা ও ঘরের গায়ে লেগে থাকা জল আমাদের Water Cycle -এর অংশ । সেই cycle যার জন্য পৃথিবীতে জীবন রয়েছে । এমনকি আমরাও এই বর্ষাচক্রের একটি অংশ । পৃথিবীর সবথেকে শুষ্ক মরুভূমি, যাকে Death Valley -ও বলা হয় । যাকে বর্ষার জল বর্তমান আকার দিয়েছে । এখানে একসময় নদী বয়ে গিয়েছিল, যার জন্যই এখানকার পাহাড়ে সুন্দর সুন্দর আকৃতির ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়েছে ।
death-valley-national-park-600x394
বৃষ্টি দেখতে সহজ মনে হলেও খুব কম লোকই জানে বৃষ্টি কেমন করে হয় । যেমন মহাকাশ থেকে আসা ক্ষুদ্র কণা এবং ভূপৃষ্ঠের সূক্ষ্ম জীব আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরতে সাহায্য করে । বৃষ্টির রহস্যের শুরু হয় এক বিশেষ রূপে, যা তরল নয় ।
ice
ভূপৃষ্ঠের অনেক উপরে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির থেকে অনেক কম হয় । অনেক স্কুলে পড়ানো হয় শূন্য ডিগ্রিতে জল বরফ হয়ে যায় । কিন্তু আকাশে এই রকম হয় না । উষ্ণতা শূন্যের থেকে কম হলেও জল বরফে পরিণত হতে পারে না , কারণ এর জন্য দরকার মৃত্তিকার সূক্ষ্ম কণার । যা অতি শীতল তরল জলকে বরফের কেলাসে পরিণত করে ।
অনেক ছোট কণা, যেমন – বালি, লবণকণা, ছাইয়ের কণা বাতাসের দ্বারা আকাশে মেঘের মধ্যে চলে যায় । আবার কিছু কণা মহাকাশ থেকেও আসে । প্রতিদিন 2731 কিলোগ্রাম । এই কণা এতটাই ক্ষুদ্র যে পৃথিবীতে আসার সময় ঘর্ষণে পুড়ে যায় না । অনুমান করা হয়, এই মাইক্রোমিট্রোরাইটের জন্য পৃথিবী প্রতিবছর 10000 টন করে ভারী হচ্ছে । এই মাইক্রোমিট্রোরাইট ঘখন মেঘের অতিশীতল জলকণার মধ্যে প্রবেশ করে । তখন সেই জলকণা crystral হয়ে জমে বরফে পরিণত হয় ।
types-of-rainfall-2-638
rain_formation
আর সেই বরফ কণাকে কেন্দ্র করে আশেপাশের জলকণা একত্রিত হয়ে বড়ো বরফ কণায় পরিণত হয় । আর সেই বরফ কণা ভারী হয়ে নীচে নামতে শুরু করলে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে গলতে শুরু করে এবং জলকণা রূপে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে ।
rain-falling-wallpaper-3
অদ্ভূত ব্যাপার এই যে জীবন্ত প্রাণী থেকেও Ice Crystral -এর সৃষ্টি হতে পারে । অতি ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া , যেমন সিউডোমোরাস সিরিন্গে বাতাসের দ্বারা আকাশে উঠে ভেসে বেড়ানো অতি শীতল জলকণার মধ্যে প্রবেশ করে অতি দ্রুত বরফ কণায় পরিণত করতে পারে । সেই বরফ কণা মধ্যার্ষণে নীচে নামার সময় সূর্যরশ্মির তাপে গলে গিয়ে বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ার সময় সেই সিউডোমোরাস সিরিন্গে আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে ।
** পরবর্তী অংশ অতি শীঘ্রই আসছে ।
***Mission Geography***
Edited by Sourav Sarkar.

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s