Geological Time Scale (PART-2)


ভূ – তাত্ত্বিক সময় সারণী (Geological Time Scale)
*PART-2

Writer – Arijit Dabangg Sinha
(Parsola★Bankura★Mob 8016427527)
________________________________
II) মেসোজোয়িক যুগঃ- এটি ফ্যানেরোজোয়িক মহাযুগের দ্বিতীয় যুগ(Era)। এই যুগটি ২৫১.১৭ থেকে ৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Mesozoic নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Meso’ = মধ্যবর্তী (Middle ; Between) এবং ‘Zoic’ = জীবন(Life) থেকে এসেছে। অর্থাৎ Mesozoic শব্দটির অর্থ হল — মধ্যবর্তী জীবন (Middle Life)। মেসোজোয়িক যুগ ‘Age Of Reptiles’ বা ‘সরীসৃপের যুগ’ এবং ‘Age Of Conifers’ বা ‘সরলবর্গীয় মোচাকৃতি বৃক্ষের যুগ’ নামেও পরিচিত।
মেসোজোয়িক যুগ আবার ৩ টি উপযুগে(Period) বিভক্ত —
১) ট্রিয়াসিক উপযুগ (Triassic Period)
সময়কালঃ- ২৫২.১৭ থেকে ২০১.৩ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
২) জুরাসিক উপযুগ (Jurassic Period)
সময়কালঃ- ২০১.৩ থেকে ১৪৫.৫ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
৩) ক্রিটাশিয়াস উপযুগ (Cretaceous Period)
সময়কালঃ- ১৪৫.৫ থেকে ৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
________________________________________________
১) ট্রিয়াসিক উপযুগঃ- এটি মেসোজোয়িক যুগের সবচেয়ে প্রাচীন উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ২৫২.১৭ থেকে ২০১.৩ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ ট্রিয়াসিক উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক
সময়কালের প্রায় ৫১ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Triassic নামটি জার্মান শব্দ ‘Trias’ = তিন অর্থাৎ তিনটি শিলাস্তর (পার্মিয়ান ও জুরাসিক মধ্যবর্তী তিনটি শিলাস্তর — Red Beds, Limestone & Mud – Sandstone কে বোঝায় ; যা জার্মানি ও উঃ-পঃ ইউরোপ জুড়ে পাওয়া গেছে) থেকে এসেছে। ১৮৩৪ সালে ফ্রেডরিখ আগস্ট ভন আলবার্টি এই নামকরন করেন।
ট্রিয়াসিক উপযুগ আবার ৩ টি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত — a) প্রাথমিক / প্রাচীন ট্রিয়াসিক ইপোচ (Early Triassic Epoch):- সময়কালঃ- ২৫২.১৭ থেকে ২৪৭.২ মিলিয়ন বছর পূর্ব। b) মধ্য ট্রিয়াসিক ইপোচ (Middle Triassic Epoch):- সময়কালঃ- ২৪৭.২ থেকে ২৩৭ মিলিয়ন বছর পূর্ব। c) পরবর্তী ট্রিয়াসিক ইপোচ (Late Triassic Epoch):- সময়কালঃ- ২৩৭ থেকে ২০১.৩ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
ট্রিয়াসিক উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — স্থলে Archosaurs ও সমুদ্রে Ichthyosaurs, Nothosaurs এবং আকাশে Pterosaurs এর প্রাধান্য ; প্রথম স্তন্যপায়ী ও কুমীর প্রজাতির উদ্ভব ; স্থলভাগে Dicroidium Flora এর প্রাচুর্য্য ; আধুনিক প্রবাল এবং Teleost মাছের আবির্ভাব ; ডাইনোসরের উদ্ভব (যদিও এই সময় ডাইনোসরের উচ্চতা ছিল মাত্র ৬ ইঞ্চি) ; দঃ আমেরিকায় আন্দিজ পর্বত গঠন ; এশিয়াতে কিম্মেরিয়ান পর্বত গঠন ; নিউজিল্যান্ডে রংগিটাটা পর্বত গঠন ; অস্ট্রেলিয়াতে হান্টার – বাওয়েন পর্বত গঠন সমাপ্ত প্রভৃতি।
________________________________________________
২) জুরাসিক উপযুগঃ- এটি মেসোজোয়িক যুগের দ্বিতীয় উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ২০১.৩ থেকে ১৪৫.৫ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ জুরাসিক উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালের ৫৫.৮ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Jurassic নামটি ইউরোপের জুরা পর্বতের নাম থেকে (Jura শব্দটি সেলটিক শব্দ Jor > লাতিন শব্দ Juria = অরণ্য বা Forest ; Jura Mountains = Forest Mountains) এসেছে। ১৭৯৫ সালে আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট এই নামকরন করেন।
জুরাসিক উপযুগটি আবার ৩ টি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত — a) প্রাথমিক / প্রাচীন জুরাসিক ইপোচ (Early Jurassic Epoch):- সময়কালঃ- ২০১.৩ থেকে ১৭৪.১ মিলিয়ন বছর পূর্ব। b) মধ্য জুরাসিক ইপোচ (Middle Jurassic Epoch):- সময়কালঃ- ১৭৪.১ থেকে ১৬১.২ মিলিয়ন বছর পূর্ব। c) পরবর্তী জুরাসিক ইপোচ (Late Jurassic Epoch):- সময়কালঃ- ১৬১.২ থেকে ১৪৫.৫ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
জুরাসিক উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — জিমনোস্পার্ম ও ফার্নের প্রাচুর্য্য ; স্থলভাগে ডাইনোসরের সর্বাধিক বিকাশ ( Sauropods, Carnosaurs প্রভৃতি) ; স্তন্যপায়ীদের বিস্তার, যদিও আকৃতিতে ছোটো ; প্রথম পাখী ও গিরিগিটীর উদ্ভব ; সমুদ্রে Sea Urchin, Starfish, Sponge প্রভৃতির প্রাচুর্য্য ; প্যানজিয়া ভেঙে গন্ডোয়ানা ও লরেশিয়ার উদ্ভব ; উঃ আমেরিকায় নেভাদা পর্বত গঠন ; বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা ১২০০ – ১০০০ ppmv ; সমুদ্রতলের উত্থান প্রভৃতি।
________________________________________________
৩) ক্রিটাশিয়াস উপযুগঃ- এটি মেসোজোয়িক যুগে তৃতীয় তথা শেষ এবং নবীনতম উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ১৪৫.৫ থেকে ৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ ক্রিটাশিয়াস উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-
তাত্ত্বিক সময়কালের ৭৯.৫ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Cretaceous নামটি লাতিন শব্দ ‘Creta’ = চক (Chalk) থেকে এসেছে। এই উপযুগেই পৃথিবীর নানা স্থানে চক শিলার উৎপত্তি হয় বলে, এই উপযুগের এইরূপ নামকরন করা হয়েছে। ১৮২২ সালে জিন ডি’ওমালিউস ডি’হ্যালয় এই নামকরন করেন। ক্রিটাশিয়াস উপযুগ আবার ২ টি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত — a) প্রাথমিক / প্রাচীন ক্রিটাশিয়াস ইপোচ (Early Cretaceous Epoch):- সময়কালঃ- ১৪৫.৫ থেকে ১০০.৫ মিলিয়ন বছর পূর্ব। b) পরবর্তী ক্রিটাশিয়াস ইপোচ (Late Cretaceous Epoch):- সময়কালঃ- ১০০.৫ থেকে ৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
ক্রিটাশিয়াস উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — অারও আধুনিক Teleost মাছের আবির্ভাব ; সপুষ্পক উদ্ভিদের দ্রুত বিস্তার ; নানারকম পতঙ্গের উদ্ভব ; Ammonnoids, Belemnoids, Sea Urchins, Sponge প্রভৃতির প্রাচুর্য্য ; প্রথমার্ধে নানা প্রজাতির ডাইনোসরের উদ্ভব ও বিকাশ (Tyrannosaurs, Titanosaurs প্রভৃতি) ; শেষার্ধে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ; সমুদ্রে আধুনিক হাঙর ও কুমীরের আবির্ভাব ; গন্ডোয়ানার ভাঙন ; উঃ আমেরিকার রকি পর্বতের লরামাইড ও সেভিয়ার পর্বত গঠন ; বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা ছিল বর্তমান কালের মতোই ; নদীগুলি দ্বারা বদ্বীপ সৃষ্টি ; পর্ণমোচী অরণ্যের আয়তন বৃদ্ধি প্রভৃতি।
_________________________________
III) সেনোজোয়িক যুগঃ- এটি ফ্যানেরোজোয়িক মহাযুগের তৃতীয় তথা শেষ এবং নবীনতম যুগ(Era)। এই যুগটি ৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। Cenozoic নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Ceno’/’Kaino’ = নতুন (New) এবং ‘Zoic’ = জীবন(Life) থেকে এসেছে। অর্থাৎ Cenozoic শব্দটির অর্থ হল — নতুন জীবন (New Life)। সেনোজোয়িক যুগ ‘Age Of Mammals’ বা ‘স্তন্যপায়ীর যুগ’ এবং ‘Age Of Birds’ বা ‘পাখির যুগ’ নামেও পরিচিত।
সেনোজোয়িক যুগ আবার ৩ টি উপযুগে(Period) বিভক্ত —
১) প্যালিওজিন উপযুগ (Paleogene Period)
সময়কালঃ- ৬৬ থেকে ২৩.০৩ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
২) নিওজিন উপযুগ (Neogene Period)
সময়কালঃ- ২৩.০৩ থেকে ২.৫৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
৩) কোয়াটারনারী উপযুগ (Quaternary Period)
সময়কালঃ- ২.৫৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে বর্তমান সময়।
________________________________________________
১) প্যালিওজিন উপযুগঃ- – এটি সেনোজোয়িক যুগের সবচেয়ে প্রাচীন উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি
৬৬ থেকে ২৩.০৩ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ প্যালিওজিন উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালের প্রায় ৪৩ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Paleogene নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Paleo’ = পুরানো (Old) এবং ‘ Gene’ = জীবন (Life) থেকে এসেছে। এই উপযুগটি নিম্ন টার্সিয়ারী উপযুগ (Lower Tertiary Period) নামেও পরিচিত।
প্যালিওজিন উপযুগটি আবার ৩ টি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত —
a) প্যালিওসিন ইপোচ (Paleocene Epoch):- এটি প্যালিওজিন উপযুগের প্রথম ও সবচেয়ে প্রাচীন ইপোচ(Epoch)। এই ইপোচটি ৬৬ থেকে ৫৬ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Paleocene নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Paleo’ = পুরানো (Old) এবং ‘Ceno’/’Kainos’ = নতুন/সাম্প্রতিক (New ; Recent) থেকে এসেছে। অর্থাৎ Paleocene শব্দটির অর্থ হল — সাম্প্রতিক পুরানো (Old Recent)। প্যালিওসিন ইপোচের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — ক্রান্তীয় জলবায়ুর উদ্ভব ; আধুনিক উদ্ভিদের আবির্ভাব ; প্রথম বৃহৎ স্তন্যপায়ীর উদ্ভব ; এশিয়া ও ইউরোপে আল্পীয় পর্বত গঠন ; ভারতীয় উপমহাদেশ ভূখন্ডের সাথে এশিয়া খন্ডের সংঘর্ষ (৫৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে) ; হিমালয় পর্বত গঠন শুরু (৫২-৪৮ মিলিয়ন বছর পূর্বে) ; মেরু অঞ্চলে শীতল ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু প্রভৃতি।
b) ইয়োসিন ইপোচ (Eocene Epoch):- এটি প্যালিওজিন উপযুগের দ্বিতীয় ইপোচ(Epoch)। এই ইপোচটি ৫৬ থেকে ৩৩.৯ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Eocene নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Eo’ = ভোর (Dawn) এবং ‘Ceno’/’Kainos’ = নতুন (New) থেকে এসেছে। অর্থাৎ ইয়োসিন শব্দটির অর্থ হল — নতুনের ভোর (Dawn Of New)। ইয়োসিন ইপোচের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — Archaic স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বিকাশ ; কয়েকটি আধুনিক স্তন্যপায়ী পরিবারের উদ্ভব ; আদিম তিমি মাছের বৈচিত্র্যলাভ ; প্রথম তৃণের উদ্ভব ; আন্টার্কটিকাতে আইস ক্যাপ সৃষ্টি ; Azolla Event ; বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান হ্রাস (৩৮০০ ppmv থেকে ৬৫০ ppmv) ; উঃ আমেরিকাতে রকি পর্বতের লরামাইড ও সেভিয়ার পর্বত গঠন সমাপ্ত ; ইউরোপে আল্পস পর্বত গঠন শুরু ; গ্রীস ও অ্যাজিয়ান সাগরে হেল্লেনিক পর্বত গঠন শুরু প্রভৃতি।
c) ওলিগোসিন ইপোচ (Oligocene Epoch):- এটি প্যালিওজিন উপযুগের তৃতীয় তথা শেষ এবং নবীনতম ইপোচ(Epoch)। এই ইপোচটি ৩৩.৯ থেকে ২৩.০৩ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Oligocene নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Oligos’ = কিছু (Few) এবং ‘Ceno’/’Kainos’ = নতুন (New) থেকে এসেছে। ওলিগোসিন ইপোচের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — Grande Coupure ; স্তন্যপায়ী প্রাণীদের অভিযোজন ও বৈচিত্র্যলাভ ; আধুনিক সপুষ্পক উদ্ভিদের অভিযোজন ও বিকাশ ; জলবায়ু শীতল প্রকৃতির ; Ice House জলবায়ুর দিকে ক্রমঅগ্রসরমান ; ড্রেক প্যাসাজের উদ্ভব প্রভৃতি।
________________________________________________
২) নিওজিন উপযুগঃ- এটি সেনোজোয়িক যুগের দ্বিতীয় উপযুগ (Period)। এই উপযুগটি ২৩.০৩ থেকে ২.৫৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ নিওজিন উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালের প্রায় ২০.৪৫ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Neogene নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Neo’ = নতুন/তরুন (New ; Youth) এবং ‘Gene’ = জীবন (Life) থেকে এসেছে। এই উপযুগটি উর্দ্ধ টার্সিয়ারী উপযুগ (Upper Tertiary Period) নামেও পরিচিত।
নিওজিন উপযুগটি আবার ২ টি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত —
a) মায়োসিন ইপোচ (Miocene Epoch):- এটি নিওজিন উপযুগের প্রথম ইপোচ(Epoch)। এই ইপোচটি ২৩.০৩ থেকে ৫.৩৩৩ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Miocene নামটি ‘Meion’ = কম (Less) এবং ‘Ceno’/’Kainos’ = নতুন (New) থেকে এসেছে। স্যার চার্লস লিল এই নামকরন করেন। মায়োসিন ইপোচের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — Ice House জলবায়ু ; উত্তর গোলার্ধে পর্বত গঠন ; ঘোড়া ও Mastodons এর বৈচিত্র্যলাভ ; সর্বত্র তৃণের বিকাশ ; প্রথম Ape এর উদ্ভব ; নিউজিল্যান্ডে কাইকৌরা পর্বত গঠন প্রক্রিয়া দ্বারা সাউদার্ন আল্পস সৃষ্টি ; পূর্ব – মধ্য ইউরোপে কার্পাথিয়ান পর্বত গঠন ; মধ্য মায়োসিন বিনাশ পর্ব ; ক্রমপ্রসারিত বনভূমি দ্বারা বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা অনেকখানি হ্রাস (৬৫০ ppmv থেকে ১০০ ppmv) প্রভৃতি।
b) প্লায়োসিন ইপোচ (Pliocene Epoch):- এটি নিওজিন উপযুগের শেষ ইপোচ(Epoch)। এই ইপোচটি ৫.৩৩৩ থেকে ২.৫৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Pliocene নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Pleion’ = আরও ; বেশি (More) এবং ‘Ceno’/’Kainos’ = নতুন (New) থেকে এসেছে। স্যার চার্লস লিল এই নামকরন করেন। প্লায়োসিন ইপোচের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — শীতল ও শুষ্ক জলবায়ু ; Homo Habilis এর আবির্ভাব ; সাম্প্রতিক মোলাস্কের উদ্ভব ; বর্তমানে জীবিত স্তন্যপায়ী প্রজাতিদের উদ্ভব ; মহাদেশ ও মহাসাগর গুলি বর্তমান রূপ নেয় ; ভূভাগের নিমজ্জন প্রভৃতি।
________________________________________________
৩) কোয়াটারনারী উপযুগঃ- এটি সেনোজোয়িক যুগের তৃতীয় তথা শেষ এবং নবীনতম উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ২.৫৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এটি সবচেয়ে নবীন ও আধুনিক ভূতাত্ত্বিক উপযুগ। Quaternary নামটি লাতিন শব্দ ‘Quaternarius’ = চার (Containing Of Four) থেকে এসেছে। ১৭৫৯ সালে জিওভান্নি আরডুইনো, ইতালির পো নদীর পলল সঞ্চয়ের জন্য Quaternary নামটি প্রস্তাব করেন। ১৮২৯ সালে, জুলস ডেজনোয়ার্স, ফ্রান্সের সীন অববাহিকার পলল সঞ্চয়(যা ছিল টার্সিয়ারী উপযুগের চেয়ে নবীন) দেখে Quaternary নামটি ব্যবহার করেন।
কোয়াটারনারী উপযুগ আবার দুটি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত —
a) প্লায়েস্টোসিন ইপোচ (Pleistocene Epoch):- এটি কোয়াটারনারী উপযুগের প্রথম ইপোচ(Epoch)। এই ইপোচটি ২.৫৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে ১১,৭০০ বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Pleistocene নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Pleistos’ = অধিকাংশ (Most) এবং ‘Ceno’/’Kainos’ = নতুন (New) থেকে এসেছে। অর্থাৎ Pleistocene শব্দটির অর্থ হল — অধিকাংশ নতুন (Most New)। ১৮৩৯ সালে স্যার চার্লস লিল এই নামকরন করেন। প্লায়োস্টোসিন ইপোচের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল –বিভিন্ন বৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্রথমে বিকাশ ও পরে বিনাশ ; আধুনিক মানুষের বিবর্তন ; কোয়াটারনারী হিমযুগ ; মানব ইতিহাসের প্রস্তরযুগ সংস্কৃতির উদ্ভব ; টোবা হ্রদ সুপারভলকানোর উদগীরন ; Older Dryas ও Younger Dryas জলবায়ুগত ঘটনাক্রম প্রভৃতি।
b) হোলোসিন ইপোচ (Holocene Epoch):- এটি কোয়াটারনারী উপযুগের এখনও পর্যন্ত সর্বশেষ, নবীনতম ইপোচ(Epoch)। এই ইপোচটি ১১,৭০০ বছর পূর্ব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। Holocene নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Holo’ = সমগ্র (Whole ; Entire) এবং ‘Ceno’/’Kainos’ = নতুন (New) থেকে এসেছে। অর্থাৎ Holocene শব্দটির অর্থ হল — সমগ্র নতুন (Entirely New)। হোলোসিন ইপোচের প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — কোয়াটারনারী হিমযুগের পশ্চাদ অপসরণ ; বর্তমান আন্তঃহিমযুগ সময়কালের সূচনা ; মানবসভ্যতার উন্মেষ ও বিকাশ ; সাভানা থেকে সাহারা মরুভূমির সৃষ্টি ; কৃষিকাজপ্রণালীরউদ্ভব ; শিল্প বিপ্লব ; মানব ইতিহাসে প্রস্তরযুগ থেকে ব্রোঞ্জ ও লৌহযুগের ক্রমবিবর্তন ; বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি (২৮০ ppmv থেকে ৪০০ ppmv) প্রভৃতি।
_________________________________

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s