Geological Time Scale


ভূ – তাত্ত্বিক সময় সারণী (Geological Time Scale)
Writer – Arijit Dabangg Sinha
(Parsola★Bankura★Mob 8016427527)
_________________________________
ভূ-তাত্ত্বিক সময় সারণী (Geological Time Scale) হল পৃথিবীর উৎপত্তিকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক গঠন এবং পরিবেশ, আবহাওয়া, জীবজগৎ বিবর্তনের নানারূপ ঘটনাবলীর কালক্রমিক সারণী। অন্যভাবে বলা যায়, Geological Time Scale ( GTS) is a system of chronological dating that relates geological strata (stratigraphy) to time, and is used by geologists, paleontologists, &other Earth Scientists to describe the timing and relationships of events that have occurred during Earth’s history. ভূ-তাত্ত্বিক সময় সারণী চিহ্নিতকরন বা নির্ধারনের প্রধান বিষয়গুলি হল — ১) জীবাশ্মের প্রকৃতি ২) ভূ-ত্বকীয় শিলার বৈশিষ্ট্য ৩) শিলাস্তরের স্তরায়ণক্রম ৪) ভূ-তাত্ত্বিক অবক্রম ৫) রূপান্তরনের প্রক্রিয়া প্রভৃতি। প্রতিটি ভূ-তাত্ত্বিক সময় সারণীর সময়কে — Eon(মহাযুগ), Era (যুগ), Period(উপযুগ), Epoch, Age, Chron প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ভূতাত্ত্বিক সময় বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট শিলাস্তর(LayersOf Rock/Strata) পৃথক পৃথক নামে পরিচিত। যেমন — কোনো Eon এর সাথে সংশ্লিষ্ট শিলাস্তরকে ‘Eonothem’ ; কোনো Era এর সাথে সংশ্লিষ্ট শিলাস্তরকে ‘Erathem’ ; কোনো Period এর সাথে সংশ্লিষ্ট শিলাস্তরকে ‘System’ ; কোনো Epoch এর সাথে সংশ্লিষ্ট শিলাস্তরকে ‘Series’ ; কোনো Age এর সংশ্লিষ্ট শিলাস্তরকে ‘Stage’ ; কোনো Chron এর সংশ্লিষ্ট শিলাস্তরকে ‘Chronozone’ বলে। পৃথিবী বিজ্ঞান(Earth Science)-এর যে শাখায় শিলা বা জীবাশ্মের বয়স নির্ণয় করে, ভূ-তাত্ত্বিক কালক্রম নির্ধারন করা হয়, তাকে Stratigraphy বলা হয়।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★
প্রাচীন কাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক ভূ-তাত্ত্বিক সময় সারণী নিয়ে বিবিধ মতামত ও চিন্তাধারা ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়ে গ্রীক পন্ডিত অ্যারিস্টটল, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, নিকোলাস স্টেনো, জেমস হাটন, আব্রাহাম ওয়ার্নার, উইলিয়াম স্মিথ, জর্জেস কুভিয়ার, আলেক্সয়ান্দ্রেব্রোগনিয়ার্ট, স্যার চার্লস লিল প্রমুখের অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ ভূতত্ত্ববিদ আর্থার হোমস সর্বপ্রথম সুনির্দিষ্ট সময়সূচীসহ একটি ভূ-তাত্ত্বিক সময় সারণী প্রকাশ করেন। ১৯৭৭ সালে ‘Global Commission on Stratigraphy’ (বর্তমানে, International Commission on
Stratigraphy) সারা বিশ্বব্যাপী একটি সুনির্দিষ্ট ভূ-তাত্ত্বিক সময় সারণী তৈরির প্রচেষ্টা শুরু করে। ২০০৪ সালে International Commission on Stratigraphy আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গ্রহণযোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য একটি ভূ-তাত্ত্বিক সময় সারণী প্রকাশ করে, যা কালক্রমে নতুন নতুন গবেষণা ও আবিষ্কারের দ্বারা ক্রম সংশোধিত হয়ে চলেছে।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★
নীচে International Commission on Stratigraphy (I.C.S.) স্বীকৃত, আন্তর্জাতিক মহলে গ্রাহ্য ভূ-তাত্ত্বিক সময় সারণীটি আলোচনা করা হল।
________________________________________________
পৃথিবী সৃষ্টি (আনুমানিক ৪.৫৬৭ বিলিয়ন বছর আগে) থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময়কালকে ভূ-তাত্ত্বিক সময় সারণীতে প্রধান দুটি মহাযুগে ভাগ করা হয় — A) প্রাক্ – ক্যামব্রিয়ান বৃহৎ মহাযুগ(Pre-Cambrian Super Eon):-সময়কালঃ-৪৫৬৭ থেকে ৫৪১ মিলিয়ন বছর পূর্ব। এবং B) ফ্যানেরোজোয়িক মহাযুগ(Phanerozoic Eon):- সময়কালঃ- ৫৪১ মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে বর্তমানকাল। অনেক ভূতত্ত্ববিদ একে Post-Cambrian Super Eon নামেও অভিহিত করেন। কিন্তু Post-Cambrian Super Eon নামটি International Commission on Stratigraphy দ্বারা স্বীকৃত নয়।
★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★
I.C.S. অনুমোদিত ভূ-তাত্ত্বিক সময় সারণী
A) প্রাক্ – ক্যামব্রিয়ান বৃহৎ মহাযুগঃ- ইহা পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র বৃহৎ মহাযুগ বা Super Eon। এই বৃহৎ মহাযুগটি পৃথিবীর সৃষ্টি অর্থাৎ ৪৫৬৭ থেকে ৫৪১ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই বৃহৎ মহাযুগটি কে ৩ টি মহাযুগ(Eon)-এ বিভক্ত করা হয় —
I) হাডিয়ান মহাযুগ (Hadean Eon)
সময়কালঃ- ৪৫৬৭ থেকে ৪০০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
II) আর্কিয়ান মহাযুগ (Archean Eon)
সময়কালঃ- ৪০০০ থেকে ২৫০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
III) প্রোটেরোজোয়িক মহাযুগ (Proterozoic Eon)
সময়কালঃ- ২৫০০ থেকে ৫৪১ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
________________________________________________
I) হাডিয়ান মহাযুগঃ- এটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন মহাযুগ। এই মহাযুগটি পৃথিবী সৃষ্টি অর্থাৎ ৪৫৬৭ থেকে ৪০০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই মহাযুগে পৃথিবীর পরিস্থিতি ছিল নরকের মতো উত্তপ্ত, তাই গ্রীক পাতালের দেবতা Hades এর নাম অনুসারে এই মহাযুগটির নামকরন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে ভূতত্ত্ববিদ প্রেস্টন ক্লাউড ‘Hadean’ নামটি প্রথম ব্যবহার করেন। এই মহাযুগকে প্রাক্-আর্কিয়ান (Pre-Archean) যুগও বলা হয়। এই মহাযুগকে অনেকে ৪ টি যুগে(Era) ভাগে ভাগ করেন — ক্রিপটিক, বেসিন গ্রুপ, নেকটারিয়ান ও প্রাথমিক ইমব্রিয়ান। যদিও এই শ্রেণীবিভাগ International Commission on Stratigraphy দ্বারা স্বীকৃতি নয়। হাডিয়ান মহাযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — পৃথিবীর সৃষ্টি (৪৫৬৭ মিলিয়ন বছর পূর্বে) ; চাঁদের সৃষ্টি (৪৫৩৩ মিলিয়ন বছর পূর্বে) ; প্রাচীনতম খনিজ জিরকন এর সৃষ্টি (৪৪০৪ মিলিয়ন বছর পূর্বে) ; প্রাচীনতম শিলার উৎপত্তি (৪০৩০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) ; সুপ্রাচীন জীবনের অপ্রত্যক্ষ সালোকসংশ্লেষের প্রমান (উদাহরনস্বরূপ – কেরোজেন) প্রভৃতি।
II) আর্কিয়ান মহাযুগঃ- প্রাক্ – ক্যামব্রিয়ান বৃহৎ মহাযুগের দ্বিতীয় মহাযুগটি হল আর্কিয়ান মহাযুগ। এই মহাযুগটি ৪০০০ থেকে ২৫০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর্কিয়ান নামটি প্রাচীন গ্রীক শব্দ ‘Arkhe’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হল — শুরু বা উৎপত্তি (Beginning ; Origin)। ১৮৭২ সালে আর্কিয়ান শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়, সেসময় এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাচীন ভূ-তাত্ত্বিক যুগ। আর্কিয়ান মহাযুগকে আবার ৪ টি যুগে (Era) বিভক্ত করা হয় —
১) ইয়ো-আর্কিয়ান যুগ (Eo-Archean Era):- এটি আর্কিয়ান মহাযুগের সবচেয়ে প্রাচীন যুগ(Era)। এই যুগটি ৪০০০ থেকে ৩৬০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Eo-Archean নামটি দুটি গ্রীক শব্দ Eos = ভোর (Dawn) এবং ‘Arkhe’ = শুরু বা উৎপত্তি (Beginning ; Origin) থেকে এসেছে। এই যুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — সাধারন এককোষী জীবনের আবির্ভাব (ব্যাকটেরিয়া ও আর্কেইয়া) ; সম্ভাব্য প্রাচীনতম অণু জীবাশ্মের উদ্ভব ; প্রথম স্ব-প্রতিলেপনকারী RNA অণুর আবির্ভাব (৪০০০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) ; আন্টার্কটিকার নেপিয়ার পর্বতের গঠন (৪০০০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) প্রভৃতি।
২) প্যালিও – আর্কিয়ান যুগ (Paleo-Archean Era):- এটি আর্কিয়ান মহাযুগের দ্বিতীয় যুগ(Era)। এই যুগটি ৩৬০০ থেকে ৩২০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Paleo-Archean নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Paleo’ = পুরানো (Old) এবং ‘Arkhe’ = শুরু বা উৎপত্তি (Beginning ; Origin) থেকে এসেছে। এই যুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — প্রথম অক্সিজেন উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার উদ্ভব ; নিশ্চিত প্রাচীনতম অণু জীবাশ্মের উদ্ভব ; পৃথিবীর প্রাচীনতম ক্রেটন(Craton) গুলির সৃষ্টি (উদাহরনস্বরূপ — কানাডিয়ান শিল্ড, পিলবারা ক্রেটন) ; আন্টার্কটিকার রেইনেভ পর্বতের গঠন প্রভৃতি।
৩) মেসো-আর্কিয়ান যুগ (Meso-Archean Era):- এটি আর্কিয়ান মহাযুগের তৃতীয় যুগ(Era)। এই যুগটি ৩২০০ থেকে ২৮০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ‘Meso-Archean’ নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Meso’ = মধ্য(Middle) এবং ‘Arkhe’ = শুরু বা উৎপত্তি(Beginning ; Origin) থেকে এসেছে। এই যুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — প্রথম স্ট্রোমাটোলাইটস-এর উদ্ভব (সম্ভবত Colonial Cyano-bacteria); প্রাচীনতম বৃহৎ জীবাশ্মের উদ্ভব ; আন্টার্কটিকার হামবোল্ড পর্বতের গঠন ; বর্তমান কানাডার কুইবেক ও ওন্টারিও প্রদেশে ব্লেক মেগাক্যালডেরা কমপ্লেক্স-এর গঠন প্রভৃতি।
৪) নিও-আর্কিয়ান যুগ (Neo-Archean Era):- এটি আর্কিয়ান মহাযুগের চতুর্থ ও শেষ তথা নবীনতম যুগ(Era)। এই যুগটি ২৮০০ থেকে ২৫০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ‘Neo-Archean’ নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Neo’ = নবীন (New) এবং ‘Arkhe’ = শুরু বা উৎপত্তি (Beginning ; Origin) থেকে এসেছে। এই যুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — সদ্য নবীন ক্রেটন(Craton) গুলির স্থিতিশীলতা লাভ ; সম্ভাব্য Mantle Overturn প্রক্রিয়া ; ইনসেল পর্বতের গঠন ; বর্তমান কানাডার কুইবেক ও ওন্টারিও প্রদেশে এবিটিবি গ্রীনস্টোন বেল্টের গঠন শুরু ; এবিটিবি গ্রীনস্টোন বেল্টের স্থিতিশীলতা লাভ (২৬০০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) প্রভৃতি।
III) প্রোটেরোজোয়িক মহাযুগঃ- প্রাক্ – ক্যামব্রিয়ান বৃহৎ মহাযুগ (Super Eon) এর তৃতীয় তথা শেষ এবং নবীনতম মহাযুগটি হল প্রোটেরোজোয়িক মহাযুগ। এই মহাযুগটি ২৫০০ থেকে ৫৪১ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Proterozoic নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Protero’ = পূর্বের বা প্রাক্তন (Earlier ; Former) এবং ‘Zoic’ = প্রাণী বা জীব (Animal ; Living Being) থেকে এসেছে। প্রোটেরোজোয়িক মহাযুগকে ৩ টি যুগে(Era) বিভক্ত করা হয় —
১) প্যালিও প্রোটেরোজোয়িক যুগ (Paleo Proterozoic Era):- এটি প্রোটেরোজোয়িক মহাযুগের প্রথম ও সবচেয়ে প্রাচীন যুগ(Era)। এই যুগটি ২৫০০ থেকে ১৬০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ‘Paleo Proterozoic’ নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Paleo’ = প্রাচীন(Old) এবং ‘Proterozoic’ = পূর্বের জীব (Earlier/Former Living Being) থেকে এসেছে। প্রোটেরোজোয়িক মহাযুগের প্রাচীনতম ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালকে বোঝাতে এখানে ‘Paleo’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্যালিও প্রোটেরোজোয়িক যুগকে আবার ৪ টি উপযুগে(Period) বিভক্ত করা হয়–
a) সিডেরিয়ান উপযুগ (Siderian Period):- এই উপযুগটি প্যালিও প্রোটেরোজোয়িক যুগের প্রথম ও সবচেয়ে প্রাচীন উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ২৫০০ থেকে ২৩০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Siderian নামটি গ্রীক শব্দ ‘Sideros’ = লোহা(Iron) থেকে এসেছে। এই উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — পৃথিবীতে অক্সিজেন বিপর্যয় ; স্তরীয় লোহার গঠন ; অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে স্লিয়াফোর্ড পর্বত গঠন ; গাউলার ক্রেটন(Craton)-এর গঠন (২৪০০ থেকে ২৪২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) প্রভৃতি।
b) রিয়াসিয়ান উপযুগ (Rhyacian Period):- এটি প্যালিও প্রোটেরোজোয়িক যুগের দ্বিতীয় উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ২৩০০ থেকে ২০৫০ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Rhyacian নামটি গ্রীক শব্দ ‘Rhyax’ = লাভার স্রোত(Stream Of Lava) থেকে এসেছে। এই উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — বুশভেল্ড আগ্নেয় কমপ্লেক্স গঠন ; হুরোনিয়ান হিমযুগ (সবচেয়ে প্রাচীন ও সবচেয়ে দীর্ঘ হিমযুগ) প্রভৃতি।
c) ওরোসিয়ান উপযুগ (Orosian Period):- এটি প্যালিও প্রোটেরোজোয়িক যুগের তৃতীয় উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ২০৫০ থেকে ১৮০০ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Orosirian নামটি গ্রীক শব্দ ‘Oroseira’ = পর্বতশ্রেণী (Mountain Range) থেকে এসেছে। এই উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — অক্সিজেন প্রধান বায়ুমন্ডল ; ভ্রেডেফোর্ট ও সাডবারি বেসিন গ্রহাণুপাত ; উঃ আমেরিকায় পেনোকিয়ান এবং ট্রান্স – হাডসনিয়ান পর্বত গঠন ; আন্টার্কটিকাতে প্রাথমিক পর্যায়ের রুকার পর্বত গঠন ; অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে গ্লেনবার্গ পর্বত গঠন ; অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে কিমবান পর্বত গঠন প্রভৃতি।
d) স্ট্যাথেরিয়ান উপযুগ(Statherian Period):- এই উপযুগটি প্যালিও প্রোটেরোজোয়িক যুগের চতুর্থ তথা শেষ ও নবীনতম উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ১৮০০ থেকে ১৬০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Statherian নামটি গ্রীক শব্দ ‘Statheros’ = স্থিতিশীল বা দৃঢ় (Stable ; Firm) থেকে এসেছে। এই উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — প্রথম জটিল এককোষী জীবন ; প্রাচীনতম বৃহৎ মহাদেশ (Super Continent) কলম্বিয়ার উদ্ভব ; অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে কিমবান পর্বত গঠন সমাপ্ত ; পশ্চিম অস্ট্রেলিয়াতে ইলগার্ন ক্রেটনে ইয়াপাংকু পর্বত গঠন ; পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার গাসকোয়নে কমপ্লেক্সে মানগারুন পর্বত গঠন (১৬৮০ থেকে ১৬২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) প্রভৃতি।
২) মেসো প্রোটেরোজোয়িক যুগ(Meso Proterozoic Era):- এটি প্রোটেরোজোয়িক মহাযুগের দ্বিতীয় যুগ(Era)। এই যুগটি ১৬০০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Meso Proterozoic নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Meso’ = মধ্য (Middle) এবং ‘Proterozoic’ = পূর্বের জীব (Earlier/Former Living Being) থেকে এসেছে। প্রোটেরোজোয়িক মহাযুগের মাঝামাঝি ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালকে বোঝাতে এখানে Meso শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
মেসো প্রোটেরোজোয়িক যুগকে আবার ৩ টি উপযুগে(Period) বিভক্ত করা হয় —
a) ক্যালিম্মাইয়ানউপযুগ (Calymmaian Period):- এই উপযুগটি মেসো প্রোটেরোজোয়িক উপযুগের প্রথম ও প্রাচীনতম উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ১৬০০ থেকে ১৪০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Calymmaian নামটি গ্রীক শব্দ ‘Calymma’ = আবৃত (Cover) থেকে এসেছে। এই উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — মহাদেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলির বিস্তার ; উত্তর অস্ট্রেলিয়াতে বররামুন্ডি পর্বত ও ম্যাক আর্থার অববাহিকা গঠন এবং ইসান পর্বত গঠন (আনুমানিক ১৬০০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) ; কুইন্সল্যান্ডে মাউন্ট ইসা ব্লক গঠন প্রভৃতি।
b) একটাসিয়ান উপযুগ(Ectasian Period):- এটি মেসো প্রোটেরোজোয়িক যুগের দ্বিতীয় উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ১৪০০ থেকে ১২০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Ectasian নামটি গ্রীক শব্দ ‘Ectasis’ = বিস্তার (Extension) থেকে এসেছে। এই উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — মহাদেশীয় প্ল্যাটাফর্মগুলি আরও বিস্তার ; সমুদ্রে সবুজ অ্যালগির রাজত্ব ; উঃ আমেরিকায় গ্রেনভিল্লে পর্বত গঠন প্রভৃতি।
c) স্টেনিয়ান উপযুগ(Stenian Period):- এই উপযুগটি মেসো প্রোটেরোজোয়িক যুগের তৃতীয় তথা শেষ ও নবীনতম উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ১২০০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Stenian নামটি গ্রীক শব্দ ‘Stenos’ = সরু (Narrow) থেকে এসেছে। এই উপযুগে রূপান্তরিত শিলার সরু শৃঙ্খল সৃষ্টি হয় বলে, এই উপযুগের এইরূপ নামকরন করা হয়েছে। এই উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — রূপান্তরিত শিলার সরু শৃঙ্খল গঠন ; বৃহৎ মহাদেশ (Super Continent) রোডিনিয়া গঠন ; আন্টার্কটিকাতে সম্ভাব্য পরবর্তী রুকার / নিমরড পর্বত গঠন (আনুমানিক ১০৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) ; মধ্য অস্ট্রেলিয়াতে Musgrave Block গঠন প্রভৃতি।
৩) নিও প্রোটেরোজোয়িক যুগ(Neo Proterozoic Era):- এই যুগটি প্রোটেরোজোয়িক মহাযুগের তৃতীয় তথা শেষ ও নবীনতম যুগ(Era)। এই যুগটি ১০০০ থেকে ৫৪১ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Neo Proterozoic নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Neo’ = তরুন (Young) এবং Proterozoic = পূর্বের জীব (Earlier / Former Living Being) থেকে এসেছে। প্রোটেরোজোয়িক মহাযুগের নবীনতম ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালকে বোঝাতে এখানে Neo শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
নিও প্রোটেরোজোয়িক যুগকে আবার ৩ টি উপযুগে(Period) বিভক্ত করা যায় —
a) টোনিয়ান উপযুগ(Tonian Period):- এই উপযুগটি নিও প্রোটেরোজোয়িক যুগের প্রাচীনতম ও প্রথম উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ১০০০ থেকে ৭২০ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Tonian নামটি গ্রীক শব্দ ‘Tonas’ = বিস্তার (Stretch) থেকে এসেছে। এই উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — রোডিনিয়া বৃহৎ মহাদেশ (Super Continent) এর বিস্তার ; সরল বহুকোষী Eukaryotes এর জীবাশ্মের উদ্ভব ; উঃ আমেরিকাতে গ্রেনভিল্লে পর্বত গঠন সমাপ্ত ; এডমন্ডিয়ান পর্বত গঠন ; অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে অ্যাডিলেড জিওসিনক্লাইন গঠন ; আফ্রিকায় Pan-African পর্বত গঠন প্রভৃতি।
b) ক্রায়োজেনিয়ানউপযুগ (Cryogenian Period):- এটি নিও প্রোটেরোজোয়িক যুগের দ্বিতীয় উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ৭২০ থেকে ৬৩৫ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Cryogenian নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Cryo’ = শীতল (Cold) এবং ‘Genesis’ = জন্ম (Birth) থেকে এসেছে। এই উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — সম্ভাব্য Snowball পৃথিবী সময়কাল ; জীবাশ্ম এখনও বিরল ; রোডিনিয়া বৃহৎ মহাদেশ (Super Continent) এর ভাঙন শুরু ; আন্টার্কটিকাতে পরবর্তী রুকার / নিমরড পর্বত গঠন সমাপ্ত প্রভৃতি।
c) এডিয়াকারান উপযুগ (Ediacaran Period):- এই উপযুগটি নিও প্রোটেরোজোয়িক যুগের তৃতীয় তথা শেষ ও নবীনতম উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ৬৩৫ থেকে ৫৪১ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Ediacaran নামটি ‘Ediacaran Biota’ থেকে এসেছে। এই উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — প্রথম বহুকোষী জীবের উন্নত প্রকৃতির জীবাশ্ম ; সমুদ্রে বিশ্বব্যাপী এডিয়াকারান বায়োটার বিস্তার ; প্রথম স্পঞ্জ ও Trilobitomorphsএর উদ্ভব ; উঃ আমেরিকায় টাকোনিক পর্বত গঠন ; ভারতীয় উপমহাদেশে আরাবল্লী পর্বত গঠন ; অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে পিটারম্যান পর্বত গঠন শুরু ; আন্টার্কটিকাতে বিয়ার্ডমোর পর্বত গঠন প্রভৃতি।
_________________________________
B) ফ্যানেরোজোয়িক মহাযুগ (Phanerozoic Eon):- প্রাক্ – ক্যামব্রিয়ান পরবর্তী ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালটি ফ্যানেরোজোয়িক মহাযুগ নামে পরিচিত। এই মহাযুগটি ৫৪১ মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক ইতিহাসের সবচেয়ে নবীন মহাযুগ। Phanerozoic নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Phaneros’ = দৃশ্যমান (Visible) এবং ‘Zoic’ = জীবন (Life) থেকে এসেছে। এই মহাযুগেই জীবপ্রজাতির সবচেয়ে বেশি উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে বলে, এই মহাযুগের এইরূপ নামকরন করা হয়েছে। ফ্যানেরোজোয়িক মহাযুগটিকে ৩ টি যুগে(Era) বিভক্ত করা হয় —
I) প্যালিওজোয়িক যুগ (Paleozoic Era)
সময়কালঃ- ৫৪১ থেকে ২৫২.১৭ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
II) মেসোজোয়িক যুগ (Mesozoic Era)
সময়কালঃ- ২৫২.১৭ থেকে ৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
III) সেনোজোয়িক যুগ (Cenozoic Era)
সময়কালঃ- ৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে বর্তমান সময়।
______________________________________________
I) প্যালিওজোয়িক যুগঃ- এটি ফ্যানেরোজোয়িক মহাযুগের সবচেয়ে প্রাচীন যুগ(Era)। এই যুগটি ৫৪১ থেকে ২৫২.১৭ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Paleozoic নামটি দুটি গ্রীক শব্দ ‘Palaios’ = প্রাচীন (Old) এবং ‘Zoic’ = জীবন (Life) থেকে এসেছে। অর্থাৎ Paleozoic শব্দটির অর্থ হল — প্রাচীন জীবন (Ancient Life)।
প্যালিওজোয়িক যুগকে আবার ৬ টি উপযুগে(Period) বিভক্ত করা হয় —
১) ক্যামব্রিয়ান উপযুগ (Cambrian Period)
সময়কালঃ- ৫৪১ থেকে ৪৮৫.৪ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
২) অর্ডোভিসিয়ান উপযুগ (Ordovician Period)
সময়কালঃ- ৪৮৫.৪ থেকে ৪৪৩.৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
৩) সিলুরিয়ান উপযুগ (Silurian Period)
সময়কালঃ- ৪৪৩.৮ থেকে ৪১৯.২ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
৪) ডেভোনিয়ান উপযুগ (Devonian Period)
সময়কালঃ- ৪১৯.২ থেকে ৩৫৮.৯ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
৫) কার্বনিফেরাস উপযুগ (Carboniferous Period)
সময়কালঃ- ৩৫৮.৯ থেকে ২৯৮.৯ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
৬) পার্মিয়ান উপযুগ (Permian Period)
সময়কালঃ- ২৯৮.৯ থেকে ২৫২.১৭ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
_______________________________________________
১) ক্যামব্রিয়ান উপযুগঃ- এটি প্যালিওজোয়িক যুগের সবচেয়ে প্রাচীন উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ৫৪১ থেকে ৪৮৫.৪ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ ক্যামব্রিয়ান উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালের ৫৫.৬ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Cambrian নামটি লাতিন শব্দ ‘Cymru’ = ব্রিটেনের ওয়ালসের প্রাচীন নাম থেকে এসেছে। ওয়ালসে ব্রিটেনের ক্যামব্রিয়ান উপযুগের শ্রেষ্ঠ শিলা দেখা যায়। তাই, এই উপযুগটির এইরূপ নামকরন করা হয়েছে। Adam Sedgwick এই নামকরন করেন। ক্যামব্রিয়ান উপযুগ আবার ৪ টি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত — a)টেরেনেউভিয়ানইপোচ (Terreneuvian Epoch):- সময়কালঃ- ৫৪১ থেকে ৫২১ মিলিয়ন বছর পূর্ব ; Terreneuvian নামটি ফরাসি শব্দ ‘Terre Neure’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হল — কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের দ্বীপ। b)সিরিজ-২ ইপোচ (Series-2 Epoch):- সময়কালঃ- ৫২১ থেকে ৫০৯ মিলিয়ন বছর পূর্ব। c)সিরিজ-৩ ইপোচ (Series-3 Epoch):- সময়কালঃ- ৫০৯ থেকে ৪৯৭ মিলিয়ন বছর পূর্ব। এবং d)ফুরনগিয়ান ইপোচ (Furongian Epoch):- সময়কালঃ- ৪৯৭ থেকে ৪৮৫.৪ মিলিয়ন বছর পূর্ব। Furongian নামটি মান্দারিন শব্দ ‘Furong’ = পদ্মফুল(Lotus) থেকে এসেছে, যা হুনান প্রদেশ কে ‘Lotus State’ হিসেবে বোঝায়।
ক্যামব্রিয়ান উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — প্রথম জীব পর্ব (Phylum)-এর উৎপত্তি; প্রথম মেরুদন্ডী প্রাণীর উদ্ভব ; গন্ডোয়ানা নামক বৃহৎ মহাদেশের (Super Continent) উদ্ভব ; অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে পিটারম্যান পর্বত গঠন সমাপ্ত ; আন্টার্কটিকায় রস পর্বত গঠন ; বায়ুমন্ডলীয় কার্বন ডাই অক্সাইের মাত্রা ৬০০০ ppmv (বর্তমানের ৩৮৫ ppmv থেকে ২০-৩৫ গুন বেশি) প্রভৃতি।
২) অর্ডোভিসিয়ান উপযুগঃ- এটি প্যালিওজোয়িক যুগের দ্বিতীয় উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ৪৮৫.৪ থেকে ৪৪৩.৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ অর্ডোভিসিয়ান উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালের ৪১.৬ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Ordovician নামটি ‘Ordovice’ নামক সেলটিক উপজাতির নাম থেকে এসেছে। ১৮৭৯ সালে Charles Lapworth এই নামকরন করেন। অর্ডোভিসিয়ান উপযুগটি ৩ টি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত — a)প্রাথমিক /প্রাচীন অর্ডোভিসিয়ান ইপোচ (Early Ordovician Epoch):- সময়কালঃ- ৪৮৫.৪ থেকে ৪৭০ মিলিয়ন বছর পূর্ব। b)মধ্য অর্ডোভিসিয়ান ইপোচ (Middle Ordovician Epoch):- সময়কালঃ- ৪৭০ থেকে ৪৫৮.৪ মিলিয়ন বছর পূর্ব। c)পরবর্তী অর্ডোভিসিয়ান ইপোচ (Late Ordovician Epoch):- সময়কালঃ- ৪৫৮.৪ থেকে ৪৪৩.৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব। অর্ডোভিসিয়ান উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — বিভিন্ন প্রকার অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বৈচিত্র্যময় উদ্ভব ; প্রাথমিক প্রবাল, ট্রিলোবাইট, ব্রায়োজোয়া প্রভৃতি জীবের প্রাধান্য ; কনোডোন্ট প্রাণীর উদ্ভব ; স্থলভাগে প্রথম সবুজ উদ্ভিদ ও ফাংগির উদ্ভব ; এই উপযুগের শেষদিকে হিমযুগের সূচনা প্রভৃতি।
৩) সিলুরিয়ান উপযুগঃ- এটি প্যালিওজোয়িক যুগের তৃতীয় উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ৪৪৩.৮ থেকে ৪১৯.২ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ সিলুরিয়ান উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালের ২৪.৬ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Silurian নামটি ‘Silures’ নামক সেলটিক উপজাতির নাম থেকে এসেছে। ১৮৩০ সালে Sir Roderick Impey Murchison এই নামকরন করেন। সিলুরিয়ান উপযুগটি ৪ টি ইপোচে বিভক্ত — a) লানডোভারি ইপোচ (Llandovery Epoch):- সময়কালঃ- ৪৪৩.৮ থেকে ৪৩৩.৪ মিলিয়ন বছর পূর্ব। Llandovery নামটি ব্রিটেনের ওয়ালসের Llandovery শহরের নাম থেকে এসেছে। b) ওয়েনলক ইপোচ (Wenlock Epoch):- সময়কালঃ- ৪৩৩.৪ থেকে ৪২৭.৪ মিলিয়ন বছর পূর্ব। Wenlock নামটি ব্রিটেনের শ্রোপশায়ারের মাচ ওয়েনলক শহরের কাছে ‘Wenlock Edge’ নামক শিলার নাম থেকে এসেছে। c) লুডলো ইপোচ (Ludlow Epoch):- সময়কালঃ- ৪২৭.৪ থেকে ৪২৩ মিলিয়ন বছর পূর্ব। Ludlow নামটি ব্রিটেনের শ্রোপশায়ারের লুডলো শহরের নাম থেকে এসেছে। d)প্রিডোলি ইপোচ (Pridoli Epoch):- সময়কালঃ- ৪২৩ থেকে ৪১৯.২ মিলিয়ন বছর পূর্ব। Pridoli নামটি চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগের নিকট ‘Homolka a Pridoli’ প্রকৃতি সংরক্ষন কেন্দ্র থেকে এসেছে।
সিলুরিয়ান উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলীগুলি হল — প্রথম কলাগঠিত উদ্ভিদ (Vascular Plant)-এর উদ্ভব ; স্থলভাগে প্রথম Millipedas ও Arthropleurids-এর উদ্ভব ; প্রথম চোয়াল যুক্ত মাছের উদ্ভব ; সমুদ্র – কাঁকড়াবিছার সর্বোচ্চ আকৃতিলাভ ; ট্রিলোবাইট ও মোলাস জাতীয় প্রাণীর বৈচিত্র্য বৃদ্ধি ; ক্যালিডোনিয়ান পর্বত গঠন ; স্ক্যান্ডিনেভীয়ান পর্বত সৃষ্টি ; অ্যাকাডিয়ান পর্বত গঠন ; ট্যাকোনিক ও লাচলান পর্বত গঠন সমাপ্ত প্রভৃতি।
৪) ডেভোনিয়ান উপযুগঃ- এটি প্যালিওজোয়িক যুগের চতুর্থ উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ৪১৯.২ থেকে ৩৫৮.৯ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ ডেভোনিয়ান উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালের ৬০.৩ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Devonian নামটি ইংল্যান্ডের ডেভোন কাউন্টির নাম থেকে এসেছে। ইংল্যান্ডের ডেভোন কাউন্টিতেই সর্বপ্রথম এই উপযুগের শিলা অধ্যয়ন করা হয় বলে, এইরূপ নামকরন করা হয়েছে। এই উপযুগকে ‘Age Of Fish’ ও বলা হয়। ডেভোনিয়ান উপযুগ ৩ টি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত — a) প্রাথমিক/প্রাচীন ডেভোনিয়ান ইপোচ (Early Devonian Epoch):- সময়কালঃ- ৪১৯.২ থেকে ৩৯৩.৩ মিলিয়ন বছর পূর্ব। b) মধ্য ডেভোনিয়ান ইপোচ (Middle Devonian Epoch):- সময়কালঃ- ৩৯৩.৩ থেকে ৩৮২.৭ মিলিয়ন বছর পূর্ব। c) পরবর্তী ডেভোনিয়ান ইপোচ (Late Devonian Epoch):- সময়কালঃ- ৩৮২.৭ থেকে ৩৫৮.৯ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
ডেভোনিয়ান উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — প্রথম Clubmosses, Horsetails ও ফার্নের উদ্ভব ; প্রথম বীজযুক্ত উদ্ভিদের উদ্ভব ; প্রথম বৃক্ষ ও পতঙ্গের উদ্ভব ; সমুদ্রে চোয়ালধারী মাছেদের রাজত্ব ; প্রথম উভচর প্রজাতি এখনও জলজ প্রজাতি রূপে রয়েছে ; আফ্রিকায় অ্যাকাডিয়ান পর্বত গঠন ; ভারিসকান ও টুহুয়া পর্বত গঠন প্রভৃতি।
৫) কার্বনিফেরাস উপযুগঃ- এটি প্যালিওজোয়িক যুগের পঞ্চম উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ৩৫৮.৯ থেকে ২৯৮.৯ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ কার্বনিফেরাস উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালের ৬০ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Carboniferous নামটি দুটি লাতিন শব্দ ‘Carbo’ = কয়লা (Coal) এবং ‘Fero’ = আমি বহনকারী (I Carry / I Bear) থেকে এসেছে। অর্থাৎ Carboniferous = Coal-Bearing বা কয়লা বহনকারী। ১৮২২ সালে William Conybeare ও William Phillips এই নামকরন করেন। এই উপযুগকে “Age Of Coal” ও বলা হয়। কার্বনিফেরাস উপযুগ ২ টি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত — a) প্রাথমিক কার্বনিফেরাস ইপোচ (Early Carboniferous Epoch):- সময়কালঃ- ৩৫৮.৯ থেকে ৩২৩.২ মিলিয়ন বছর পূর্ব। USA-তে এই ইপোচ মিসিসিপিয়ান ইপোচ নামে পরিচিত। b) পরবর্তী কার্বনিফেরাস ইপোচ (Late Carboniferous Epoch):- সময়কালঃ- ৩২৩.২ থেকে ২৯৮.৯ মিলিয়ন বছর পূর্ব। USA-তে এই ইপোচ পেনসিলভেনিয়ান ইপোচ নামে পরিচিত।
কার্বনিফেরাস উপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — আকস্মিকভাবে ডানাযুক্ত পতঙ্গের দ্রুত উত্থান ; উভচর প্রাণীর উদ্ভব ও বিকাশ ; প্রথম সরীসৃপ ও কয়লা-অরণ্যের উদ্ভব ; বায়ুমন্ডলে অক্সিজেনের মাত্রা সর্বকালীন ভাবে সর্বোচ্চ ; সমুদ্রে প্রবাল, Bivalves, Goniatites প্রভৃতির প্রাচুর্য্য ; ইউরেশিয়াতে ইউরাল পর্বত গঠন ; ইউরোপ & উঃ আমেরিকায় ভারিসকান পর্বত গঠন ; প্রথম স্থলজ মেরুদণ্ডী প্রানীর উদ্ভব ; সমুদ্রে প্রাচীন হাঙরের প্রাধান্য ; পূর্ব গন্ডোয়ানাতে হিমায়ন শুরু ; নিউজিল্যান্ডে টুহুয়া পর্বত গঠন সমাপ্ত প্রভৃতি।
৬) পার্মিয়ান উপযুগঃ- এটি প্যালিওজোয়িক যুগের ষষ্ঠ তথা শেষ এবং নবীনতম উপযুগ(Period)। এই উপযুগটি ২৯৮.৯ থেকে ২৫২.১৭ মিলিয়ন বছর পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অর্থাৎ পার্মিয়ান উপযুগটি পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক সময়কালের ৪৬.৭ মিলিয়ন বছর অধিকার করে রয়েছে। Permian নামটি রাশিয়ার পার্ম শহরের নাম থেকে এসেছে। ১৮৪১ সালে Sir Roderick Impey Murchison এই নামকরন করেন। পার্মিয়ান উপযুগ ৩ টি ইপোচে(Epoch) বিভক্ত — a)সিসুরালিয়ান ইপোচ (Cisuralian Epoch):- সময়কালঃ- ২৯৮.৯ থেকে ২৭২.৩ মিলিয়ন বছর পূর্ব। b) গুয়াডালুপিয়ানইপোচ (Guadalupian Epoch):- সময়কালঃ- ২৭২.৩ থেকে ২৫৯.৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব। c) লোপিনগিয়ান ইপোচ (Lopingian Epoch):- সময়কালঃ- ২৫৯.৮ থেকে ২৫২.১৭ মিলিয়ন বছর পূর্ব।
পার্মিয়ান উপযুগেরউপযুগের প্রধান প্রধান ঘটনাবলী গুলি হল — স্থলভাগ গুলি মিলিত হয়ে প্যানজিয়া নামক বৃহৎ মহাদেশ (Super Continent) গঠন ; অ্যাপলাশিয়ান পর্বত গঠন ; পার্মো – কার্বনিফেরাস হিমযুগের সমাপ্তি ; প্রথম প্রকৃত মসের উদ্ভব ; গুবরে পোকা ও মাছির বিবর্তন ; ট্রিয়াসিক বিলুপ্তি পর্ব (পৃথিবীর ৯৫% জীবের বিনাশ) ; অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে হান্টার – বাওয়েন পর্বত গঠন ; ইউরেশিয়াতে ইউরাল পর্বত গঠন সমাপ্ত ; উঃ আমেরিকাতে কোয়াচিতা ও ইননুইশিয়ান পর্বত গঠন ; এশিয়াতে আলতাই পর্বত গঠন প্রভৃতি।
_________________________________

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s