Golden Quadrilateral Highway


স্বপ্নের সোনালী চতুর্ভুজের অন্তরালে


Golden Quadrilateral Highway

ভারতের উত্তরে দিল্লি, পূর্বে কলকাতা, দক্ষিনে চেন্নাই ও পশ্চিমে মুম্বাই, এই চারটি বৃহৎ মেট্রোপলিটন শহরকে যুক্তকারী চার/ছয় লেন বিশিষ্ট সড়কপথ হল সোনালী চতুর্ভূজ।
★★ # ইতিহাস-
■■■■■■■■■■■
তৎকালিন NDA সরকারের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। এবং ২০০১ সালে এই প্লকল্পর কাজ শুরু হয়। এই প্রজেক্টের কাজ শেষ করার সময় ধার্য করা হয় ২০০৬ সালের মধ্যে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক বাধা বিপত্তির কারনে এই প্লকল্প শেষ হয় ২০১২সালের ৭ই জানুয়ারি(অফিশিয়ালি) ।
★★ # প্রকল্পেরখরচ-
■■■■■■■■■■■■■■
প্রজেক্ট শুরুর পর্যায়ে এর বাজেট ধরা হয়েছিল ভারতীয় মুদ্রায় ৬০০ বিলিওন টাকা।
★★ # দৈর্ঘ্য-
■■■■■■■■■■
সোনালী চতুর্ভূজের মোট দৈর্ঘ হল ৫৮৪৬কিমি বা ৩৬৩৩মাইল। এটি চারটি বাহুতে বিভক্ত। নিচে এই চারটি বাহুর দৈর্ঘ্য দেওয়া হল—
১) দিল্লি থেকে কলকাতা—১৪৫৩ কিমি (৩১আগস্ট ২০১১)।
২) চেন্নাই থেকে মুম্বাই—-১২৯০কিমি (৩১আগস্ট ২০১১)।
৩) কলকাতা থেকে চেন্নাই—১৬৮৪ কিমি (৩১ মে ২০১৩)।
৪) দিল্লি থেকে মুম্বাই—-১৪১৯কিমি (৩১আগস্ট ২০১১)।
★★ # সোনালি_চতুর্ভূজ ের_অর্থনৈতিক_গু রুপ্ত-
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■
১। ভারতের গুরুপ্তপূর্ণ শহর গুলির মধ্যে অতি দ্রুত পরিবহন সম্ভব হয়েছে।
২। যাত্রী ও পন্ন পরিবহন সহজ হয়েছে।
৩। শিল্পের প্রসার ও কর্মস্নগস্থান বৃদ্ধি ঘটেছে।
৪। কৃষকদের পক্ষে কৃষি ফসল গুলি শহর ও বন্দরগুলিতে সহজে পাঠানোর সুবিধা হয়েছে।এর ফলে ফসলের অপচয় কম হচ্ছে।
৫। সারা ভারত জুড়ে ট্রাক পরিবহন বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের অর্থনৈতীক শ্রীবৃদ্ধি তরান্বিত হচ্ছে।
★★ সোনালী চতুর্ভূজ কোন কোন ন্যাশানাল হাই ওয়ের সাথে যুক্ত?
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■
আমরা জানি যে সোনালী চতুর্ভূজ চারটি বাহু দ্বারা বিভক্ত। তাই চারটি বাহুর সাপেক্ষে দেখানো হল—
১। দিল্লি থেকে কলকাতা– NH 2।
২) দিল্লি থেকে মুম্বাই — NH 8 (দিল্লি-কিষানগড়), NH 79A (আজমির বাইপাস), NH 79, NH 76, NH 8 (উদয়পুর-মুম্বাই)।
৩। চেন্নাই থেকে মুম্বাই– NH 48 (মুম্বাই-ব্যাঙ্গালুরু), NH 44 (ব্যাঙ্গালুরু-কৃষ্ণগিড়ি), NH 48।
৪। কলকাতা থেকে চেন্নাই — NH 6 (কলকাতা-খরগপুর), NH 60 (খড়গপুর- বালাশোর), NH 5 (বালাশোড়-চেন্নাই)।
★★ কোন কোন প্রধাণ শহরের সাথে সোনালী চতুর্ভূজ যুক্ত হয়েছে?
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■
যে যে প্রধাণ শহরের সাথে সোনালী চতুর্ভূজ যুক্ত হয়েছে, সেগুলির একটি তালিকা দেওয়া হল—
১। দিল্লি থেকে কলকাতা—> দিল্লি, ফরিদাবাদ, মথুরা, আগ্রা, ফিরোজাবাদ, এতাবাহ, কানপুর, ফতেপুর, এলাহাবাদ, বারানসী, চানদৌলী, মোহানিয়া, কুদ্রা, সাসারাম,দেহরী, ঔরঙ্গআবাদ, শেরঘাটি, দোভি, চম্পারণ, বাড়ি, বাগোদাড়, ধানবাদ, আসানসল, দুর্গাপুর, বর্ধমান,কলকাতা।।
২। কলকাতা থেকে চেন্নাই—> কলকাতা, খড়গপুর, বালাসোর, ভদ্রক, জাজপুর, কটক, ভুবণেস্বর, শ্রীকাকুলাম,বিশাখাপত্তনম, তুনি, রাজামুন্দ্রি, এলুরু, ভিজয়বাদা, গুন্তুর, ওনগোল, কাভেলী, নেল্লোর, গুদুর, গুম্মিদিপুন্ডি,চেন্নাই।।
৩। চেন্নাই থেকে মুম্বাই—> চেন্নাই, শ্রীপেরুম্বুদুর, কাঞ্চিপুরম, রানিপেট, ভেল্লোর, বেঙ্গালুরু, সিরা, ছিত্তদুর্গ, হুব্বালি, বেলেগাভী, কোলাপুর, সাঁতারা, পুনে, পানভেল, মুম্বাই।।
৪। মুম্বাই থেকে দিল্লি—> মুম্বাই, সিলভাসা, ভাপি, নাভসারি,সুরাট, ভারুচ, আঙ্কলেশ্বর, ভদোদরা, আনন্দ, আমেদাবাদ,গান্ধিনগড়,উদয়পুর,আজমীর,জয়পুর,গুড়্গাঁও,দিল্লি।।
★★ বিভিন্ন রাজ্যে সোনালী চতুর্ভূজের দৈর্ঘ—
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■
সোনালী চতুর্ভূজ ভারতের ১৩ রাজ্যের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কোন রাজ্যে কত দৈর্ঘ বিস্তার ঘটেছে সেটি নিচে দেখানো হল-
১। অন্ধ্রপ্রদেশ(তেলেঙ্গানা সহ)-১,০১৪ কিমি।
২। উত্তরপ্রদেশ- ৭৫৬ কিমি।
৩। রাজস্থান- ৭২৫ কিমি।
৪। কর্নাটকা- ৬২৩ কিমি।
৫। মহারাষ্ট্র- ৪৮৭ কিমি।
৬। গুজরাত- ৪৮৫ কিমি।
৭। ওড়িশা- ৪৪০ কিমি।
৮। পশ্চিম বঙ্গ- ৪০৬ কিমি।
৯। তামিলনাড়ু- ৩৪২ কিমি।
১০। বিহার- ২০৪ কিমি।
১১। ঝারখন্ড- ১৯২ কিমি।
১২। হরিয়ানা- ১৫২ কিমি।
১৩। দিল্লি- ২৫ কিমি।
★★ সোনালী চতুর্ভূজের সাথে কিছু রেকর্ড জরিয়ে আছে, সেগুলি জানালাম—
■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■
>> সেপ্টেম্বর ২০১৫ তে Ajay Jagga, Gopal Krishan Sharma এবং Karan Vaid নামে ব্যাক্তিরা ‘ফোর্ড’ চার চাকা বিশিষ্ট গাড়ি নিয়ে ৭৬ ঘন্টা ১৯ মিনিটে সোনালী চতুর্ভূজ বরাবর ৫৯০৭ কিমি দুরত্ব অতিক্রক করে “Limca Book of Records”-এ নিজেদের নাম নিথিভূক্ত করেন।
>> ২০১৩ সালে Arnob Gupta এবং Revanth নামে ব্যাক্তিরা দু-চাকার গাড়ি নিয়ে ৫৯৯৭ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করেন ৯২ ঘন্টা ৩০মিনিটে।
★★ এক নজরে সোনালী চতুর্ভূজ=
■■■■■■■■■■□■■■■■■■■■■■■■
☆☆ এটি ভারতের বৃহত্তম সড়ক প্রকল্প এবং পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম।
☆☆ National Highways Development Project (NHDP) এর প্রথম ফেজ এর প্রকল্প এটি।
☆☆ ২০০৯ সালে ঠিক করা হয় যে এটিকে চার লেন থেকে ছয় লেন বিশিষ্ট সড়ক পথ করা হবে।
☆☆ এর চারটি বাহুর মধ্যে বৃহত্তম বাহু হল “কলকাতা থেকে চেন্নাই। যার দৈর্ঘ ১৬৮৪ কিমি (৩১ মে ২০১৩)।
☆☆ সোনালী চতুর্ভূজ ভারতের ১৩ রাজ্যের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
☆☆ অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে সোনালী চতুর্ভূজের দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি (১০১৪ কিমি)।
☆☆ সর্ব পরি যেনাকে ধন্যবাদ না দিলেই নয়, তিনি হলেন আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী “অটল বিহারী বাজপেয়ীঃ মহাশয়। উনি নাহলে হয়ত এই ভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশের রাস্তা প্রবাহিত হতনা!!
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●

Edited by- Rajkumar Guria.

©Mission Geography India.

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s