“Geography and We” – April, 2017


-:Geography and We:-


*Dahab Blue Hole:- লোহিত সাগরের উপকূলে ইজিপ্ট এর দাহাব এর সিনাই অঞ্চলে এই ব্লু হোল টি অবস্থিত। এর গভীরতা ৯৪ মিটার।
ব্লু হোল হলো এক জল পুর্ন সিঙ্কহোল যা গঠিত হয় কার্বনেট সমৃদ্ধ শিলায় বিশেষত চুনাপাথরের অঞ্চলে । আমরা জানি রাসায়নিক বিক্রিয়া তে কার্বনেট সমৃদ্ধ শিলা দ্রবীভূত হয়ে এই রকম সিঙ্কহোল সৃষ্টি হয়। গভীর অংশে উপর থেকে দেখলে ঘন নীল লাগে আলোর প্রতিফলন ধর্মের জন্য।

ভূ বিজ্ঞানী দের মতে, হিমযুগের সময়ে যখন সমুদ্র তল বর্তমানের চেয়ে ১০০ -১২০ মিটার নীচে অবস্থান করত তখন এই সিঙ্কহোল গুলি সৃষ্ট হয়। পরে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে এই সিঙ্কহোল গুলি জলের নীচে চলে যায়। সামুদ্রিক পরিবেশে জোয়ার ভাঁটার প্রভাব যুক্ত মিষ্টি এবং লবনাক্ত জলের মিশ্রণ ঘটে এমন কার্বনেট শিলা সমৃদ্ধ সামুদ্রিক অঞ্চলে অথবা দ্বীপ অঞ্চলে এই ধরনে ব্লু হোল দেখা যায়। অনেক ব্লু হোল বিশেষজ্ঞ আবার সামুদ্রিক পরিবেশে ব্লু হোল সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন অনুবীক্ষনিক জীব নিঃসৃত জৈব অ্যাসিড এর প্রভাব কে দায়ী করেছেন।
*********************


*Yuki-no-otani বা Snow Wall:- জাপানের হুনসুদ্বীপে শীতকালে প্রচুর বরফ পড়ে। প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত বরফ পড়ে। চিত্রে হুনসু দ্বীপে জাপানীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ” টিডা ” পার্বত্য অঞ্চলের টাটেয়ামা-কুরোবেআলপাইন সড়ক দেখা যাচ্ছে, যা টাটেয়ামা এবং ওমাছি কে যুক্ত করেছে। প্রায় ৩৫ কিমি দীর্ঘ এই রাস্তা টি ১৯৭১ সালে চালু হয়েছে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার বরফ কেটে রাস্তা পরিস্কার করে জনসাধারনের জন্য চালু করা হয়। এই রাস্তা টি তাই “স্নো ক্যানিয়ন” নামেও সুপরিচিত।
*********************


*কোকোয়া চাষ এবং শিশুশ্রমিক:- আমরা জানি, কোকোয়া (Cocoa) গাছের ফলের বীজ থেকে চকোলেট প্রস্তুত হয়। ১ কেজি চকোলেট বানাতে ৩০০- ৬০০ টি বীজ লাগে। কোকোয়া উৎপাদিত হয় আইভরি কোস্ট, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, ভেনেজুয়েলা প্রভৃতি দেশে। কোকোয়া উৎপাদনে আইভরি কোস্ট প্রথম। ২০১৩ সালে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪৬০০০০০ টন কোকোয়া উৎপাদিত হয়। যার অর্ধেকের বেশি উৎপাদিত হয় আইভরি কোস্ট ও ঘানা, এই দুই পশ্চিম আফ্রিকার দেশে।
তবে, চকোলেট খেতে যতই মিষ্টি লাগুক না কেন , এর উৎপাদনে কিন্তু বহু শিশু শ্রমিকের অশ্রু মিশে আছে। ২০১৫ সালের হিসাবে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন শিশুদের কে ব্যবহার করা হয়েছে কোকোয়া চাষের কাজে। আইভরি কোস্ট এ প্রায় ১৯০০০ শিশু শ্রমিক কে নিযুক্ত করা হয়েছে। শিশু দের কে দাস হিসাবে, কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বেগার শ্রমিক হিসাবে খাটানো হয় এই চাষে। বহু শিশুই বিপন্ন। শিক্ষার অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। তাদের শৈশবেই কোকোয়া চাষে ব্যবহৃত বিভিন্ন কীটনাশকের প্রভাবে নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হলেও শিশু শ্রমিক কিন্তু কমছে না। সমীক্ষায় দেখা গেছে, “নেসলে” র মতো বড় বড় চকোলেট কোম্পানি র কোকোয়া ফার্ম এও বহু শিশু কে শ্রমিক হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
★★ চিত্রে আইভরি কোস্ট এ কোকোয়া ফল সংগ্রহ রত এক শিশুশ্রমিক কে দেখা যাচ্ছে।
*********************


*তিস্তা নদী জলবন্টন সমস্যা:- তিস্তা নদীর জলবন্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সমস্যা চলছে। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে এই তিস্তা নিয়ে কি সিন্ধান্ত হয় সেটা আগামীতে বোঝা যাবে।তবে, তার আগে এই সমস্যা টা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।
তিস্তা নদী সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিস্তামুখের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। তিস্তা নদীর সমগ্র অববাহিকা প্রায় ১২০০০ বর্গ কিমি, যার ৮৩% ভারতে এবং বাকি অংশ বাংলাদেশে। এই নদী অববাহিকাতে শুষ্ক সময়ে অর্থাৎ নভেম্বর -এপ্রিল মাসে জলের অভাব দেখা যায়। তিস্তা নদীতে গজলডোবা তে একটি জলাধার আছে, যা সীমান্ত থেকে ৯০ কিমি দূরে। আর বাংলাদেশ এই নদীতে ডাওনি বা ডালিয়া জলাধার নির্মান করেছে সীমান্ত থেকে ১৫ কিমি দূরে। ভারত ও বাংলাদেশ এর এই জলাধার গুলি নির্মান হয়েছে মূলত জলসেচের জন্য। ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ এই নদীর ৫০% জলের দাবি জানিয়ে আসছে। এরপর ১৯৮৩ সালে একটি চুক্তির ফলে স্থির হয়, বাংলাদেশ পাবে ৩৬%, ভারত পাবে ৩৯% এবং বাকী ২৫% অবন্টিত থাকবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতে গজলডোবা র থেকে ২৫% এর বেশি জল দেওয়া সম্ভব নয়। কারন ২৫% এর বেশি জল দিলে পশ্চিমবঙ্গে এর কুপ্রভাব পরবে। পানীয় জল ও এই নদী যোগান দিয়ে থাকে। আর যদি ৫০% জল দেওয়া হয় তাহলে প্রায় ৯.২২ লক্ষ বর্গকিমি কৃষি জমিতে এর প্রভাব পরবে। ফলে তিস্তা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এটা অস্বীকার করা যায় না যে, বাংলাদেশেও জলের সমস্যা রয়েছে। কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সেই জন্য তিস্তা নিয়ে এত আগ্রহ বাংলাদেশের।
*********************


*Green Lake:- এই হ্রদটি অস্ট্রিয়ার স্টিরিয়া তে অবস্থিত। এই হ্রদের চারপাশে চুনাপাথর সমৃদ্ধ Hochschwab পর্বত রয়েছে। শীতকালে এই হ্রদের জলের গভীরতা হয় ১ থেকে ২ মিটার। তখন এই হ্রদটির চারপাশের অংশ পার্ক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বসন্তের শুরুতে চারপাশের পর্বতের বরফ গলতে শুরু করে এবং সব বরফ গলা জল এই হ্রদে পতিত হয়। গ্রীষ্মে এই হ্রদ এর জলের গভীরতা ১২ মিটার হয়ে যায়। ফলে হ্রদের চারপাশের পার্কটি জলের নীচে চলে যায়। প্রতিবছর এইরকম ঘটে। এই হ্রদ এর জল এতটাই স্বচ্ছ যে জলের নীচে সব স্পষ্ট দেখা যায়। চিত্র দেখে সেটা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।
*********************


*উৎখাত ভুমিরূপ (Badland Topography) :- কোনো বিস্তৃত শুষ্ক বৃক্ষহীন বা প্রায় বৃক্ষহীন অঞ্চলে জলের দ্বারা ব্যাপকভাবে সংকীর্ণ নালিকা ও রাভাইন সৃষ্টি হয়ে যে ভূমিরূপের সৃষ্টি করে তাকে উৎখাত ভুমিরূপ বলে। এ ক্ষেত্রে সংকীর্ণ নালিকা বা রাভাইন এর খাত সমুহ বেশ গভীর হয়ে থাকে। আর পরস্পর দুটি খাতের মধ্যবর্তী স্থান ছুড়ির ফলার মতো সংকীর্ণ ও ধারালো হয়। এ সব অঞ্চল একেবারেই কৃষির অনুপযুক্ত।
★★ চিত্রে আমেরিকা যুক্তরাস্ট্রের শুষ্ক দক্ষিন ডাকোটা প্রদেশের ব্যাডল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক দেখা যাচ্ছে।
*********************

Advertisements

2 thoughts on ““Geography and We” – April, 2017

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s