“Geography and We” – January, 2017


-:Geography and We:-

*রামধনু (Rainbow) :- বৃষ্টির পর রোদ উঠলে অনেকসময় সূর্যের বিপরীত দিকে তাকালে অর্ধবৃত্তাকার (আসলে বৃত্তাকার) রূপে যে সাত রং এর বর্নালী দেখা যায় তাকে বলে রামধনু। বাতাসের জলকণায় আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং বিচ্ছুরণ এর জন্য রামধনু সৃষ্টি হয়। রামধনুতে সাতটি রঙের সজ্জা বা প্যাটার্ন দেখা যায়। এই প্যাটার্ন এর উপর নির্ভর করে রামধনু দুই প্রকার। যথা-( ১) প্রাইমারি রামধনু- যখন রামধনুতে বেগুনি রং নিচের দিকে এবং লাল রং উপরের দিকে থাকে, তাকে বলে প্রাইমারী রামধনু। এই প্রকার রামধনু বেশি দেখা যায়। (২) সেকেন্ডারি রামধনু- যে রামধনুতে বেগুনি রং উপরের দিকে এবং লাল রং নীচের দিকে থাকে তাকে বলে সেকেন্ডারি রামধনু। এই প্রকার রামধনু কদাচিৎ দেখা যায়। আর যখন এই দুইপ্রকার রামধনু আকাশে একসাথে দেখা যায় তাকে বলে জোড়া রামধনু।

★ চিত্রে এক উপত্যকায় জোড়া রামধনু দেখা যাচ্ছে। চিত্র টি ভালো করে খেয়াল করলে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি রামধনু চিনতে পারবেন।
*********************


*মেরুপ্রভা (Auroras):- ২৩ শে সেপ্টেম্বর থেকে ২১ শে মার্চ উত্তর মেরুতে এবং ২১ শে মার্চ থেকে ২৩ শে সেপ্টেম্বর দক্ষিন মেরুতে যখন একটানা রাত্রি থাকে তখন মাঝে মাঝে আকাশে এক বর্নময় আলোকচ্ছটা লক্ষ্য করা যায়। একে উত্তর মেরুতে সুমেরু প্রভা বা অরোরা বেরিয়ালিস এবং দক্ষিন মেরুতে কুমেরু প্রভা বা অরোরা অস্ট্রালিস বলে।
আমরা জানি, বায়ুমন্ডলের ঊর্দ্ধ স্তরে আয়নোস্ফিয়ার এ যে সকল গ্যাসীয় উপাদান উপস্থিত আছে তার সাথে সূর্য থেকে আগত রশ্মি ও বস্তু কনার সংঘর্ষ হয়। এই অবস্থায় গ্যাসীয় অনু ভেঙে পরমানুতে পরিণত হয় এবং ইলেকট্রন ও প্রোটন এর সাথে সংঘাতে ঐ পরমানু থেকে যে আলোক ছটা বেরিয়ে আসে তাকেই মেরুজ্যোতি বলে।
*********************


*Zhangjiajie National Forest Park, China :- চীনের উত্তর হুনান প্রদেশে অবস্থিত এই ন্যাশনাল পার্ক টি চীনের প্রথম ন্যাশনাল পার্ক। এই পার্কের দারুন ভৌগোলিক বিশেষত্ব রয়েছে। এখানে পিলারের বা স্তম্ভ আকৃতির ভুমিরূপ দেখা যায়। এই পার্বত্য অঞ্চল প্যালিওজোয়িক যুগের বেলেপাথর দ্বারা নির্মিত। এই ধরনের বিশেষ স্তম্ভাকৃতি চূড়া গুলির সৃষ্টি সম্পর্কে ভূবিজ্ঞানী গন যান্ত্রিক আবহবিকার কে দায়ী করেছেন। এখানের বেলেপাথর এর মধ্যে উল্লম্ব জয়েন্ট লক্ষ্য করা যায়। এখানে বরফের কেলাসন প্রক্রিয়া, জল এবং উদ্ভিদ শিকড়ের দ্বারা যান্ত্রিক আবহবিকার এর দ্বারা বহু বছর ধরে এমন ভুমিরূপ গড়ে উঠেছে।
পুলিকট লেগুন ভারতের অন্যতম বার্ড স্যানচুয়ারী। এখানে প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। তবে গ্রেটার ফ্লেমিংগো পাখির জন্য এই বার্ড স্যানচুয়ারী বিখ্যাত। এই পুলিকট লেগুন এর ১০৮বর্গকিমি অঞ্চল ন্যাশনাল পার্ক এর অন্তর্ভুক্ত।
*********************


*পুলিকট লেগুন:- ৪৮১ বর্গকিমি আয়তন বিশিষ্ট ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম লবনাক্ত এই লেগুন টি অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর করমন্ডল উপকূলে অবস্থিত। পুলিকট লেগুন এর ৯৭% অন্ধ্রপ্রদেশ এর মধ্যে এবং বাকি টা তামিলনাড়ু র মধ্যে রয়েছে। এখানে শ্রীহরিকোটা দ্বীপ টি ব্যারিয়ার আইল্যান্ড হিসাবে অবস্থান করে পুলিকটকে বঙ্গোপসাগরেরর সাথে বিচ্ছিন্ন করেছে। এই শ্রীহরিকোটা অন্ধ্রপ্রদেশ এর নেল্লোর জেলার মধ্যে অবস্থিত। এখানেই ভারতের সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষনা কেন্দ্র অবস্থিত।

পুলিকট লেগুন ভারতের অন্যতম বার্ড স্যানচুয়ারী। এখানে প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। তবে গ্রেটার ফ্লেমিংগো পাখির জন্য এই বার্ড স্যানচুয়ারী বিখ্যাত। এই পুলিকট লেগুন এর ১০৮বর্গকিমি অঞ্চল ন্যাশনাল পার্ক এর অন্তর্ভুক্ত।
*********************


*মান্ডি জেলা- ভারতের স্বচ্ছতম জেলা:- ভারতের যে দুটি “স্বচ্ছতম জেলা” ঘোষিত হয়েছে তার মধ্যে আরেক টি হল হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলা।( আগের পোষ্ট এ স্বচ্ছতম জেলা হিসাবে সিন্ধুদূর্গ আলোচিত হয়েছে।)
হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার সদর শহর এর নাম ও মান্ডি যা ঐতিহাসিক এবং আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই মান্ডি সমুদ্রতল থেকে ৭৬০ মিটার উচ্চে অবস্থিত। এর পাশ দিয়ে বিয়াস নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই জেলার আয়তন ৩৯৫১ বর্গকিমি। এখানকার শিক্ষার হার ৮২.৮১% এবং লিঙ্গানুপাত-১০১২। এই জেলার জনঘনত্ব ২৫৩ জন / বর্গ কিমি। এখানে ৮১ টি প্রাচীন মন্দির আছে, তাই একে “পাহাড়ের বারানসী” বলা হয়। অর্থনৈতিক দিক দিয়েও এই জেলা হিমাচল প্রদেশের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
*********************


*ভারতের স্বচ্ছতম জেলা:-আমাদের দেশের যে দুটি জেলা “ভারতের স্বচ্ছতম জেলা ” হিসাবে ঘোষিত হয়েছে, তার একটা হল মহারাস্ট্রের কঙ্কণ উপকূলে অবস্থিত সিন্ধুদূর্গ জেলা। এই জেলার মালভন উপকূল থেকে একটু দূরে আরবসাগরেরর এক দ্বীপের মধ্যে ছত্রপতি শিবাজী দ্বারা নির্মিত দূর্গের নাম হল সিন্ধুদূর্গ। এই দূর্গের নাম অনুসারেই এই জেলার নামকরন হয়েছে। মহারাষ্ট্রের সর্বাধিক দূর্গ এই জেলায় রয়েছে, সংখ্যাটা হল ৩৭ টি। এই জেলার আয়তন ৫২০৭ বর্গ কিমি। এই জেলার শিক্ষার হার ৮৫.৫৬% এবং লিঙ্গানুপাত-১০৩৬।
★চিত্রে আরবসাগরের বুকে বিখ্যাত ঐতিহাসিক সেই সিন্ধুদূর্গ দেখা যাচ্ছে।
*********************


*Keoladeo Ghana National Park:- রাজস্থানের ভরতপুরে অবস্থিত “পাখির স্বর্গরাজ্য ” নামে পরিচিত এই ন্যাশনাল পার্ক টির পূর্বে নাম ছিল ভরতপুর পক্ষীরালয়। ২৯ বর্গ কিমি বিস্তৃত এই ন্যাশনাল পার্ক মূলত জলাভূমি যুক্ত অঞ্চল। ১৯৮১ সালে এটি রামসার জলাভূমি কনজারভেশন এর মর্যাদা লাভ করে এবং ১৯৮২ সালে এটিকে ন্যাশনাল পার্ক ঘোষনা করা হয়। পরবর্তী কালে, ১৯৮৫ সালে এটি “ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ” ঘোষিত হয়। এটি পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত পক্ষী ক্ষেত্র। এখানে প্রায় ৩৬৬ টি প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। পাখি ছাড়াও এখানে চিতল হরিন, সম্বর, নীলগাই, হায়না, শেয়াল প্রভৃতি প্রানী বিচরন করে।
★এই ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে কেওলাদেও (শিব) মন্দির অবস্থিত, আর এই অঞ্চলে ঘন ঝোপঝাড় স্থানীয় ভাবে ” ঘনা বা ঘন ” নামে পরিচিত। তাই এর নাম হয়েছে কেওলাদেও ঘনা ন্যাশনাল পার্ক।
>
এই ন্যাশনাল পার্কে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ পর্যটক আসেন। আগ্রা, মথুরা থেকে কাছে হওয়ায় অনেকেই এটা ঘুরে আসেন।
*********************


*Om Mountain:- ভারত ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বত টি সমুদ্রতল থেকে ৬১৯১ মিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে। প্রাকৃতিক ক্ষয়কার্যের ফলে পর্বত শৃঙ্গ এমন ভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং তুষার সঞ্চয়ের ফলে সংস্কৃত ” ঔঁ ” অক্ষরের ন্যায় দেখতে লাগে। তাই এই পর্বতের নাম হয়েছে ঔঁ পর্বত। এই পর্বত নেপালের দারচুলা জেলা এবং ভারতের উত্তরাখন্ডের পিথোরাগড় জেলার মধ্যে অবস্থান করছে। নেপাল -ভারত সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বত নিয়ে নেপাল ও ভারতের মধ্যে বিরোধ আছে। তবে বর্তমানে নেপাল ও ভারতের মধ্যে রফাসূত্রের মাধ্যমে ঠিক হয়েছে যে, এই পর্বতের সামনের দিক অর্থাৎ ” ঔঁ ” আকৃতির দিকটা ভারতের মধ্যে এবং পেছনের দিকটা নেপালের মধ্যে পড়েছে।
*********************

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s