মহাবিশ্ব (Space)


পৃথিবীকে ঘিরে যে অনন্ত ও সর্বব্যাপী ব্রহ্মাণ্ড বা জগৎ আছে তাকেই এক কথায় মহাকাশ বলে। পৃথিবী,বায়ুমণ্ডল,সূর­্য,চন্দ্র,নক্ষত্র,গ্­রহ-উপগ্রহ,উল্কা প্রভৃতি নিয়ে গঠিত এই মহাবিশ্ব। এই মহাবিশ্বের বিশালতা সম্বন্ধে কোনো ধারণা আমাদের নেই ।

□জ্যোতিষ্ক (Celestial Bodies):- দিনের আকাশে দেখা যায় সূর্য,রাতের আকাশে দেখা যায় চন্দ্র এবং অসংখ্য ছোট-বড় উজ্জ্বল আলোকবিন্দু ।এদের একত্রে বলা হয় জ্যোতিষ্ক। জ্যোতিষ্ক মন্ডলের অন্তর্ভুক্ত হ’ল নক্ষত্র,গ্রহ,গ্রহাণু­পুঞ্জ,উপগ্রহ,ধূমকেতু­,উল্কা,নীহারিকা ও ছায়াপথ।
এই জ্যোতিষ্কগুলিকে আটটি বিভাগে ভাগ করা হয়,যথা-


1. নক্ষত্র( Star): রাতের আকাশে যে সব জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিন্ড দপ্-দপ্ বা মিটমিট করে জ্বলে তাদের নক্ষত্র বলে। এদের নিজস্ব আলো আছে। আমাদের সব থেকে কাছের ও উজ্জ্বল নক্ষত্র হল সূর্য।পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। পৃথিবীর দ্বিতীয় নিকটতম নক্ষত্র হল প্রক্সিমা সেন্টরাই । সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় লাগে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড । মহাকাশে এমন অনেক নক্ষত্র আছে যাদের আলো এখনও পৃথিবীতে পৌছায়নি।

2. গ্রহ (Planet):
যে পৃথিবীতে আমরা বাস করি সেটি একটি গ্রহ।যে সব জ্যোতিষ্ক কোনো নক্ষত্রের বা সূর্যের চারপাশে নির্দিষ্ট পথে ও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুরে বেড়ায় তাদের গ্রহ বলে। সূর্যের আলো গ্রহদের গায়ে পড়ে বলে এরা আলোকিত হয়। গ্রহগুলির নিজস্ব আলো ও উত্তাপ নেই। গ্রহগুলির মধ্যে বৃহস্পতি ও প্লুটো ক্ষুদ্রতম।

3. গ্রহাণুপুঞ্জ ( Asteroids):
অতি ক্ষুদ্রাকার অসংখ্য জ্যোতিষ্ক মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহ দুটির মধ্যে অবস্থান করে,এদের গ্রহাণু বলে। হাজার-হাজার গ্রহাণুগুলি একসাথে ঝাঁক বেঁধে থাকে বলে এদের গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।

4. উপগ্রহ (Satellite):
যে জ্যোতিষ্ক কোনো গ্রহের চারদিকে নির্দিষ্ট পথে ও নির্দিষ্ট সময়ে ঘোরে তাকে উপগ্রহ বলে।এরাও নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত ও উত্তপ্ত হয়।পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ হল চাঁদ। বৃহস্পতির উপগ্রহ গ্যানিমিড হলো সৌরজগতের সবচেয়ে ভারী ও বৃহত্তম উপগ্রহ ।

5. ধূমকেতু (Comet):
বহুবছর বাদে বাদে একপ্রকার জ্যোতিষ্ক আকাশে দেখা যায় যেগুলি কিছুদিন পরেই আবার মিলিয়ে যায়। এদের একটি উজ্জ্বল মাথা এবং বাষ্পময় সুদীর্ঘ পূচ্ছ বা লেজ থাকে । লেজটি লক্ষ-লক্ষ কিলোমিটার লম্বা ও ঝাঁটার মতো দেখতে হয়।এরূপ জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলে। উদাহরণ- হ্যালির ধূমকেতু । প্রতি ৭৬ বছর অন্তর একে আকাশে দেখা যায়। আবিষ্কারক স্যার এডমণ্ড হ্যালির নামানুসারে এর নাম হল হ্যালির ধূমকেতু ।

6. উল্কা (Meteors):
রাতে কখনও-কখনও একটি আলোক বিন্দুকে তীব্র গতিতে আকাশ থেকে খসে পড়তে দেখা যায়। এদের উল্কা বলে।ধূমকেতু বা গ্রহাণু ভেঙে গিয়ে যখন বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে তখন বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের কারনে জ্বলে ওঠে ।উল্কার আঘাতে ভূপৃষ্ঠে গভীর ও বিশাল গর্তের সৃষ্টি হতে পারে ।

7. নীহারিকা (Nebula):
মহাকাশে একধরণের জ্যোতিষ্ক আছে যাদের বহুদূর থেকে হাল্কা মেঘের ন্যায় দেখতে।এগুলি উত্তপ্ত ও হাল্কা গ্যাসীয় পদার্থ দ্বারা তৈরি।এদের বলে নীহারিকা । বিজ্ঞানীদের অনুমান নীহারিকা থেকে নক্ষত্রের সৃষ্টি হয়।

8. নক্ষত্রলোক ও ছায়াপথ (Galaxy & Milky way ) :
বিশালাকার কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে চারদিকে কোটি কোটি নক্ষত্র যখন প্রদক্ষিণ করে তখন তাকে নক্ষত্রলোক বলে। অসংখ্য নক্ষত্র পাশাপাশি একত্রে অবস্থান করলে যে উজ্জ্বল পথ বা বলয়ের সৃষ্টি হয় তাকে বলে ছায়াপথ।এর অপর নাম আকাশগঙ্গা আকাশ কোথাও কোথাও কয়েকটি নক্ষত্র দলগত ভাবে অবস্থান করে । পাশাপাশি আবস্থিত কয়েকটি নক্ষত্রকে একটি কাল্পনিক রেখা দ্বারা যোগ করলে সেগুলি বিভিন্ন মূর্তির আকার ধারণ করে, এদের নক্ষত্র মন্ডল বলে । বিজ্ঞানীরা এই নক্ষত্র মন্ডল গুলির বিভিন্ন নাম করন করেছেন। উল্লেখযোগ্য হল কালপুরুষ,সপ্তর্ষিমন্­ডল,কৃত্তিকা,রোহিণী প্রভৃতি ।

———————————–

•Edited & Writed by Deep Sinha (Admin MGI GROUP).
•Designed by Sourav Sarkar (Director, MGI GROUP).
©Mission Geography India
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s