“Geography and We” – January, 2017


-:Geography and We:-

*রামধনু (Rainbow) :- বৃষ্টির পর রোদ উঠলে অনেকসময় সূর্যের বিপরীত দিকে তাকালে অর্ধবৃত্তাকার (আসলে বৃত্তাকার) রূপে যে সাত রং এর বর্নালী দেখা যায় তাকে বলে রামধনু। বাতাসের জলকণায় আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং বিচ্ছুরণ এর জন্য রামধনু সৃষ্টি হয়। রামধনুতে সাতটি রঙের সজ্জা বা প্যাটার্ন দেখা যায়। এই প্যাটার্ন এর উপর নির্ভর করে রামধনু দুই প্রকার। যথা-( ১) প্রাইমারি রামধনু- যখন রামধনুতে বেগুনি রং নিচের দিকে এবং লাল রং উপরের দিকে থাকে, তাকে বলে প্রাইমারী রামধনু। এই প্রকার রামধনু বেশি দেখা যায়। (২) সেকেন্ডারি রামধনু- যে রামধনুতে বেগুনি রং উপরের দিকে এবং লাল রং নীচের দিকে থাকে তাকে বলে সেকেন্ডারি রামধনু। এই প্রকার রামধনু কদাচিৎ দেখা যায়। আর যখন এই দুইপ্রকার রামধনু আকাশে একসাথে দেখা যায় তাকে বলে জোড়া রামধনু।

★ চিত্রে এক উপত্যকায় জোড়া রামধনু দেখা যাচ্ছে। চিত্র টি ভালো করে খেয়াল করলে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি রামধনু চিনতে পারবেন।
*********************


*মেরুপ্রভা (Auroras):- ২৩ শে সেপ্টেম্বর থেকে ২১ শে মার্চ উত্তর মেরুতে এবং ২১ শে মার্চ থেকে ২৩ শে সেপ্টেম্বর দক্ষিন মেরুতে যখন একটানা রাত্রি থাকে তখন মাঝে মাঝে আকাশে এক বর্নময় আলোকচ্ছটা লক্ষ্য করা যায়। একে উত্তর মেরুতে সুমেরু প্রভা বা অরোরা বেরিয়ালিস এবং দক্ষিন মেরুতে কুমেরু প্রভা বা অরোরা অস্ট্রালিস বলে।
আমরা জানি, বায়ুমন্ডলের ঊর্দ্ধ স্তরে আয়নোস্ফিয়ার এ যে সকল গ্যাসীয় উপাদান উপস্থিত আছে তার সাথে সূর্য থেকে আগত রশ্মি ও বস্তু কনার সংঘর্ষ হয়। এই অবস্থায় গ্যাসীয় অনু ভেঙে পরমানুতে পরিণত হয় এবং ইলেকট্রন ও প্রোটন এর সাথে সংঘাতে ঐ পরমানু থেকে যে আলোক ছটা বেরিয়ে আসে তাকেই মেরুজ্যোতি বলে।
*********************


*Zhangjiajie National Forest Park, China :- চীনের উত্তর হুনান প্রদেশে অবস্থিত এই ন্যাশনাল পার্ক টি চীনের প্রথম ন্যাশনাল পার্ক। এই পার্কের দারুন ভৌগোলিক বিশেষত্ব রয়েছে। এখানে পিলারের বা স্তম্ভ আকৃতির ভুমিরূপ দেখা যায়। এই পার্বত্য অঞ্চল প্যালিওজোয়িক যুগের বেলেপাথর দ্বারা নির্মিত। এই ধরনের বিশেষ স্তম্ভাকৃতি চূড়া গুলির সৃষ্টি সম্পর্কে ভূবিজ্ঞানী গন যান্ত্রিক আবহবিকার কে দায়ী করেছেন। এখানের বেলেপাথর এর মধ্যে উল্লম্ব জয়েন্ট লক্ষ্য করা যায়। এখানে বরফের কেলাসন প্রক্রিয়া, জল এবং উদ্ভিদ শিকড়ের দ্বারা যান্ত্রিক আবহবিকার এর দ্বারা বহু বছর ধরে এমন ভুমিরূপ গড়ে উঠেছে।
পুলিকট লেগুন ভারতের অন্যতম বার্ড স্যানচুয়ারী। এখানে প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। তবে গ্রেটার ফ্লেমিংগো পাখির জন্য এই বার্ড স্যানচুয়ারী বিখ্যাত। এই পুলিকট লেগুন এর ১০৮বর্গকিমি অঞ্চল ন্যাশনাল পার্ক এর অন্তর্ভুক্ত।
*********************


*পুলিকট লেগুন:- ৪৮১ বর্গকিমি আয়তন বিশিষ্ট ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম লবনাক্ত এই লেগুন টি অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর করমন্ডল উপকূলে অবস্থিত। পুলিকট লেগুন এর ৯৭% অন্ধ্রপ্রদেশ এর মধ্যে এবং বাকি টা তামিলনাড়ু র মধ্যে রয়েছে। এখানে শ্রীহরিকোটা দ্বীপ টি ব্যারিয়ার আইল্যান্ড হিসাবে অবস্থান করে পুলিকটকে বঙ্গোপসাগরেরর সাথে বিচ্ছিন্ন করেছে। এই শ্রীহরিকোটা অন্ধ্রপ্রদেশ এর নেল্লোর জেলার মধ্যে অবস্থিত। এখানেই ভারতের সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষনা কেন্দ্র অবস্থিত।

পুলিকট লেগুন ভারতের অন্যতম বার্ড স্যানচুয়ারী। এখানে প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। তবে গ্রেটার ফ্লেমিংগো পাখির জন্য এই বার্ড স্যানচুয়ারী বিখ্যাত। এই পুলিকট লেগুন এর ১০৮বর্গকিমি অঞ্চল ন্যাশনাল পার্ক এর অন্তর্ভুক্ত।
*********************


*মান্ডি জেলা- ভারতের স্বচ্ছতম জেলা:- ভারতের যে দুটি “স্বচ্ছতম জেলা” ঘোষিত হয়েছে তার মধ্যে আরেক টি হল হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলা।( আগের পোষ্ট এ স্বচ্ছতম জেলা হিসাবে সিন্ধুদূর্গ আলোচিত হয়েছে।)
হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার সদর শহর এর নাম ও মান্ডি যা ঐতিহাসিক এবং আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই মান্ডি সমুদ্রতল থেকে ৭৬০ মিটার উচ্চে অবস্থিত। এর পাশ দিয়ে বিয়াস নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই জেলার আয়তন ৩৯৫১ বর্গকিমি। এখানকার শিক্ষার হার ৮২.৮১% এবং লিঙ্গানুপাত-১০১২। এই জেলার জনঘনত্ব ২৫৩ জন / বর্গ কিমি। এখানে ৮১ টি প্রাচীন মন্দির আছে, তাই একে “পাহাড়ের বারানসী” বলা হয়। অর্থনৈতিক দিক দিয়েও এই জেলা হিমাচল প্রদেশের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
*********************


*ভারতের স্বচ্ছতম জেলা:-আমাদের দেশের যে দুটি জেলা “ভারতের স্বচ্ছতম জেলা ” হিসাবে ঘোষিত হয়েছে, তার একটা হল মহারাস্ট্রের কঙ্কণ উপকূলে অবস্থিত সিন্ধুদূর্গ জেলা। এই জেলার মালভন উপকূল থেকে একটু দূরে আরবসাগরেরর এক দ্বীপের মধ্যে ছত্রপতি শিবাজী দ্বারা নির্মিত দূর্গের নাম হল সিন্ধুদূর্গ। এই দূর্গের নাম অনুসারেই এই জেলার নামকরন হয়েছে। মহারাষ্ট্রের সর্বাধিক দূর্গ এই জেলায় রয়েছে, সংখ্যাটা হল ৩৭ টি। এই জেলার আয়তন ৫২০৭ বর্গ কিমি। এই জেলার শিক্ষার হার ৮৫.৫৬% এবং লিঙ্গানুপাত-১০৩৬।
★চিত্রে আরবসাগরের বুকে বিখ্যাত ঐতিহাসিক সেই সিন্ধুদূর্গ দেখা যাচ্ছে।
*********************


*Keoladeo Ghana National Park:- রাজস্থানের ভরতপুরে অবস্থিত “পাখির স্বর্গরাজ্য ” নামে পরিচিত এই ন্যাশনাল পার্ক টির পূর্বে নাম ছিল ভরতপুর পক্ষীরালয়। ২৯ বর্গ কিমি বিস্তৃত এই ন্যাশনাল পার্ক মূলত জলাভূমি যুক্ত অঞ্চল। ১৯৮১ সালে এটি রামসার জলাভূমি কনজারভেশন এর মর্যাদা লাভ করে এবং ১৯৮২ সালে এটিকে ন্যাশনাল পার্ক ঘোষনা করা হয়। পরবর্তী কালে, ১৯৮৫ সালে এটি “ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ” ঘোষিত হয়। এটি পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত পক্ষী ক্ষেত্র। এখানে প্রায় ৩৬৬ টি প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। পাখি ছাড়াও এখানে চিতল হরিন, সম্বর, নীলগাই, হায়না, শেয়াল প্রভৃতি প্রানী বিচরন করে।
★এই ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে কেওলাদেও (শিব) মন্দির অবস্থিত, আর এই অঞ্চলে ঘন ঝোপঝাড় স্থানীয় ভাবে ” ঘনা বা ঘন ” নামে পরিচিত। তাই এর নাম হয়েছে কেওলাদেও ঘনা ন্যাশনাল পার্ক।
>
এই ন্যাশনাল পার্কে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ পর্যটক আসেন। আগ্রা, মথুরা থেকে কাছে হওয়ায় অনেকেই এটা ঘুরে আসেন।
*********************


*Om Mountain:- ভারত ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বত টি সমুদ্রতল থেকে ৬১৯১ মিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে। প্রাকৃতিক ক্ষয়কার্যের ফলে পর্বত শৃঙ্গ এমন ভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং তুষার সঞ্চয়ের ফলে সংস্কৃত ” ঔঁ ” অক্ষরের ন্যায় দেখতে লাগে। তাই এই পর্বতের নাম হয়েছে ঔঁ পর্বত। এই পর্বত নেপালের দারচুলা জেলা এবং ভারতের উত্তরাখন্ডের পিথোরাগড় জেলার মধ্যে অবস্থান করছে। নেপাল -ভারত সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বত নিয়ে নেপাল ও ভারতের মধ্যে বিরোধ আছে। তবে বর্তমানে নেপাল ও ভারতের মধ্যে রফাসূত্রের মাধ্যমে ঠিক হয়েছে যে, এই পর্বতের সামনের দিক অর্থাৎ ” ঔঁ ” আকৃতির দিকটা ভারতের মধ্যে এবং পেছনের দিকটা নেপালের মধ্যে পড়েছে।
*********************

“Geography and We” – April, 2017


-:Geography and We:-


*Dahab Blue Hole:- লোহিত সাগরের উপকূলে ইজিপ্ট এর দাহাব এর সিনাই অঞ্চলে এই ব্লু হোল টি অবস্থিত। এর গভীরতা ৯৪ মিটার।
ব্লু হোল হলো এক জল পুর্ন সিঙ্কহোল যা গঠিত হয় কার্বনেট সমৃদ্ধ শিলায় বিশেষত চুনাপাথরের অঞ্চলে । আমরা জানি রাসায়নিক বিক্রিয়া তে কার্বনেট সমৃদ্ধ শিলা দ্রবীভূত হয়ে এই রকম সিঙ্কহোল সৃষ্টি হয়। গভীর অংশে উপর থেকে দেখলে ঘন নীল লাগে আলোর প্রতিফলন ধর্মের জন্য।

ভূ বিজ্ঞানী দের মতে, হিমযুগের সময়ে যখন সমুদ্র তল বর্তমানের চেয়ে ১০০ -১২০ মিটার নীচে অবস্থান করত তখন এই সিঙ্কহোল গুলি সৃষ্ট হয়। পরে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে এই সিঙ্কহোল গুলি জলের নীচে চলে যায়। সামুদ্রিক পরিবেশে জোয়ার ভাঁটার প্রভাব যুক্ত মিষ্টি এবং লবনাক্ত জলের মিশ্রণ ঘটে এমন কার্বনেট শিলা সমৃদ্ধ সামুদ্রিক অঞ্চলে অথবা দ্বীপ অঞ্চলে এই ধরনে ব্লু হোল দেখা যায়। অনেক ব্লু হোল বিশেষজ্ঞ আবার সামুদ্রিক পরিবেশে ব্লু হোল সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন অনুবীক্ষনিক জীব নিঃসৃত জৈব অ্যাসিড এর প্রভাব কে দায়ী করেছেন।
*********************


*Yuki-no-otani বা Snow Wall:- জাপানের হুনসুদ্বীপে শীতকালে প্রচুর বরফ পড়ে। প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত বরফ পড়ে। চিত্রে হুনসু দ্বীপে জাপানীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ” টিডা ” পার্বত্য অঞ্চলের টাটেয়ামা-কুরোবেআলপাইন সড়ক দেখা যাচ্ছে, যা টাটেয়ামা এবং ওমাছি কে যুক্ত করেছে। প্রায় ৩৫ কিমি দীর্ঘ এই রাস্তা টি ১৯৭১ সালে চালু হয়েছে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার বরফ কেটে রাস্তা পরিস্কার করে জনসাধারনের জন্য চালু করা হয়। এই রাস্তা টি তাই “স্নো ক্যানিয়ন” নামেও সুপরিচিত।
*********************


*কোকোয়া চাষ এবং শিশুশ্রমিক:- আমরা জানি, কোকোয়া (Cocoa) গাছের ফলের বীজ থেকে চকোলেট প্রস্তুত হয়। ১ কেজি চকোলেট বানাতে ৩০০- ৬০০ টি বীজ লাগে। কোকোয়া উৎপাদিত হয় আইভরি কোস্ট, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, ভেনেজুয়েলা প্রভৃতি দেশে। কোকোয়া উৎপাদনে আইভরি কোস্ট প্রথম। ২০১৩ সালে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪৬০০০০০ টন কোকোয়া উৎপাদিত হয়। যার অর্ধেকের বেশি উৎপাদিত হয় আইভরি কোস্ট ও ঘানা, এই দুই পশ্চিম আফ্রিকার দেশে।
তবে, চকোলেট খেতে যতই মিষ্টি লাগুক না কেন , এর উৎপাদনে কিন্তু বহু শিশু শ্রমিকের অশ্রু মিশে আছে। ২০১৫ সালের হিসাবে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন শিশুদের কে ব্যবহার করা হয়েছে কোকোয়া চাষের কাজে। আইভরি কোস্ট এ প্রায় ১৯০০০ শিশু শ্রমিক কে নিযুক্ত করা হয়েছে। শিশু দের কে দাস হিসাবে, কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বেগার শ্রমিক হিসাবে খাটানো হয় এই চাষে। বহু শিশুই বিপন্ন। শিক্ষার অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। তাদের শৈশবেই কোকোয়া চাষে ব্যবহৃত বিভিন্ন কীটনাশকের প্রভাবে নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হলেও শিশু শ্রমিক কিন্তু কমছে না। সমীক্ষায় দেখা গেছে, “নেসলে” র মতো বড় বড় চকোলেট কোম্পানি র কোকোয়া ফার্ম এও বহু শিশু কে শ্রমিক হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
★★ চিত্রে আইভরি কোস্ট এ কোকোয়া ফল সংগ্রহ রত এক শিশুশ্রমিক কে দেখা যাচ্ছে।
*********************


*তিস্তা নদী জলবন্টন সমস্যা:- তিস্তা নদীর জলবন্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সমস্যা চলছে। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে এই তিস্তা নিয়ে কি সিন্ধান্ত হয় সেটা আগামীতে বোঝা যাবে।তবে, তার আগে এই সমস্যা টা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।
তিস্তা নদী সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিস্তামুখের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। তিস্তা নদীর সমগ্র অববাহিকা প্রায় ১২০০০ বর্গ কিমি, যার ৮৩% ভারতে এবং বাকি অংশ বাংলাদেশে। এই নদী অববাহিকাতে শুষ্ক সময়ে অর্থাৎ নভেম্বর -এপ্রিল মাসে জলের অভাব দেখা যায়। তিস্তা নদীতে গজলডোবা তে একটি জলাধার আছে, যা সীমান্ত থেকে ৯০ কিমি দূরে। আর বাংলাদেশ এই নদীতে ডাওনি বা ডালিয়া জলাধার নির্মান করেছে সীমান্ত থেকে ১৫ কিমি দূরে। ভারত ও বাংলাদেশ এর এই জলাধার গুলি নির্মান হয়েছে মূলত জলসেচের জন্য। ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ এই নদীর ৫০% জলের দাবি জানিয়ে আসছে। এরপর ১৯৮৩ সালে একটি চুক্তির ফলে স্থির হয়, বাংলাদেশ পাবে ৩৬%, ভারত পাবে ৩৯% এবং বাকী ২৫% অবন্টিত থাকবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতে গজলডোবা র থেকে ২৫% এর বেশি জল দেওয়া সম্ভব নয়। কারন ২৫% এর বেশি জল দিলে পশ্চিমবঙ্গে এর কুপ্রভাব পরবে। পানীয় জল ও এই নদী যোগান দিয়ে থাকে। আর যদি ৫০% জল দেওয়া হয় তাহলে প্রায় ৯.২২ লক্ষ বর্গকিমি কৃষি জমিতে এর প্রভাব পরবে। ফলে তিস্তা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এটা অস্বীকার করা যায় না যে, বাংলাদেশেও জলের সমস্যা রয়েছে। কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সেই জন্য তিস্তা নিয়ে এত আগ্রহ বাংলাদেশের।
*********************


*Green Lake:- এই হ্রদটি অস্ট্রিয়ার স্টিরিয়া তে অবস্থিত। এই হ্রদের চারপাশে চুনাপাথর সমৃদ্ধ Hochschwab পর্বত রয়েছে। শীতকালে এই হ্রদের জলের গভীরতা হয় ১ থেকে ২ মিটার। তখন এই হ্রদটির চারপাশের অংশ পার্ক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বসন্তের শুরুতে চারপাশের পর্বতের বরফ গলতে শুরু করে এবং সব বরফ গলা জল এই হ্রদে পতিত হয়। গ্রীষ্মে এই হ্রদ এর জলের গভীরতা ১২ মিটার হয়ে যায়। ফলে হ্রদের চারপাশের পার্কটি জলের নীচে চলে যায়। প্রতিবছর এইরকম ঘটে। এই হ্রদ এর জল এতটাই স্বচ্ছ যে জলের নীচে সব স্পষ্ট দেখা যায়। চিত্র দেখে সেটা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।
*********************


*উৎখাত ভুমিরূপ (Badland Topography) :- কোনো বিস্তৃত শুষ্ক বৃক্ষহীন বা প্রায় বৃক্ষহীন অঞ্চলে জলের দ্বারা ব্যাপকভাবে সংকীর্ণ নালিকা ও রাভাইন সৃষ্টি হয়ে যে ভূমিরূপের সৃষ্টি করে তাকে উৎখাত ভুমিরূপ বলে। এ ক্ষেত্রে সংকীর্ণ নালিকা বা রাভাইন এর খাত সমুহ বেশ গভীর হয়ে থাকে। আর পরস্পর দুটি খাতের মধ্যবর্তী স্থান ছুড়ির ফলার মতো সংকীর্ণ ও ধারালো হয়। এ সব অঞ্চল একেবারেই কৃষির অনুপযুক্ত।
★★ চিত্রে আমেরিকা যুক্তরাস্ট্রের শুষ্ক দক্ষিন ডাকোটা প্রদেশের ব্যাডল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক দেখা যাচ্ছে।
*********************

“Geography and We” – March, 2017


-:Geography and We:-


*Land of Midnight Sun:- উত্তর মেরুতে একটানা ৬ মাস দিন ( ২১ মার্চ থেকে ২৩ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) এর সময় নরওয়ের উত্তর সীমান্তের হ্যামারফেস্ট বন্দর থেকে গভীর রাত্রেও সূর্য দেখা যায়। এই জন্য নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দর এবং তার আশেপাশের অঞ্চল সমুহ কে “নিশীথ সূর্যের দেশ” বলে।। চিত্রে, রাতের আকাশে সূর্য এবং মেরুপ্রভাও দেখা যাচ্ছে।
*********************


*উড়ুক্কু মাছ (Flying Fish):- ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে এই ধরনের উড়ুক্কু মাছ দেখা যায়। এই ধরনের মাছ সমুদ্র উপরিতল বা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ মিটার উঁচু পর্যন্ত উঠতে পারে এবং ৫ সেকেন্ড থেকে প্রায় ৪০ সেকেন্ড অবধি বাতাসে নিজেকে ভাসিয়ে প্রায় ৪০০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। এরা তাদের প্রসারিত পাখনা এবং লেজ এর সাহায্যে উড়তে পারে। তাই এদের কে উড়ুক্কু মাছ বলা হয়।
*********************


*Mumbai High:- মুম্বাই থেকে ১৭৬ কিমি দূরে খাম্বাত উপসাগরে অবস্থিত এই তৈলক্ষেত্রটি ভারতের বৃহত্তম তৈলক্ষেত্র। ১৯৬৫ সালে ভারতীয় এবং রাশিয়ান যৌথ তৈল অনুসন্ধানকারীদের সহায়তায় সমুদ্রগর্ভে এই খনি টি আবিষ্কৃত হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে O.N.G.C এটিকে চালু করে। মুম্বাই হাই এর এই অঞ্চল টি মিয়োসিন যুগের চুনাপাথর এর এক ভান্ডার। মুম্বাই হাই টি উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিন -দক্ষিন পশ্চিম দিকে ৬৫ কিমি দীর্ঘ এবং ২৩ কিমি বিস্তৃত সমুদ্রে নিমজ্জিত দুটি উর্ধ্বভংগ এবং একটি চ্যুতি যুক্ত বাহু দ্বারা গঠিত। মুম্বাই হাই এর দুটি ব্লক আছে। যথা- মুম্বাই হাই উত্তর এবং মুম্বাই হাই দক্ষিন।
এখানে ১২৫ টি তৈল কূপ খনন করা হয়েছে। প্রধান খনি গুলি হল হীরা, পান্না, রত্না, নীলম ইত্যাদি। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৩,৪৭১৯৭ ব্যারেল খনিজ তেল উত্তোলিত হয়। মনে করা হয় এখানে ৩৩০ মিলিয়ন টন তেল এবং ৩৭০০০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সঞ্চিত আছে।
*********************


*El Tatio Geyser Field:- প্রায় ৩০ বর্গকিমি বিস্তৃত এই গিজার অঞ্চলটি সমুদ্রতল থেকে ৪৩২০ মিটার উচ্চে উত্তর চিলির আন্দিজ পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত। এটি দক্ষিন গোলার্ধের বৃহত্তম এবং সারা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম গিজার অঞ্চল। এখানে ৮৫ টি ফিউমারোল(যে সব আগ্নেয়গিরি দিয়ে প্রচুর জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য গ্যাস ঘন ধোঁয়ার আকারে বেরিয়ে আসে তাকে ফিউমারোল বলে।) এবং সালফাটারা(যে সব আগ্নেয়গিরি দিয়ে শুধু মাত্র সালফার বা গন্ধক মিশ্রিত গ্যাস নির্গত হয় তাকে সালফাটারা বলে) , ৪০ টি সক্রিয় গিজার( উষ্ণ প্রস্রবনের জল যখন কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘন্টা অন্তর পরপর স্তম্ভের আকারে বাইরে বেরিয়ে আসে তখন তাকে গিজার বলে।), ৬২ টি উষ্ণ প্রস্রবন এবং ৫ টি কর্দম আগ্নেয় গিরি রয়েছে।এখানে প্রতিবছর কয়েক লাখ পর্যটক আসেন। তাই চিলি সরকার এর প্রস্তাবিত জিওথার্মাল শক্তি প্রজেক্টটি আপাতত বন্ধ রয়েছে।
*********************

“Geography and We” – February, 2017


-:Geography and We:-


*পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম জলপ্রপাত:- দক্ষিন আফ্রিকার রয়্যাল ন্যাটাল ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত এই টিউগেলা জলপ্রপা তটিই হল পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম জলপ্রপাত। এর উচ্চতা হল ৯৪৮ মিটার। তবে ২০১৬ সালে এক চেক বিজ্ঞানি নতুন পরিমাপ নিয়ে দেখেছেন এর উচ্চতা নাকি ৯৮৩ মিটার। অর্থাৎ এঞ্জেল (৯৭৯ মিটার) জলপ্রপাতের চেয়েও বেশি। এই তথ্য তিনি মান্যতা পাওয়ার জন্য World Waterfall Database কে পাঠিয়েছেন। যদি এই পরিমাপটি মান্যতা পায় তাহলে এই টিউগেলা জলপ্রপাত টিই হবে পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত।
*********************


*পরিযায়ী প্রজাপতি (Migratory Butterfly) :- প্রাণী জগতে নানান প্রজাতির মধ্যে নানান ধরনের পরিব্রাজন লক্ষ্য করা যায়। তবে সম্ভবত একমাত্র মনার্ক প্রজাপতি (Monarch Butterfly) রাই প্রজাপতি প্রজাতির মধ্যে দীর্ঘ পথ পরিব্রাজন করে।

সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে দক্ষিন কানাডা, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের থেকে শীতের কারনে যাত্রা শুরু করে এই মনার্ক প্রজাতির প্রজাপতি রা মধ্য মেক্সিকো তে পৌছায় নভেম্বর -ডিসেম্বর এ। আবার তারা কানাডা, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পৌছায় মার্চ মাসে। তবে একটা প্রজাপতির তার নিজের জীবনচক্রে পুরো পথ অতিক্রম করতে পারেনা। সমগ্র পথ পরিব্রাজন এবং পূর্ব স্থানে ফিরতে তাদের কয়েক প্রজন্ম লেগে যায়। এরা প্রায় ৭৭৮০ কিমি পথ পরিব্রাজন করে ফেলে। তবে মনার্ক প্রজাপতি র কিছু প্রজাতিরা অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড এ স্বল্প দূরত্বেও পরিব্রাজন করে।
*********************


*Torres Del Paine National Park :- এই ন্যাশনাল পার্কটি দক্ষিন আমেরিকার চিলি তে অবস্থিত। এটি আন্দিজ পর্বতমালার পূর্বতম অংশ। এখানে ক্রেটাসিয়াস যুগের পাললিক শিলা দেখা যায়। এখান কার পর্বত চূড়াগুলি এরকম সূচালো আকৃতির হয়েছে মূলত হিমবাহের ক্ষয়কার্যের দ্বারা।
*********************


*Contour Farming বা সমোন্নতি রেখা বরাবর কৃষি :- সমোন্নতিরেখাবরাবর জমি গুলিকে সমতল করে যদি শস্যক্ষেত্র তৈরি করা হয় তাহলে ভূমির ঢাল কমে যায় ও জলপ্রবাহ ধীর গতি সম্পন্ন হয়। এভাবে মৃত্তিকা ক্ষয় ও প্রতিরোধ করা যায়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় সমোন্নতি রেখা বরাবর কৃষিকাজ।
★★চিত্রে আমেরিকার মিনেসোটার একটি সমোন্নতি রেখা বরাবর কৃষিক্ষেত্র দেখা যাচ্ছে।
*********************


*ভারতের উচ্চতম বিমানবন্দর:- জম্মুও কাশ্মীর এর লেহ তে অবস্থিত Kushok Bakula Rimpochhe Airport টিই ভারতের উচ্চতম বিমানবন্দর। এটি সমুদ্রতল থেকে ৩২৫৬ মিটার উচ্চে অবস্থিত। ২০১৬ সালে “ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স ” এই বিমানবন্দর টিকে “এয়ারপোর্ট অথোরিটি অফ ইন্ডিয়া” র হাতে অর্পণ করেছে।
*********************


*Indian Astronomical Observatory:- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪০০০ মিটার উচ্চে জম্মুও কাশ্মীর রাজ্যের লেহ জেলার হানলে তে অবস্থিত। এটি হল ভারতের সর্বোচ্চ স্থানে এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম স্থানে অবস্থিত আস্ট্রোনমিক্যালঅবজারভেটরি সেন্টার। এখানে হিমালয়ান চন্দ্র টেলিস্কোপ এবং হ্যাগার নামক দুটি টেলিস্কোপ আছে।
*********************


*ভারতের উত্তরতম রেলস্টেশন:- জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বারামুলা রেলস্টেশন টিই হল ভারতের উত্তরতম রেল স্টেশন। কাশ্মীর রেলওয়ের অন্তিম স্টেশন হল এই স্টেশনটিই যা ২০০৯ সালে চালু হয়।
*********************