Origin of the Universe Part 2


**”Origin of the Universe”
Part-2
*মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব (Big Bang Theory and its related):
তিনটি পরিমাপের উপর ভিত্তি করে
মহাবিশ্বের যে বয়স পাওয়া গেছে তা
হল প্রায় ১৩.৭ ± ০.২ বিলিয়ন বছর । এই পরিমাপ তিনটি হচ্ছে: প্রথম ধরণের অতি নব তারা ব্যবহার করে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের পরিমাপ, মহাজাগতিক ক্ষুদ্র তরঙ্গ পটভূমিতে তাপমাত্রার উঠানামার পরিমাপ এবং
ছায়াপথসমূহের কোরিলেশন ফাংশন পরিমাপ। এই তিনটি পরিমাপ
স্বাধীনভাবে করা হয়েছে এবং তিনটি
পরিমাপই তথাকথিত ল্যাম্ব্ডা- সিডিএম নকশাকে গভীরভাবে সমর্থন করেছে। এই নকশা মহাবিশ্বের
অভ্যন্তরস্থ সবকিছুর সুন্দর বর্ণনা
দিতে সক্ষম। সৃষ্টির প্রাথমিককালে মহাবিশ্ব সুষম
এবং সমতাপীয় রূপে একটিই অতি উচ্চ
শক্তি ঘনত্ব এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও
চাপবিশিষ্ট পদার্থ দ্বারা পূর্ণ ছিল। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১০ −৪৩ সেকেন্ড পর পদার্থবিজ্ঞানেরসূত্রগুলো
কার্যকারিতা লাভ করে। তাই এই
সময়কে প্ল্যাংকের সময় বলা হয়। প্ল্যাংকের সময়ের প্রায় ১০ −৩৫ সেকেন্ড পর একটি দশা পরিবর্তন তথা
অবস্থান্তর অবস্থার সূচনা ঘটে যার
ফলে মহাজাগতিক স্ফীতি শুরু হয়। এই সময় মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে শুরু
করে। এ সময় থেকে মূলত মহাবিশ্বের
exponential সম্প্রসারণ শুরু হয়। মহাজাগতিক স্ফীতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার
পর মহাবিশ্বে কোয়ার্ক-গ্লুওনপ্লাসমা নামক পদার্থ ছিল। বর্তমানে সম্ভবত এই ধরণেরই একটি পদার্থ
বিজ্ঞানী প্রস্তুত করেছেন যা কোয়ার্ক
গ্লুওন তরল হিসেবে পরিচিত। এই
তরলের মধ্যস্থিত সকল উপাদান একে
অপরের সাপেক্ষে চলমান — এ তরলের
মধ্যকার সকল মৌলিক কণিকাও এভাবে তরলের মধ্যে চলমান থাকে।
স্থান- কালের কোন একটি বিন্দুতে এই
পদার্থের মধ্যে একটি বিক্রিয়া ঘটে
যার স্বরূপ এখন পর্যন্ত মানুষের পক্ষে
জানা সম্ভব হয়নি। এই বিক্রিয়ার ফলে বেরিয়ন সংখ্যার সংরক্ষণ নীতি লংঘিত হয় এবং কোয়ার্ক ও লেপ্টন কণিকার পরিমাণ এদের প্রতিকণিকার
চেয়ে সামান্য বেড়ে যায়। অর্থাৎ
প্রতি-কোয়ার্ক এবং প্রতি-লেপ্টনের
চেয়ে কোয়ার্ক এবং লেপ্টনের পরিমাণ
সামান্য বৃদ্ধি পায়। এর হার ছিল প্রতি ১০ ১০ ভাগের এক ভাগ। এই প্রক্রিয়াকে বেরিওজেনেসিস বলা হয়। মহাবিশ্বের আয়তন যত বৃদ্ধি পেতে
থাকে ততই এর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
তাপমাত্রা হ্রাসের সময়ই কোন এক
পর্যায়ে দশার অবস্থান্তর অবস্থা
সৃষ্টি হয় যার ফলে শুরু হয় প্রতিসাম্য ভাঙন । এই ভাঙনের কারণে পদার্থবিজ্ঞানেরআলোচ্য মৌলিক
বলসমূহ পৃথক পৃথক স্বাধীন অস্তিত্ব
লাভ করে। এ সময়ই মৌলিক কণিকাসমূহ সৃষ্টি হয় যা এখনও সেই আদি
অবস্থাতেই রয়েছে। কোয়ার্ক এবং গ্লুওন একত্রিত হয়ে বেরিয়ন , যেমন প্রোটন এবং নিউট্রন তৈরি করে। কোয়ার্কের পরিমাণ প্রতি-কোয়ার্কের
চেয়ে সামান্য বেড়ে যাওয়ার কারণে
বেরিয়নের পরিমাণও প্রতি-
বেরিয়নের চেয়ে সামান্য বেড়ে যায়।
একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার নিচে
কোন নতুন প্রোটন/প্রতিপ্রোটন জোড়া তৈরি হতে পারেনা। এরই সাথে
অবশিষ্ট প্রোটন এবং প্রতিপ্রোটনের
মধ্যে শুরু হয় ভরের পূর্ণবিলয়
(annihilation)।ফলে প্রতিপ্রোটন সম্পূর্ণ
নিঃশেষ হয়ে যায়; আর প্রোটন প্রায়
নিঃশেষ হয়ে যায়। তবে কিছু প্রোটন থেকে যায়। নিউট্রন/প্রতিনিউট্রন
জোড়ের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।
ইলেকট্রন ও প্রতিইলেকট্রন বা পজিট্রনের ক্ষেত্র এই ঘটনা আরও নিম্ন তাপমাত্রায় সংঘটিত হয়। এর কিছুকাল পরে প্রোটন ও নিউট্রন
একত্রিত হয়ে মহাবিশ্বের একেবারে
প্রথমদিককার উপাদান ডিউটেরিয়াম ও হিলিয়াম কেন্দ্রীন তৈরি করে। সৃষ্টির এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় মহা বিস্ফোরণ কেন্দ্রীন সংশ্লেষ । মহাবিশ্বের শীতলায়ন প্রক্রিয়া
অব্যাহত থাকে; এক সময় এই প্রক্রিয়ার
ফলস্বরূপ পদার্থের কণাসমূহের মধ্যে
যে আপেক্ষিক গতিবেগ ছিল তার
পরিমাণ হ্রাস পায়। এই কণাসমূহের
মাঝে দুই ধরণের শক্তি ঘনত্ব ছিল: নিশ্চল ভর শক্তি ঘনত্ব এবং বিকিরণ শক্তি ঘনত্ব। আপেক্ষিক বেগ কমে
যাওয়ার ফলে নিশ্চল ভরজনিত শক্তি
ঘনত্ব মহাকর্ষীয়ভাবে বিকিরণজনিত শক্তি ঘনত্বের উপর আধিপত্য বিস্তার
করে। মহা বিস্ফোরণের প্রায় ৩৮০,০০০
বছর পর ইলেকট্রন এবং নিউক্লিয়াস
একত্রিত হয়ে পরমাণু তৈরি করে; এর মধ্যে মূলত হাইড্রোজেন পরমাণু সৃষ্টি হয়। এর সূত্র ধরে পদার্থ থেকে
বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শক্তি বিকিরণ
আকারে সমগ্র মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে;
কারণ একে তেমন কোন বাঁধার সম্মুখীন
হতে হয় না। এই সুপ্রাচীন বিকিরণের
নাম মহাজাগতিক ক্ষুদ্রতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ । সম্প্রসারণের সাথে সাথে
মহাবিশ্বের বণ্টন প্রায় সুষম
হয়েছিলো। কিন্তু এর মাঝেও কিছু
অসামঞ্জস্যতা ছিল। এর কারণে যে
অঞ্চলগুলো অন্যান্য অঞ্চল থেকে
খানিকটা ঘন সেখানের পদার্থগুলো আশেপাশের অন্যান্য বস্তুকে মহাকর্ষ
বলের মাধ্যমে আকর্ষণ করে। এর
মাধ্যমে সৃষ্টি হয় তারা , ছায়াপথ এবং অন্যান্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুর যা
আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি। তবে এই
প্রক্রিয়াটি অত সহজ নয়। এর মূল
বিষয়গুলো নির্ভর করে মহাবিশ্বের ওই
অঞ্চলের পদার্থের ধরন এবং
পরিমাণের উপর। তখন মহাবিশ্বে সম্ভাব্য তিন ধরণের পদার্থ
বিরাজমান ছিল: শীতল অদৃশ্য বস্তু , উত্তপ্ত অদৃশ্য বস্তু এবং বেরিয়নীয় বস্তু। ডব্লিউএমএপি নামক কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া সবচেয়ে
নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে জানা
গেছে যে মহাবিশ্বে শীতল অদৃশ্য
বস্তুর পরিমাণ সবচেয়ে বেশী, প্রায়
শতকরা ৮০ ভাগ। অন্যান্য দুই ধরণের
বস্তুর পরিমাণ মাত্র ২০%। বর্তমান মহাবিশ্বের অধিকাংশ স্থান
জুড়ে একটি রহস্যময় ধরণের শক্তি
বিরাজ করছে। মহাবিশ্বের বিপুল ভর ও
শক্তির জন্য সবচেয়ে বেশী দায়ী এই
শক্তিকে অদৃশ্য শক্তি বা dark energy বলা হয়। বর্তমান মহাবিশ্বের মোট
শক্তি ঘনত্বের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ
জুড়েই রয়েছে এই অদৃশ্য শক্তি।
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকে একটি
বেগ-দূরত্ব সম্পর্কিত লেখের মাধ্যমে
প্রকাশ করলে লেখচিত্রের রেখাটি সরলরৈখিক হয়না। অদৃশ্য শক্তির
কারণেই এমনটি হয়ে থাকে। অর্থাৎ এই
শক্তির কারণে দূরত্ব যখন অনেক বেশি
হয় তখন উক্ত বস্তুর বেগ স্বাভাবিকের
তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। অর্থাৎ দূরত্ব
যত বাড়ে বেগ বৃদ্ধির পরিমাণও ততই বেড়ে যায়। একেবারে সাধারণ বিষয়
ধর্তব্যের মধ্যে আনলে অদৃশ্য শক্তির
এই পরিমাণটি আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণে একটি মহাজাগতিক ধ্রুবকের রূপ নেয়, যদিও এই শক্তির প্রকৃত রূপ
এখনও উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। বলতে
গেলে এই শক্তির অবস্থার সমীকরণ এবং কণা পদার্থবিজ্ঞানেরআদর্শ নকশার সাথে এর সম্পর্ক বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয়ক্ষেত্রে
অনেক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা এখনও
বাকি রয়ে গেছে।
এই সবগুলো পর্যবেক্ষণ বিশ্বতত্ত্বের ল্যাম্ব্ডা-সিডিএম নকশায় সংযুক্ত করা হয়েছে। সবগুলো নকশার নির্যাস
নিয়ে গঠিত এই নকশাটি মূলত
গাণিতিক যাতে ছয়টি মুক্ত স্থিতিমাপ
(parameter) রয়েছে। তবে রহস্যজনক
পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন আমরা
মহাবিশ্বের সৃষ্টির গোড়ার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করি। সেই সময় পদার্থ
কণিকার শক্তি এতো বেশী ছিল যে
বর্তমানকালের পরীক্ষণেও তা নিয়ে
বাস্তবমুখী গবেষণা করা যায় না। মহা বিস্ফোরণের পর ১০ −৩৩ সেকেন্ড পর্যন্ত পরিস্থিতি ব্যাখ্যার জন্য
উপযোগী কোন সূত্র পদার্থবিজ্ঞানে আজ
অবধি আবিষ্কৃত হয়নি। দশা পার্থক্যের
এই সময়ের পূর্বের অবস্থা ব্যাখ্যা
করার জন্য মহা একীভূত তত্ত্বের কোন বিকল্প নেই। বিস্ফোরণের একেবারে
প্রথম বিন্দুতে আইনস্টাইনের মহাকর্ষ
তত্ত্বমতে একটি মহাকর্ষীয় ব্যতিক্রমী বিন্দুর কল্পনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে এই বিন্দুতে ঘনত্ব অসীম ছিল।
এই ভৌত হেঁয়ালি সমাধান করার জন্য একটি কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্ব প্রয়োজন। এই বিষয়টি বোঝার জন্য যুগোপযোগী তত্ত্ব প্রণয়নই
বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞানেরবৃহত্তম
সমাধানহীন সমস্যা।
***Mission Geography***
*Part-3 coming soon…
*Join our whatsapp group- 9735337699.

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s